আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক বিরল সুযোগ

REPORT-3-ENG-29-09-2020-Pak

১২ সেপ্টেম্বর আফগান সরকার এবং তালেবানদের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে আফগানিস্তান একটা গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ পার করছে এবং দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকা সত্বেও দেশের দীর্ঘদিনের সঙ্ঘাত নিরসনের একটা সুযোগ এখানে সৃষ্টি হচ্ছে। 

আলোচনার সূচনা বক্তব্যের আফগানিস্তান হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েমানের (এইচসিএনআর) চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এই মুহূর্তটাকে “একটা নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য শান্তি ও ঐক্য অর্জনের একটা ব্যতিক্রমী সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন, যেটা আফগানিস্তানের সব নাগরিকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, এবং সবাই যেটাকে সমর্থন করবে। 

তৃতীয় কোন পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই দুই পক্ষ যেহেতু এক টেবিলে আলোচনায় বসেছে, তাই এটাকে আফগান-কর্তৃত্বাধীন ও আফগান-নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়। 

আমি আশাবাদী যে, কথা বলা, শোনা, নিজেদের মত প্রকাশ করা, নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক করা, এবং প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান রেখেই দ্বিমত পোষণ করার এই পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মতভিন্নতাকে জয় করতে পারবো। আমরা সবাই জানি যে আমাদের সামনে কি বিশাল দায়িত্ব পড়ে আছে এবং আফগানিস্তানের সকল মানুসের অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য একটা বোঝাপড়ায় আসাটা কতটা জরুরি। 

আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সত্যিকারের সহযোগিতা ও সমর্থনের উপর। একটি জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে আমরা নিজেদের মধ্যে, প্রতিবেশীদের সাথে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাতে সহযোগিতার ভিত্তিতে শান্তিতে বাস করার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

১২ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, “সকল প্রতিবেশী দেশের প্রতি আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি”। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমন্ত্রণে বর্তমানে তিন দিনের সরকারী সফরে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। সোমবার এই সফর শুরু হয়েছে। 

১৩ বছরের মধ্যে ড. আব্দুল্লাহর এটা প্রথম পাকিস্তান সফর। এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত করবেন এবং পাকিস্তানের সিনেট চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। শান্তি, স্থিতিশীলতা আনতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নের তার এই সফর সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটা বাঁক বদলকারী ভূমিকা রাখবে। 

আঞ্চলিক শান্তি কূটনীতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানেই প্রথম সফরে গেলেন ড. আব্দুল্লাহ। আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তা পেতে এবং তাদেরকে আস্থায় নেয়ার জন্য এই সফরে গেলেন তিনি। 

এটা গুরুত্বপূর্ণ যাতে সব পক্ষই এই বিষয়টি উপলব্ধি করে যে, আফগানিস্তানের সামাজিক, অর্থনৈতিক, এবং রাজনৈতিক পট বদলের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমেই সমঝোতার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। সেই সাথে তাদেরকে পুরনো রাজনীতি ও নীতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে, যেগুলো অতীতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার দেশের ভেতরের ও বাইরের পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে, যেটা আফগানিস্তানে টেকসই শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।