আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

পতনের মুখে আফগানিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক রাজধানী

9e6d1cfbee9e79bca250d001e1cae676-610854158fe1a

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হামলা চালাচ্ছে তালেবান। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনীর বিমান হামলা সত্ত্বেও হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহের নিয়ন্ত্রণ নিতে রাজপথে তীব্র লড়াই চালাচ্ছে তালেবান যোদ্ধারা। টিভি স্টেশন দখলের কথা জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। আশ্রয়ের খোঁজে গ্রামের দিকে ছুটছে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ। তালেবান যুদ্ধাপরাধ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তালেবানদের কাছে আফগানিস্তানের প্রথম কোনও প্রাদেশিক রাজধানীর পতন ঘটতে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে ২০ বছরের সামরিক অভিযানের পর মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সম্প্রতি দেশটিতে দ্রুত তালেবানের উত্থান ঘটছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে যুদ্ধের মাঠে মোতায়েন করা হচ্ছে হাজার হাজার আফগান সেনা।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের কেন্দ্রে থেকেছে হেলমান্দ প্রদেশ। এটি তালেবানের দখলে গেলে তা হবে আফগান সরকারের জন্য বড় বিপর্যয়। লস্কর গাহের পতন ঘটলে ২০১৬ সালের পর এটি হবে তালেবানদের প্রথম কোনও প্রাদেশিক রাজধানী দখল। বর্তমানে তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিতে লড়াই চালাচ্ছে তালেবান।

গত রবিবার বিমানবন্দরে হামলার পর আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে তালেবান। কান্দাহার জয় করলেও তা হবে তালেবানের বড় বিজয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে তারা। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই তীব্র লড়াই চলছে। গত শুক্রবার সেখানে জাতিসংঘ কার্যালয় আক্রান্ত হওয়ার কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে সরকারি বাহিনী।

তালেবানের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তালেবান অগ্রযাত্রার জন্য হঠাৎ করে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে দায়ী করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির কারণ হলো এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়েছে।’ আফগান প্রেসিডেন্ট দাবি করেন তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, সেনা প্রত্যাহারের পরিণাম রয়েছে।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সকল সেনা প্রত্যাহার করা হলেও দেশটির সরকারি বাহিনীর বিমান হামলায় সহায়তা দেওয়া চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।