আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২

আফগানিস্তানের সাথে বাণিজ্য রুট চালুর জন্য পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে চীন

R-2-1

আফগান সরকার আর তালেবানদের মধ্যে যখন শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে, সে সময় পাকিস্তানকে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাঁচটি প্রধান ক্রসিং খুলে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে চীন যাতে দ্বিপাক্ষিক ও ট্রানজিট বাণিজ্য বাড়ে এবং আফগানিস্তান ভারতে রফতানি করতে পারে। 

আফগানিস্তান স্থলবেষ্টিত দেশ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য তারা পাকিস্তানের সড়ক ও বন্দরের উপর নির্ভরশীল। দুই দেশের মধ্যে ১৮টি ক্রসিং পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় তোরখাম আর চামান পয়েন্ট। করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে পয়েন্ট দুটো মার্চে বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। 

২০১৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কিছু পয়েন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

পাকিস্তান সম্প্রতি পাঁচটি পয়েন্ট খুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তারা মনে করছেন চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে চিনের চাপেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। 

R-2-2

বিগত দুই মাসে পাকিস্তান শুধু তোরখাম আর চামান ক্রসিংই খোলেনি, সাথে আরও তিনটি ক্রসিং খুলে দিয়েছে। গুলাম খান, আঙ্গুর আডা এবং খারলাছি পয়েন্টগুলোও এখন খোলা হয়েছে। সপ্তাহে ছয় দিন এই পয়েন্টগুলো দিয়ে এখন বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হবে। 

আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদ সম্প্রতি পাকিস্তানকে তোরখাম ও চামান সীমান্ত খুলে দিতে বলেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, চীন-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ত্রিদেশীয় ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের সময় বাকি তিনটি পয়েন্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়। 

ভারতের সাথে উত্তেজনা সত্বেও পাকিস্তান জুলাই মাসে ঘোষণা দিয়েছে যে, পূর্ব ওয়াগাহ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে আফগানিস্তানে ভারতে রফতানি করতে পারবে। 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান-আফগানিস্তান ট্রানজিট ট্রেড এগ্রিমেন্টের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে পাকিস্তান”। ১৯৬৫ সালে দুই দেশের মধ্যে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল। 

R-2-4

দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতা দারু খান আছাকজাই আশাবাদ জানিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। 

আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত খুলে দেয়ায় চীন পাকিস্তানকে সাধুবাদ জানিয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং জুলাই মাসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “চীন সিপিইসিকে আফগানিস্তানে সম্প্রসারণের পক্ষপাতী, যাতে আফগান জনগণ এখান থেকে উপকৃত হতে পারে”।

তবে বেল্ট অ্যাণ্ড রোড আফগানিস্তানে সম্প্রসারণের চীনা পরিকল্পনার কারণে ভারতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বেড়ে গেছে। বেল্ট অ্যান্ড রোডের অধীনে যে কোন প্রকল্পকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধীতা করে, কারণ এটা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উপর দিয়ে গেছে, যেটার উপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে নয়াদিল্লী।