আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানীতে তালেবান-সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই

গত কয়েকদিনে তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী দখল নিতে আক্রমণ জোরদার করেছে তালেবান।

received_174349801318866
হেরাত প্রদেশে জাতিসংঘ মিশনের সামনে একটি সাঁজোয়া যানের ওপর মেশিনগান নিয়ে পাহারারত একজন নিরাপত্তা কর্মী। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হেলমান্দের রাজধানী লস্করগাহ শহরের আরও ভেতরে ঢুকে পড়েছে তালেবান বিদ্রোহীরা। সরকারি বাহিনী প্রাণপণে এ অগ্রযাত্রা রুখে দেওয়া চেষ্টা করছে। লড়াইয়ের কারণে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের সরকারি দপ্তর।

সোমবার (২ আগস্ট) তালেবানের শক্তিশালী সম্মুখ অভিযান চলমান থাকার মধ্যেই বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন আফগান সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। 

নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, লস্করগাহ শহরে জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর, কারাগার ও পুলিশ সদর দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় প্রচণ্ড লড়াই চলছে।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে থাকার সময়েও হেলমান্দ প্রদেশে শক্ত অবস্থান ছিল তালেবান বিদ্রোহীদের। বিদেশি সেনারা থাকাকালে জোট বাহিনীর বিমান শক্তির কারণে এতদিন প্রধান প্রধান শহরের দখলে যায়নি গোষ্ঠীটি। কিন্তু, চলতি বছর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়া মাত্র তারা বিভিন্ন প্রদেশের গ্রামীণ এলাকা ও সীমান্ত দখল শুরু করে। এবার তাদের নজর বড় শহর দখলের দিকে।

গত কয়েকদিনে তিনটি প্রাদেশিক রাজধানী দখল নিতে আক্রমণ জোরদার করেছে তালেবান। 

এতদিন গ্রামীণ এলাকা দখলে নাটকীয় সফলতা দেখালেও এবার শহরের দিকে নজর দিয়েছে গোষ্ঠীটি। নগর এলাকায় তালেবানকে ঠেকাতে ব্যর্থ হলে আফগান সরকারি বাহিনীর সামর্থ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে, আর সফল হলে শক্তি ও মনোবল আরও চাঙ্গা হবে তালেবানের। 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তাই সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।

তবে আফগান বাহিনীর একজন কমান্ডার দাবি করেন, সরকারি সেনারা তালেবানদের শহর থেকে বের করে দিয়েছে।

মাইওয়ান্দ আর্মি কর্পসের সৈয়দ সামি সাদাত নামের এ কমান্ডার রয়টার্সকে বলেন, "সন্ধ্যায় তালেবানদের সঙ্গে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়, এসময় সরকারি বাহিনীর স্থল ও বিমান হামলার মুখে তালেবানরা অনেক যোদ্ধা হারিয়েছে।"

এদিকে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তড়িঘড়ি সেনা প্রত্যাহারকেই সোমবার আবারো দুষেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ভারতঘেঁষা বলে পরিচিত ঘানি আফগান পার্লামেন্টে বলেন, "গত তিন মাস ধরে আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি।" অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগান সরকারের একটি নিরাপত্তা চুক্তি ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। ওই চুক্তির আওতায় সেনা প্রত্যাহারের ছয় মাস আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আফগান সরকারের অনুকূলে আনার অঙ্গীকার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।  

এছাড়া, তালেবান গোষ্ঠী এখনও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং নারীদের অপর হামলা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে ঘানির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে তালেবান।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটার পোস্টে জানান, "যুদ্ধ ঘোষণা, অন্যায় অভিযোগ আর মিথ্যাচার ঘানি সরকারের পতন ঠেকাতে পারবে না। তাঁর সময় ফুরিয়ে এসেছে।"

গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনা শুরু হয়, কিন্তু কয়েক দফা আলোচনার পরও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

যদিও গত মাসে দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে উভয়পক্ষই শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা কাটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।