আমরা লাইভে English বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

আগামী সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান

REPORT-4-ENG-25-08-2020-Afg

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আগামী সপ্তাহে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা ও বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সংলাপ মেকানিজম আফগানিস্তান-পাকিস্তান অ্যাকশান প্ল্যান ফর পিস অ্যাণ্ড সলিডারিটির (এপিএপিপিএস) এই বৈঠকের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় পরে ৩১ আগস্ট এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে এক কর্মকর্তা ডেইলি টাইমসকে জানিয়েছেন। 

এপিএপিপিএসের সবশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০১৯ সালের জুনে, ইসলামাবাদে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্পর্কের উত্তেজনা এবং কোভিড-১৯ এর কারণে সরাসরি বৈঠক দেরি হয়েছে। 

পাঁচটি ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়ে এপিএপিপিএস ফ্রেমওয়ার্ক গঠিত। এই গ্রুপগুলো রাজনৈতিক-কূটনৈতিক, সামরিক বাহিনী পর্যায়ে সমন্বয়, গোয়েন্দা সহযোগিতা, অর্থনীতি এবং শরণার্থী ইস্যু নিয়ে কাজ করে। 

কর্মকর্তারা বলেছেন, এপিএপিপিএসের বৈঠকের পরপরই দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ট্রানজিট বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। 

দুই দেশ একই সাথে আফগানিস্তান-পাকিস্তান ট্রানজিট ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এপিটিটিএ) নিয়েও আলোচনা করবে, যেটা ১৯৬৫ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০১০ সালে সংশোধিত হয়। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগানিস্তান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল রাজ্জাক দাউদকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং সেটাও আগামী মাসের শুরুর দিকে হতে পারে। দ্বিপাক্ষিক ও ট্রানজিক বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলোচনা হবে। 

পাকিস্তান-আফগানিস্তান জয়েন্ট চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইন্ডাস্ট্রির (পিএজেসিসিআই) কাছ থেকেও পরামর্শ চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পিএজেসিসিআইয়ের চেয়ারম্যান জুবাইর মোতিওয়ালা এ কথা জানিয়েছেন। 

আফগানিস্তান এপিটিটিএ-তে কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে এবং আফগান কর্মকর্তারা বলেছেন যে, পাকিস্তান এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করেনি। এই প্রস্তাব আফগান ব্যবসায়ী এবং পাকিস্তানী রফতানিকারকদের আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে মধ্য এশিয়ার সাথে ব্যবসার ক্ষেত্রে সুবিধা দেবে। 

সূত্র জানিয়েছে আফগানিস্তানের দেয়ার সংশোধনী প্রস্তাবগুলো পাকিস্তান বিবেচনা করছে। 

ট্রানজিট ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের গতি বাড়াতে পাকিস্তান সম্প্রতি আফগানিস্তানের সাথে সবগুলো সীমান্ত পয়েন্ট খুলে দিয়েছে। একই সাথে এপিটিটিএ’র অধীনে আমদানি ও রফতানির জন্য আফগান ব্যবসায়ীদেরকে বালুচিস্তানের গোয়াদর বন্দর ব্যবহারের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। 

আফগানিস্তানে নিযুক্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, পাকিস্তান তোরখাম সীমান্ত ক্রসিংয়ে চাপ কমানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। সেখান থেকে ব্যবসাকে কুররাম জেলার খারলাচি, দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গোর আড্ডা,এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানের গোলাম খান পয়েন্টে সরিয়ে নেয়া হবে। 

চামান ক্রসিং পয়েন্টও শুক্রবার আবার খুলে দেয়া হয়।