আমরা লাইভে English রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১

আফগান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান

REPORT-1-ENG-27-08-2020-Pak

পাকিস্তান মঙ্গলবার জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানে দীর্ঘ সঙ্ঘাতের অবসানের জন্য মার্কিন পৃষ্টপোষকতায় চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে তারা ‘আশাবাদী’।

তালেবানদের রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি। বৈঠকের পরে এই আশাবাদ জানায় পাকিস্তান। 

বৈঠকের পরে দেয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান বলেছে যে, বৈঠকে থমকে যাওয়া আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র আর তালেবানদের মধ্যে যে মাইলফলক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় আফগান শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চলছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন-তালেবান শান্তি চুক্তিকে পুরোপুরি বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছেন, যাতে দ্রুততম সময়ে আফগান-অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করা যায়”।

কোরেশি উল্লেখ করেন যে, তালেবান নেতারা চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং আফগান যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান বের করার উপর জোর দিয়েছেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি আমাদের আজকের বৈঠক ইনশাআল্লাহ একটা পথ বের করতে সাহায্য করবে”।

আরও পড়ুনঃ  আফগানিস্তানের সাথে বাণিজ্য রুট চালুর জন্য পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে চীন

বন্দী বিনিময়

আফগান অভ্যন্তরীণ সংলাপ শুরুর বিষয়টি অবশ্য তালেবান আর আফগান সরকারের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের সাথে সংযুক্ত, যদিও আফগান সরকারকে চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। 

চুক্তি অনুসারে তালেবানরা ১,০০০ আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে ৫,০০০ তালেবান বন্দীকে মুক্তি দেবে আফগান সরকার। 

তালেবানরা ধাপে ধাপে ১,০০০ বন্দীর সকলকে মুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে কাবুলের এখনও ৩২০ জন বন্দীকে মুক্তি দেয়া বাকি আছে। 

আফগান কর্মকর্তারা বলছেন বাকি বন্দীদের মুক্তি না দেয়ার পেছনে নিরাপত্তা ইস্যু এবং বিদেশী সরকারগুলোর চাপ রয়েছে। তারা বলেছেন যে, বাকি আটকদের বিরুদ্ধে আফগান ও নাগরিকদের উপর বর্বর হামলার অভিযোগ রয়েছে। 

সরকার একই সাথে এটাও জানিয়েছে যে, সারা দেশে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও আরেকটি কারণ, যে জন্য তারা বাকি বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছে না। 

তালেবানদের বাকি বন্দীদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, অস্ত্রবিরতির বিষয়টি তারা সংলাপের সময় আলোচনা করবে। বাকি বন্দীদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত বৈঠকে বসার বিষয়টিও নাকচ করে দিয়েছে তারা। 

পাকিস্তানের আইএসআই

ওয়াশিংটন একই সাথে সব আফগান পক্ষকে চাপ দিচ্ছে যাতে তারা সব বাধাগুলো দূর করে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করে। 

মঙ্গলবারের ইসলামাবাদের আলোচনায় পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) প্রধান লে জেনারেল ফাইজ হামিদও উপস্থিত ছিলেন। 

সমালোচকরা বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থাটির সাথে তালেবানসহ আফগানিস্তানের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আশির দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলদারিত্বের সময় থেকেই এই যোগাযোগ চলে আসছে। 

গোয়েন্দা সংস্থা তাদের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তালেবানদেরকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছে এবং ফেব্রুয়ারির চুক্তিতে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হয়।