আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, মে ০৬, ২০২১

তালেবান ও আফগান বাহিনীর তুমুল লড়াই, পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ

REPORT-3-ENG-15-10-2020-Afg

আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে তালেবান আর সরকারী বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও দেশটিতে সহিংসতার মাত্রা বেড়েই চলেছে। 

গেলো সপ্তাহে হেলমান্দ প্রদেশের লস্কর গাহ শহরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আফগান সরকারী বাহিনীর সমর্থনে তালেবানদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাও চালিয়েছে। 

আফগান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার অন্তত চারটি জেলায় সঙ্ঘর্ষ হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় বারবার তালেবান হামলাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। 

তীব্র এই সঙ্ঘাতের কারণে স্থানীয় অধিবাসীরা ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। মোটরসাইকেল, ট্যাক্সি ও বাসে করে দলে দলে তারা এলাকা ছেড়ে যান। 

হেলমন্দের শরণার্থী ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর সাইয়েদ মোহাম্মদ রামিন এএফপি বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, ৫১০০ পরিবার বা প্রায় ৩০,০০০ মানুষ এই লড়াইয়ের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে গেছে”।

“কিছু পরিবার এখনও উন্মুক্ত জায়গায় লস্কর গাহের রাস্তায় অবস্থান করছে, তাদেরকে দেয়ার মতো তাবুও আমাদের কাছে নেই”।

পরিস্থিতি ‘খুবই অন্ধকার’

মেডিকেল দাতব্য প্রতিষ্ঠান ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স বুধবার টুইটারে জানিয়েছে যে, লস্কর গাহের প্রধান ট্রমা হাসপাতাল তাদের পূর্ণ সক্ষমতা দিয়ে “আহতদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে”। ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি রোগিকে ওখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এখন। 

এতে আরও বলা হয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় সেখানে অতিরিক্ত ২০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রোগির সংখ্যা ৪০ এ দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। 

এদিকে, কোঅর্ডিনেশান অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক জাতিসংঘের অফিস বুধবার আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে যে, হেলমন্দের দুটো স্বাস্থ্য ক্লিনিক – নাওয়া কম্প্রিহেনসিভ হেলথ ক্লিনিক আর বোলান বেসিক হেলথ ক্লিনিক সঙ্ঘাতের কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হুমকির প্রেক্ষিতে নাদ-ই-আলি/মারজা, নাহর-ই-সারাজ, লস্করগাহ এবং নাওয়া এলাকার আরও সাতটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ১৪ অক্টোবর বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ করার আগেও সীমিত পরিসরে সেবা দিচ্ছিল কেন্দ্রগুলো, যেখানে শুধুমাত্র ট্রমা-কেন্দ্রিক রোগীদের সেবা দেয়া হচ্ছিল”।

মার্কিন বিমান হামলা

কাতারের রাজধানী দোহাতে তালেবান আর আফগান সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে আফগান-অভ্যন্তরীণ শান্তি আলোচনা শুরুর এক মাসেরও বেশি সময় পরে হেলমান্দ প্রদেশে এই সঙ্ঘাত হলো। 

ফেব্রুয়ারিতে তালেবান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত  চুক্তির ফলে এই আলোচনা সম্ভব হয়েছে। ওই চুক্তিতে তালেবানরা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সেই অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

সোমবার মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে তারা আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে হেলমান্দে তালেবানদের উপর বেশ কিছু বিমান হামলা চালিয়েছে। 

আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র কর্নেল সোনি লেগেট সোমবার বলেন যে, হেলমান্দে তালেবানরা সম্প্রতি যে হামলা চালিয়েছে, সেটা ফেব্রুয়ারির চুক্তির শর্তের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এই হামলার মাধ্যমে চলমান শান্তি আলোচনাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এই বিমান হামলার মাধ্যমে ফেব্রুয়ারির চুক্তিকে লঙ্ঘন করা হয়নি।