আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

ভারতের মোহ কাটিয়ে চীনমুখি বাংলাদেশ

ISSUE-2-ENG-19-09-2020-BD (1)

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশের নগরী সিলেট ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই নগরীতে এপ্রিলে নতুন একটি বিমানবন্দর টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করার সময় চীনা প্রতিষ্ঠান বেইজিং আরবান কনস্ট্রাকশন গ্রুপের কাছে হেরে যায় ভারতীয় দরপত্র প্রদানকারী। জুনে বাংলাদেশী রফতানি পণ্যের ওপর চীন ৯৭ ভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে। আর চলতি মাসে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সাথে এক দশক ধরে আলোচনায় হতাশ হয়ে চীনকে এক বিলিয়ন ডলারের একটি পানি-ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ করে।

বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য আংশিকভাবে ভারতের অবদান রয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বাধীনতাকামীদের সহায়তায় পাকিস্তান সেনবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। কিন্তু অনেক বাংলাদেশী ভারতকে পিঠ চাপড়ানো ও অহঙ্কারি মিত্র মনে করে। এক বাংলাদেশী সাংবাদিক বলেন, তারা বিশ্বাস করে না যে আমরা স্বাধীন। তারা সবকিছুতে হস্তক্ষেপ করে। তারা মনে করে, আমাদের আমলারা তাদের হয়ে কাজ করছে। 

বর্তমান ভারত সরকারের অনেক মুসলিমবিরোধী নীতি ৯০ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশে সন্দেহ উস্কে দিয়েছে।

চীনা মুগ্ধতা অশোভন ইঙ্গিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে চীন সাতটি ‘মৈত্রী সেতু’ নির্মাণ করেছে। ২০১৮ সালে বিদেশী বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে ভারতকে ছাড়িয়ে যায় চীন। বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারও চীন। ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে এসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২৭টি অবকাঠামো প্রকল্পে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসাইন বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, টেলিকমের পুরোটাই চীনা ব্যবসা।

কোষাগার বেশ বড় হওয়ার প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ পাশ্চাত্য কল্যাণকারীর চেয়ে ব্যয় করতে চীন অনেক কম কুণ্ঠিত। এই মন্তব্য ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির আলী রীয়াজের। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত শুরু করলে ২০১৩ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যাংকের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশ। চীন এগিয়ে আসে।

Screenshot 2020-09-19 082536

রীয়াজ বলেন, গত কয়েক বছরে চীনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পড়তে যাওয়া ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। মিডিয়াও ইতিবাচক। একটি অর্থনৈতিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক বলেন, আমাদের পত্রিকার ৭০ ভাগ সাংবাদিক চীন গেছে। তিনি নিজে ২০১৮ সালে একটি ফেলোশিপ নিয়ে ১০ মাস ছিলেন চীনে। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আসার সাথে সাথে মহামারীটি মোকাবেলায় চীনাদের একটি দল বাংলাদেশে এসে পড়ে।

এই কাছে টানার প্রয়াস কাজে লেগেছে। ভারতের চেয়ে চীনা সরকার তার মুসলিমদের ওপর অনেক বেশি পরিকল্পিত নির্যাতন করেছে। বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে অনেক দেরি করেছে। কিন্তু তবুও বাংলাদেশী মিডিয়ায় চীন অনেক কম সমালোচনার শিকার হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের সরকার সামান্য বেশি সতর্ক। চীনের কাছে খুব বেশি দায়বদ্ধ ও ভারতের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা বাতিল করতে হয়। এত বিশাল ও শক্তিশালী প্রতিবেশী থাকাটাও যন্ত্রণাদায়ক। রীয়াজ বলেন, ভারতের নীতিনির্ধারক ও সংবাদমাধ্যম বিরামহীনভাবে বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ ছোট ও কম গুরুত্বপূর্ণ। চীন তা করে না।

 

ইকোনমিস্ট