আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

বাংলাদেশকে জাতীয়, কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

VISTA-ENG-29-08-2020

চীনের সঙ্গে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শত্রুতা তীব্র হয়ে ওঠায় বাংলাদেশের সামনে বহুসংখ্যক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। মনে হচ্ছে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি হচ্ছে এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধে দেশটির কোন পক্ষভুক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুর মতো কৌশলগত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশকে পক্ষে টানতে চাচ্ছে সংঘাতে বিজরিত দেশগুলো। কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে কোন পক্ষভুক্ত হওয়া দেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে বলে পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা কৌশলবিদরা মনে করেন। তাই তাকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থের অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী তার দেশের পরিকল্পনা হলো জাপানের সঙ্গে মিলে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণ, যা তারা সীমিত আকারে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আদলে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংলাপ বা কোয়াড আয়োজনের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় পরিকল্পনার প্রভাব তাৎপর্যপূর্ণ।

চীন, ভারত ও জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও অন্যান্য উন্নয়ন চুক্তি রয়েছে। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগেও বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে। তাই তাকে তার জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই চলার পথ বেছে নিতে হবে এবং ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধের’ পক্ষগুলো থেকে সমদূরত্ব রক্ষার নীতি অনুসরণ করতে হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে লড়াই করতে গিয়েই বাংলাদেশ ইতোমধ্যে একা হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সরকারকে ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই ও মূল্যায়ন করে দেখতে হবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল কি শুভ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি নাকি এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান চীনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য।

আঞ্চলিকভাবে বলতে গেলে বৈশ্বিক নেতৃত্বে শূন্যতা পূরণের জন্য ভারত, জাপান ও চীন প্রতিযোগিতা করছে। এটা করতে গিয়ে তারা অন্যান্য দেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে এটা করা হচ্ছে। এভাবে তারা নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্রসহ এসব দেশ ভারত মহাসাগরে একটি গেটওয়ে বা নিয়ন্ত্রণ চায়। এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করতে হলে সেটা যেকোন সম্ভাব্য বিশ্বশক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কৌশলগত অবস্থান তাদেরকে ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলের অংশীদারিত্বের জন্য কাঙ্ক্ষিত করে তুলেছে। চীন-ভারত উত্তেজনা বৃদ্ধি, ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধের’ সূচনার সুস্পষ্ট আভাস এবং জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ফোরামের কোনটিতে যোগ দেবে আর কোনটিতে দেবে না তা বাছাই করতে হবে। 

বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে ভারত ও চীন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক জায়গায় আনতে হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে জাড়িত হতে ভারত ও জাপান এখনো বাংলাদেশ সরকারের কাছে যৌথ প্রকল্পের ব্যাপারে কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেনি। তবে বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে সে এই নতুন স্নায়ুযুদ্ধের কোন পক্ষ হচ্ছে না। বাংলাদেশকে তার জাতীয় স্বার্থের জমা-খরচ হিসাবের স্বার্থে এশিয়ান জায়ান্টদের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার সামর্থ্য প্রদর্শন করতে হবে।