আমরা লাইভে English রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

রিসালদার মুসলেহ উদ্দিনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমে

risaldar-moslehuddin-1
১৯৭৫ সালে তোলা ছবিতে রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন; এখনকার সন্দেহভাজন মুসলেহ উদ্দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আরেক খুনি রিসালদার মুসলেহ উদ্দিনকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম। মঙ্গলবার ভারতের দুটি প্রভাবশালী পত্রিকায় বলা হয়, কোনো একটি স্থল বন্দর দিয়ে সোমবার তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকায় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা মঙ্গলবার আবারও মুসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছেন। ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা অফিসের (ঢাকা এনসিবি) প্রধান এইআইজি মহিউল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে তারা কিছু জানেন না।

তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য অস্বীকার করেনি। তারা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন। 

মঙ্গলবার ভারতের জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেল এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রিসালদার মুসলেহ উদ্দিনকে সোমবার সন্ধ্যায় একটি অঘোষিত স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা এই অভিযান চালিয়েছে, সে কারণে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অভিযান সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। এতে আরও বলা হয়, এর আগে মুসলেহ উদ্দিনের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশিত হলে তাতে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ওই ছবি প্রকাশের পর বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছিল, মুসলেহ উদ্দিন কয়েক বছর আগে মারা গেছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া খুনি আবদুল মাজেদই বাংলাদেশকে রিসালদার মুসলেহ উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানায় বলে এনডিটিভির খবরে উল্লেখ করা হয়।

মঙ্গলবার ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্যা হিন্দুর খবরে বলা হয়, ‘‘সম্ভবতঃ তাঁকে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে।”

এর আগে সোমবার ভারতের দৈনিক আন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসালদার (বরখাস্ত) মুসলেহ উদ্দিনকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় একটি গ্রাম থেকে আটক করা হয়। লকডাউনের সময় এ দেশ থেকে মুসলেহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দাদের জানায়। ভারতীয় গোয়েন্দারা এই খুনিকে কার্যত তাড়িয়ে সীমান্তের কোনও একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয়। ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার একটি আধাশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া থাকছিল মুসলেহ উদ্দিন।

১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়িতে হানা দেওয়া দলটির সামনের সারিতে ছিল মুসলেহ উদ্দিন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করলে মুসলেহ উদ্দিন দেশ থেকে পালিয়ে যান। তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেন। মুসলেহ উদ্দিনের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। 

এর আগে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আবদুল মাজেদকে গত ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে দেওয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, সে দেশের গোয়েন্দারাই মাজেদকে আটক করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়। এরপর ১২ এপ্রিল শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মাজেদ ২২–২৩ বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছিলেন। তিনি সে দেশেরই পাসপোর্টও নিয়েছিলেন।

মুসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সত্যি হলে এখন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আর চার খুনি পলাতক থাকলেন। তাঁরা হলেন: খন্দকার আবদুর রশীদ, শরিফুল হক ডালিম, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী ও এ এম রাশেদ চৌধুরী। তাঁরা সবাই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

এ ছাড়া খুনিদের মধ্যে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আসামি আজিজ পাশা।

দুটি ভিডিও নিয়ে নানা প্রশ্ন

দুটো ভিডিও একটিতে দেখা যাচ্ছে, বয়স্ক এক ব্যক্তি একটি ইউনানি ওষুধের দোকানের ভেতরে দাঁড়িয়ে ওষুধ বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে দোকানে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন পরের ভিডিওটিতে সাদা পোশাকে এক পুলিশ সদস্যেদর খুঁজতে আসা ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিচ্ছেন একটি পরিবারের সদস্যরা

এই দুটো ভিডিও ধারণ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার জেলার বনগাঁও এলাকার গাইহাটা থানার ঠাকুরনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের খুনি রিসালদার মোসলেউদ্দিন সন্দেহে ধরা লোকটি এই ওষুধের দোকানি বলে জানা গেছে ওই এলাকার স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, গাইহাটা থানার ঠাকুরনগর এলাকার দুটি বাড়িতে পুলিশ গোয়েন্দারা খোঁজ করতে যান এর একটি লোককে আটক করা হয় আর অন্য লোকটির বাড়িতে খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি জানুয়ারী মাসে মারা গেছেন তবে কোন লোকটি মোসলেউদ্দিন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি

গ্রামবাসীরা বলছেন, মারা যাওয়া লোকটি যে বাংলাদেশি এটা সবাই জানতেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই থাকতেন তিনিও একটি ইউনানি ওষুধের দোকান চালাতেন লোকটি মারা গেলে হিন্দুরিতি অনুসারে তাঁকে দাহ করা হয় যে পরিবারের সঙ্গে তিনি থাকতেন তাদের সঙ্গে পুলিশ সাংবাদিকরা কথাও বলেছেন

এদিকে ঢাকায় পুলিশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা মোসলেউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা অফিসের ( ঢাকা এনসিবি) প্রধান এইআইজি মহিউল ইসলাম সাংবাদিকদের  বলেন, এখন পর্যন্ত ভারত ব্যাপারে কোনো কিছুই তাদের জানায়নি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঘটনা জানতে চেয়ে মেইল পাঠানো হলে তারও কোনো জবাব আসেনি

তবে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র প্রথম আলোকে বলেছেন, এর আগে ধরা  বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনি আবদুল মাজেদই রিসালদার মোসলেউদ্দিনের খবর গোয়েন্দাদের জানিয়েছিলেন সেই সূত্র ধরেই মোসলেউদ্দিন সন্দেহে একজন আটক করা হতে পারে তবে তিনি সত্যি মোসলেউদ্দিন কি না সে ব্যাপারে এখনও তারা নিশ্চিত হতে পারেননি 

ভারতের দৈনিক আন্দবাজারের খবরে বলা হয়, ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসেলদার (বরখাস্ত) মোসলেউদ্দিনকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় একটি গ্রাম থেকে আটক করা হয় আবার অন্য একটি সূত্রের খবর, মাজেদ আটক হওয়া মাত্রই নিজের মৃত্যু-সংবাদ ছড়িয়ে গা-ঢাকা দেন মোসলেউদ্দিন ভারতের গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, লকডাউনের সময় দেশ থেকে মোসলেউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দাদের জানায় ভারতীয় গোয়েন্দারা এই খুনিকে কার্যত তাড়িয়ে সীমান্তের কোনও একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেয় ভারতের গোয়েন্দা সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার একটি আধাশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া থাকছিল মোসলেউদ্দিন

১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়িতে হানা দেওয়া দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেউদ্দিন ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে এই হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করলে মোসলেউদ্দিন দেশ থেকে পালিয়ে যান আদালতের রায়ে তাঁর ফাঁসি হয় মোসলেউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেন তাঁর যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সরকার