আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে নতুন পরিবহন রুট প্রতিষ্ঠা করেছে ত্রিপুরা

ISSUE-2-ENG-22-08-2020-Tripura
ত্রিপুরায় গোমতী নদীর তীরে নির্মিত অস্থায়ী জেটি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাংলাদেশের নদীগুলো দিয়ে তার চলাচলের একটি পথ নিশ্চিত করেছে। স্থলবেষ্টিত এই অঞ্চলটির অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।

গত মাসে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে প্রথম পরীক্ষামূলক কার্গো কন্টেইনার জাহাজ গ্রহণ করেছেন। ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের ৮৫৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত গোমতী নদীপথের সোনামুরায় একটি অস্থায়ী জেটিও নির্মাণ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিপ্লব দেব বলেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে কলকাতা ও ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার মধ্যকার দূরত্ব হ্রাস পাবে। এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম কমবে।

দুই প্রতিবেশী নতুন প্রটোকল রুট চূড়ান্ত করার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলোর মাধ্যমে সংযোগ লাভ করেছে ত্রিপুরা। ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল (আইবিপি) রুটগুলোতে ত্রিপুরার গোমতী নদীতে সোনামুরা-দাউদকান্দি রুট এবং রাজশাহী-ধুলিয়ান-রাজশাহী রুট স্থান পেয়েছে।

নদী দিয়ে ট্রানজিট ও বাণিজ্যের প্রটোকল সই হয়েছিল ১৯৭২ সালে।

ভারতের উত্তর-পূর্ব এলাকা দীর্ঘ দিন ধরেই মূল ভূখণ্ডের সাথে অপর্যাপ্ত কানেকটিভিটিতে ভুগছে। চীন, ভুটান, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরাও থাকা এলাকাটির সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রয়েছে ২২ কিলোমিটারের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর দিয়ে।

কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই চিকেন নেক ২০১৭ সালে চীনের সাথে দোকলাম সঙ্কটের সময় নাজুক হয়ে পড়ে। ওই সময় ভারত দাবি করে যে ভুটানের বিরোধপূর্ণ দোকলাম অঞ্চলে চীন একটি রাস্তা নির্মাণ করছে। দোকলামে চীনের নির্মাণ কার্যক্রম দেশটির সামরিক বাহিনীকে চিকেন নেকের কাছাকাছি নিয়ে আসবে।

গত কয়েক দশকে ভারতের উত্তরপূর্ব এলাকাকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করতে বেশ কিছু বিকল্প রুট নিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে। এরই একটি হলো কালাদান মাল্টি মডেল ট্রান্সপোর্ট ট্রানজিট প্রজেক্ট। এটি ভারতের পূর্বাঞ্চলের বন্দরগুলোকে মিজোরামের সাথে যুক্ত করবে এবং তা মিয়ানমারের সাথে সংযুক্ত হবে।

অবশ্য কালাদান প্রকল্পটির অগ্রগতি খুবই মন্থর এবং তা অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। গত বছর এই প্রকল্পের সাথে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তাকে মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সদস্যরা অপহরণ করেছিল। এর পর থেকে মিয়ানমারের চিন ও রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ বেড়ে গেছে। 

কালাদান প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যাতায়াত পথের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। অবশ্য, বাংলাদেশের নদীগুলোর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় এগুলোতে ড্রেজিং প্রয়োজন। নিরবিচ্ছিন্ন নৌচলাচলের জন্য যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ ও দইখোয়া এবং কুশিয়ারা নদীর আশুগঞ্জ ও জাকিগঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় ড্রেজিং শুরু হয়েছে। তা শেষ হবে আগামী বছর।

পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোরের বিভিন্ন স্থানে জেটি নির্মাণের। গুজরাটের পরবন্দর থেকে আসামের সিলচর পর্যন্ত ৩,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এই করিডোর। তবে আরো অনেক করিডোরের মতো, এটি নির্মাণের সময়সীমাও অতিক্রম করে গেছে। 

ভারত সরকার ভূবেষ্টিত অঞ্চলের সাথে যোগাযোগব্যবস্থা দৃঢ় করার জন্য যে কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার একটি হলো বাংলাদেশের নৌপথ ব্যবহার করা। ভারতমালা ও সাগরমালা নামের জোড়া প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তরপূর্বাঞ্চল বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য আসাম বিমান, রেল ও জলপথের মাধ্যমে এশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যের সাথে যুক্ত হবে। নাগাল্যান্ড ও মনিপুরকে আসামের সাথে সংযুক্তকারী ঐতিহাসিক ন্যাশনাল হাইওয়ে-৩৯ টোকিও থেকে উদ্ভূত এশিয়ান হাইওয়ে-১-এর সাথে যুক্ত হবে। কোনো কোনো পরিকল্পনায় একে বুলগেরিয়া সীমান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।