আমরা লাইভে English রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক: চোখের দেখা থেকেও বেশি কিছু

ISSUE-3-ENG-05-08-2020-BD

গত ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার বাংলাদেশী প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনার টেলিফোনে কথা বলার পর থেকে মিডিয়ায় এই অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক জোট ও অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক কতটা উন্নত হতে পারে তা নিয়ে গুঞ্জন দেখা যাচ্ছে।

বিরল এই টেলিফোন আলাপের ফলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। অবশ্য, টেলিফোনে কথা বলার মধ্যেই সমন্বয় সাধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এমন নয়। বরং এটি ছিল দুই দেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার নীরব প্রয়াসের ফল।

সাধারণ অবন্ধুসুলভ রাজনৈতিক পরিবেশ সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার একটি ক্রমবর্ধমান আশাবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল বাণিজ্য। এক দিন আগেই জাতীয় পরিষদকে অবহিত করা হয় যে চীন ও আফগানিস্তানের পর এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই হলো পাকিস্তানের তৃতীয় শীর্ষ রফতানি গন্তব্য।

বাণিজ্যমন্ত্রী এমএনএ জেমস ইকবালের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অন্যতম রফতানি গন্তব্য হলো বাংলাদেশ। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সবসময়ই পাকিস্তানের অনুকূলে।

গত ৫ বছরের আমদানি ও রফতনির হিসাব দিয়ে মন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেন, ২০১৯-২০ সময়কালে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য হয়েছে ৭০০.৩৯ মিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে পাকিস্তান রফতানি করেছ ৬৫৪.৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ৪৫.৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

তিনি বলেন, চলতি বছরও উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে কোভিড-১৯-এর কারণে আমদানি ও রফতানি উভয়টিই হ্রাস পেয়েছে। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বজুড়েই এই অবস্থা দেখা দিয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ২০১৮-১৯ সময়কালে বাণিজ্য হয়েছিল ৮০৬.৭৫ মিলিয়ন ডলারের। আর ২০১৭-১৮ সময়কালে ছিল ৮০৫ মিলিয়ন ডলারের, ২০১৬-১৭ সময়কালে ছিল ৬৭৮.৪৩ মিলিয়ন ডলারের।

মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে বাংলাদেশকে ‘এ’ তালিকায় রেখেছে। এর ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান সফর করতে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এছাড়া পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা ডেস্কে বিশেষ সুবিধা প্রদান করার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের যেসব পণ্য রফতানি করা হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ওভেন কটন ফেব্রিক্স, কটন ইয়ার্ন, র সুগার, ও কটন, ট্যানড লেদার, যন্ত্রপাতি, সিনথেটিক ফ্যাবিক্স।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে প্রধানত আমদানি করা হয় কাঁচা পাট, চা, মেট, তামাক।

কয়েক বছর ধরে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উত্তেজনাকর থাকলেও এখন দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের জন্য ইমরান খানের আমন্ত্রণ জানানোর পর আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছে যে কেবল সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্কই নয়, জনগণ পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সূচিত হবে অতীতের ক্ষত নিরাময়ের জন্য।