আমরা লাইভে English রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

দেশে ফিরতে চান পিকে হালদার!

pk_halder-tbs_1

দেশে ফিরতে চান বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার। ভারতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

রিমান্ডের ২য় দিন আজ সোমবার মেডিকেল চেকআপ শেষে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) দপ্তর থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পিকে, সময় টিভির খবর।

এদিকে তাকে দেশে ফেরাতে কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান জানান, ভারতের ইন্টারপোল, দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে দুদক।

অন্যদিকে পিকে হালদারকে দেশে ফেরাতে হাইকোর্ট প্রায় দেড় বছর আগে যে রুল জারি করেছিল, সেটি শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই রুলের শুনানির দিন ধার্য করে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে পি কে হালদারসহ ৫জনকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।

তাই সোমবার ফের মেডিকেলে চেকআপ করতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল তাকে।

ফেরার পথে সাংবাদিকরা পি কে হালদারকে প্রশ্ন করেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান কি না? এর উত্তরে প্রথমে চুপ থাকলেও লিফটে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, দেশে ফিরতে চান।

ইডি বা সিবিআই কোনো আসামিকে গ্রেফতার করলে আদালতে পেশ করার আগে একবার তার মেডিকেল চেকআপ করায়. এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার গ্রেফতার ছয়জনকে মেডিকেল চেকআপ করানো হয়েছিল। এরপর সোমবার দ্বিতীয়বার আবার চেকআপ করানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব বলেন, এরইমধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাতের অশোকনগর এলাকা থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ইডি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ তার আরও পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানতে পারি। আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনগত প্রক্রিয়ায় দুদকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ৬ জন গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য জানার পর এরইমধ্যে আগে জারি করা রেড এলার্ট নোটিশ ও দুদকের দায়ের করা মামলার সূত্রে বাংলাদেশে অবস্থিত ইন্টারপোল থেকে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোতে (এনসিবি) আসামিদের ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ চেয়ে ইলেক্ট্রনিক বার্তা পাঠানো হয়েছে।

শিগগিরই আরও কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দুদক শিগগিরই আরও কিছু কার্যক্রম নেবে।

আসামিদের ফেরাতে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসে চিঠি দেওয়া ও যোগাযোগ করা হবে। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে। ভারতে পাচার করা অর্থ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিআইএফইউ বরাবর পুনরায় চিঠি দেওয়া হবে।

অন্য দিকে সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন।  ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন পশ্চিমবঙ্গে পিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

একপর্যায়ে আদালত বলেন, 'আমাদের মেসেজ ক্লিয়ার। দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে–ই হোক। আমরা এ ব্যাপারে সিরিয়াস।' 

পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে দেড় বছর আগে স্বতঃপ্রণোদিত রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এর মধ্যেই গত শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন পি কে হালদার।

২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর 'পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক' শিরোনামে একটি দৈনিকে প্রতিবেদনে ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি বিবেচনায় নিয়ে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন।

রুলে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না এবং এক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। এ রুল এখন হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানির জন্য উঠছে।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, 'পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত রুল ছিল। সেই রুলের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করা ছিল। ইতিমধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, পি কে হালদার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিষয়টি আদালতের নলেজে এনেছি। রুল শুনানির জন্য মেনশন করেছি। আগামীকাল বিষয়টি কার্যতালিকায় আসবে।'