আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

বাংলাদেশের জন্য চিন্তার কারণ হচ্ছে সৌদি আরব

REPORT-4-ENG-03-10-2020-BD

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর গত কয়েক মাসে প্রায় ১৪০,০০০ বাংলাদেশী শ্রমিক বিদেশ থেকে ফেরত এসেছে। এদের বেশিরভাগ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তারা ফেরত যেতে চাচ্ছে, বিশেষ করে সৌদি আরবে। তবে সেটা সহজ মনে হচ্ছে না। এসব শ্রমিকের বেশিরভাগ রিয়াদে যাওয়ার প্লেনের টিকিট পাচ্ছেন না। ঢাকায় সৌদি এয়ার লাইন্সের অফিসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানও তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে না পারায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক সৌদি প্রবাশী বাংলাদেশী শ্রমিক এখন আশংকা করছেন যে তারা ফিরে যাওয়ার টিকিট পাওয়ার আগেই তাদের ভিসা ও আকামা (ওয়ার্ক পারমিট)-এর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। যদিও বাংলাদেশ এসব কাগজপত্রের মেয়াদ বাড়াতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিন্তু কতটা কাজ হবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। তাছাড়া আবহাওয়া একটি বড় বিষয়। কোভিড শুরু হওয়ার আগে তারা যেসব কোম্পানিতে কাজ করতেন সেগুলোতে আবার নিয়োগ পাবেন কিনা সেই প্রশ্নও আছে।

মহমারির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিক ছাটাই শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো নেই। মিডিয়া হাউজগুলোতে সাংবাদিক ছাটাইয়ের মহোৎসব চলছে। আরো দুঃখের বিষয় রাষ্ট্র-পরিচালিত ২৫টি পাটকল আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার মানে হলো ২৫,০০০ শ্রমিককে ছাটাই। সরকার বলছে এসব শ্রমিকের সব পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হবে কিন্তু ভাবনার বিষয়টি অন্যখানে। এমন এক সময় এসব লোককে কর্মহীন করা হলো যখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা করুন। বেকারদের দীর্ঘ সারিতে তারা যোগ হয়েছে। অন্যান্য খাতের ব্যবসাও ধুকে ধুকে চলছে। যে কারণে বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মবাজার অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পুরনো বাজারগুলো বাংলাদেশীদের জন্য বেশিদিন আর ভালো থাকবেনা বলে আশঙ্কা থেকে তিনি এই আহ্বান জানাতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কারণ আছে এবং এটা সৌদি আরবে বর্তমানে বসবাসরত ৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট সরবরাহের জন্য ঢাকার প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুরোধের কারণে। এই অনুরোধ ঢাকায় সতর্ক ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। কারণ গত তিন বছর ধরে রোহিঙ্গা সমস্যায় পিষ্ট হলেও সমাধানের কোন আলো ঢাকা এখনো দেখছে না। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পর এখন আশঙ্কা হচ্ছে যে বৈশ্বিক পর্যায় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে, মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে না পারলে, এসব শরণার্থীর ভার দীর্ঘদিন বাংলাদেশকে বহন করতে হতে পারে, সম্ভবত চিরদিনের জন্য। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদেরকে বাংলদেশী পাসপোর্ট দিতে সৌদি আরবের অনুরোধ আসলে চাপের চেয়েও অনেক বেশি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশক থেকে এসব রোহিঙ্গা সৌদি আরবে রয়েছে। সৌদি আরবের অনুরোধ বাংলাদেশের জন্য রীতিমত আতঙ্কের। কারণ এই অনুরোধ না রাখলে সৌদি আরব সেখানে অবস্থানরত ২২০,০০০ বাংলাদেশী শ্রমিককে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিতে পারে।

সৌদি অনুরোধের ব্যাপারে বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াও হয়েছে দ্রুত। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও বুদ্ধিজীবীরা বলছেন যে কোনভাবেই সৌদি আরবের এই দাবি মানা যাবে না। দুটি কারণে: প্রথমত, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, তাই তারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট পেতে পারে না। দ্বিতীয়ত, সৌদি আরবের দাবি মেনে নেয়ার মানে মিয়ানমার জান্তার হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেয়া। জান্তা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে রোহিঙ্গারা হলো রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশী।

সৌদি অবস্থান কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু এটা বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। এর আগে ভারত, চীন, রাশিয়ার মতো ‘বন্ধু দেশগুলোর’ মাধ্যমে এসব শরণার্থীকে ফেরত নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে বাংলাদেশের চেষ্টা সফল হয়নি। মিয়ানমারের ব্যাপারে এসব দেশের আচরণ বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। তাই এখন সৌদি আরবের কাছ থেকে নতুন চাপ আসার পর বাংলাদেশকে ওই তিন দেশ ও অন্যান্য পশ্চিমা রাষ্ট্রের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে। করোনাভাইরাসের ফাঁদে আটকা পরার পর বাংলাদেশের পক্ষে নতুন কোন সমস্যার বোঝা বহন করা সম্ভব নয়।

তাই পাসপোর্ট ইস্যুটি বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দেয় তা এখন দেখার বিষয়।