আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের কৌশলগত আলোচনা নিয়ে জল্পনা

REPORT-1-ENG-28-08-2020-BD copy-1
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান লে. জেনারেল আজিজ আহমেদ

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক ঢাকা সফর সবাইকে অবাক করলেও তারা তার বৈঠকগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকের আলোচনায় কৌশলগত ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায় বলে ভারতীয় মিডিয়ার খবরে মনে হচ্ছে।

ভারতীয় পত্রিকা স্বরাজ্য তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের (এমইএ) অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে লিখে, শ্রিংলা ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের কক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও অন্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন।

আপাতদৃষ্টিতে যদিও তার ঢাকা সফর ছিলো বহুল আলোচিত ‘ভ্যাকসিন কূটনীতি’র অংশ, যা বৈশ্বিক রাজনীতির সর্বশেষ খেলা বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা এই সফরে আরো অনেক কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন। দৃশ্যমান না হলেও এতে যে চীন প্রভাব বিস্তার করেছিলো তা মনে করার যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে।

স্বরাজ্যর প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের জন্য বিপুল পরিমাণে উন্নয়ন সহায়তা নিয়ে বেইজিং হাজির হয়েছে। এমইএ সূত্র মতে, চীন বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিনিয়োগের আগ্রহী, যার সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে।

ধারণা করা হয়, চীনের হাতে বেশ কিছু বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিশেষ করে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের নদী তিস্তায় নদীবন্দর নির্মাণ থেকে টাউনশিপ, ইকনমিক জোন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও সেতু, পর্যটন প্রকল্প ও কারখানা স্থাপন, ইত্যাদি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার সামনে অগ্নি পরীক্ষা

এমইএ সূত্রের বরাত দিয়ে স্বরাজ্য লিখে, মনে হয় ‘বাংলাদেশে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তার পরিকল্পনায় বাধা দেয়া’ ছিলো এই সফরের কারণ। ‘চীন এরই মধ্যে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ঢাকাকে নতুন করে আরো ঋণ দানের পরিকল্পনা করেছে।’ 

বিশেষ করে কৌশলগত অঞ্চল রংপুরে চীনের বিনিয়োগ নিয়ে নয়া দিল্লী উদ্বিগ্ন। এই অঞ্চলটি চিকেন নেক নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরের পাশে। এই করিডোর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অশান্ত সাতটি রাজ্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আর সে কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের ভার্চুয়াল বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। 

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কখনো অম্ল ও কখনো মধুর সম্পর্কটি তুলে ধরে আরেকটি ভারতীয় পত্রিকা দি প্রিন্ট লিখে, মনে হচ্ছে ভারতের চেয়ে চীন এগিয়ে গেছে। পত্রিকাটি লিখে, ‘শ্রিংলা বিমান থেকে নামলে তাকে স্বাগত জানাতে কেউ আসেননি, বিদায় জানাতেও যায়নি কেউ। এর ঠিক উল্টা চিত্র দেখা যায় গত জুনে যখন করোনাভাইরাস দমনে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য চীনা ডাক্তারদের ১০ সদস্যের টিম ঢাকা আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বিমানবন্দরে গিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানান।’ 

স্বরাজ্য আরো উল্লেখ করে যে চীন তার প্রবল মিত্র পাকিস্তানকেও ব্যবহার করছে: ‘তাছাড়া পাকিস্তানকে চীন উৎসাহ দিচ্ছে যেন তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করে। এটা প্রতিবেশিদের মধ্যে ভারতকে বিচ্ছিন্ন করতে চীনের অশুভ পরিকল্পনার অংশ। জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার বাংলাদেশী প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন। এসময় তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন।’ যা দিল্লীতে সতর্ক ঘন্টা বাজায়।

আরও পড়ুনঃ শ্রিংলার ঝটিকা সফর: বাংলাদেশ কি তার কার্ডগুলো দেখিয়েছে?

পাকিস্তানের তৎপরতা সম্পর্কে পত্রিকাটি আরো লিখে, এই অগ্রগতি ইংগিত দেয় যে পাকিস্তান মরিয়া হয়ে ঢাকার মন গলাতে চাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, আমলা, কূটনীতিক ও সামরিক এস্টাবিশমেন্টের পাশাপাশি সুশীল সমাজের অনেকেও দেশটির প্রতি সহানুভুতিশীল।

এমইএ’র সিনিয়র কর্মকর্তাটি বলেন, ‘বেইজিং ঢাকার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করতেও বেশ আগ্রহী। বিশেষ করে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বেইজিং, যাতে তারা বঙ্গোপসাগরে আরো ব্যাপকভাবে প্রবেশের সুযোগ পায়।’

‘পিপলস লিবারেশন আমি (পিএলএ) নেভি এরই মধ্যে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং এই দুই দেশের নৌ স্থাপনাগুলোতে চীনা যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত সফর করে।’

‘স্বাভাবিক উদ্বেগের বিষয় হলো, পিএলএ নেভি যদি বাংলাদেশে তাদের অবস্থান জোরদার করতে পারে তাহলে তারা বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর তৎপরতা ও নৌস্থাপনাগুলো, বিশেষ করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জের উপর নজর রাখতে পারবে।’

স্বরাজ্যর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এমইএ কর্মকর্তার ভাষ্য মতে, এসব অগ্রগতি নয়া দিল্লীকে ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক চাঙ্গা রাখতে একটি ‘বুস্টার ডোজ’ দিতে বাধ্য করে। তাই এক ঝুড়ি প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঢাকা গিয়ে হাজির হন শ্রিংলা।’