আমরা লাইভে English বুধবার, অক্টোবর ২৭, ২০২১

বাংলাদেশে ছুটছে যুক্তরাষ্ট্র, তীব্র হচ্ছে চীনের সাথে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা

ইন্দো-প্যাসিফিক এজেন্ডা এগিয়ে নিতে ঢাকার সঙ্গে বিমান চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন

USBG
বিমান চলাচল চুক্তি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের একটি নমুনা

বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করার নীলনক্সার অংশ হিসেবে ঢাকার সাথে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল সভা করেছে ওয়াশিংটন, সই করেছে উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি।

চলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার ঊর্ধ্বে থেকে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার জন্য ছুটছে। হোয়াইট হাউজে যেই আসুন না কেন, দেশটির ইন্দো-প্যাসিফক স্ট্র্যাটেজিকে বিবেচনা করা হচ্ছে পররাষ্ট্রনীতির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি ভার্চুয়াল সভাটি করেন। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি, আইটি, ওষুধ ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ করার জন্য আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ জানাতে রাজি হন।

ভার্চুয়াল সংলাপের পাশাপাশি একই দিনে ঢাকার সাথে একটি বিমানচুক্তিও হয়। এতে ওয়াশিংটনের উন্মুক্ত আকাশ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করে। বুধবারই এটি কার্যকর হয়েছে।

https___s3-ap-northeast-1.amazonaws.com_psh-ex-ftnikkei-3937bb4_images__aliases_articleimage_8_4_3_5_29785348-3-eng-GB_Cropped-1601956221Agreement signing photo _2
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তিতে সই করছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মহিবুল হক ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর. মিলার 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, বিমান চুক্তিটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বি বাড়াবে, জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে, এয়ারলাইন্স, ট্রাভেল কোম্পানি ও ক্রেতাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বাহক বিমান আবার ঢাকা-নিউ ইয়র্ক রুট চালু করতে পারবে। ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক কারণে ওই রুটটি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প, বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান নিক্কি এশিয়াকে সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক আকারের কারণে আমরা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের নজরে পড়ছি। বাংলাদেশ বড় অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে।

এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক অনুমান করছে, চলতি বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৫.২ ভাগ। অথচ এই সময়ে বেশির ভাগ এশিয়ান দেশের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কারণে উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক জোটের উদীয়মান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, গত বছর দুই দেশ আমেরিকান সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

https___s3-ap-northeast-1.amazonaws.com_psh-ex-ftnikkei-3937bb4_images__aliases_articleimage_1_2_2_6_29786221-3-eng-GB_Cropped-1601957318RTX1UR4G
বাংলাদেশে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি নিয়ে গত বছর থেকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন অবশ্য এই সম্পর্ককে ঢাকার সাথে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আলোকে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশ সম্প্রতি চীনকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিমানবন্দর চুক্তি দিয়েছে। এর জবাবে বাংলাদেশী পণ্যের ওপর থেকে ৯৭ ভাগ শুল্কমুক্ত সুযোগের কথা ঘোষণা করেছে চীন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক দেলাওয়ার হোসাইন নিক্কিকে বলেন, বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, অবশ্য বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উষ্ণতর হওয়া দেখাটা চীনের জন্য অস্বস্তিকর মনে হতে পারে, আবার ঢাকা-বেইজিং রোমান্সে বিরক্ত হতে পারে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, কিন্তু কোনো পক্ষই বাংলাদেশকে ছাড়তে চায় না। তার মতে এর আংশিক কারণ হলো, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মতো ছোট দ্বীপ দেশের তুলনায় আমেরিকান ও চীনা উভয়ের রফতানির চাহিদা ব্যাপকভাবে পূরণ করতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র অবশিষ্ট দেশ বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যেই যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে দৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশী পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার অনুকূলে বাণিজ্য ভারসাম্য রয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হলো ১২ বিলিয়ন ডলার। চীনই এখন বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস। বেইজিং বাংলাদেশের আমদানি করা অস্ত্রের ৭০ ভাগের যোগান দেয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্বদানকারী রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিমান চুক্তির ফলে চীনের সাথে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ধারণা বাতিল করে দেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত হচ্ছে, আমরা অবকাঠামো খাতে ভালো করছি।

ঢাকা-বেইজিং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো গভীর হয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০১৬ সালে ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে। তিনি ওই সময় তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় ২৭টি প্রকল্পে বাংলাদেশকে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ প্রদান করেন।

https___s3-ap-northeast-1.amazonaws.com_psh-ex-ftnikkei-3937bb4_images__aliases_articleimage_6_2_2_5_29145226-1-eng-GB_bangladeshs-top-10-trading-partners-in-2018-1

ঢাকাভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিক্কিকে বলেন, আমরা চমৎকার রেখায় হাঁটছি। আমরা বাংলাদেশের দীর্ঘ মেয়াদি স্বার্থের দিকে নজর রেখে কূটনৈতিকভাবে কার্ড খেলছি।

নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন জয়ী হলে ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক রাজনীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মনে করেন মনসুর। ট্রাম্পের মতো বাইেডনও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করবেন।

তবে মনসুর প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কেন এই খেলায় গেল?

তিনি নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে তিনি বলেন, দুই নম্বরের এক নম্বরকে ছাড়িয়ে যাওয়া খুব বেশি দিন লাগবে না।