আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০২২

সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিন চূড়ান্ত ধাপে মানুষের উপর পরীক্ষার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ

REPORT-1-ENG-28-08-2020-BD (2)

চীনের সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন চূড়ান্ত ধাপে মানুষের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকার। বৃহস্পতিবার এই অনুমোদন দেয়া হয়। 

এই সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লী আর ঢাকার কূটনীতিকদের বিস্মিত করেছে। কারণ ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা গত সপ্তাহে ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে বলেছিলেন যে, ভারত যে কোন কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করলে বাংলাদেশকে সেখানে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। 

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক বৃহস্পতিবার বলেন, যে সব স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি, তাদের উপর যৌথভাবে এটার পরীক্ষা চালাবে আইসিডিডিআর,বি এবং সিনোভ্যাক। 

মালেক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেন, “সিনোভ্যাকের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন মানুষের উপর পরীক্ষার বিষয়টি আমরা অনুমোদন দিয়েছি। সকল প্রয়োজনীয় গবেষণা প্রটোকল মেনেই এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে”।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির সাথে সংশ্লিস্ট কেউ কেউ এটাকে ভারতের ‘ভ্যাকসিন কূটনীতি’র ব্যার্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যে কারণে শ্রিংলা ঢাকায় এসেছিলেন। 

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, “বাংলাদেশে চীনা ভ্যাকসিন মানুষের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ব্যাপারে ভারত তাদের আপত্তির কথা ঢাকাকে জানিয়েছিল। সে কারণে এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছিল, যদিও জুলাইয়ের মাঝামাঝি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল এটা পরীক্ষার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় এখন এটা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অর্থ হলো ভারতের আপত্তিকে এখানে অগ্রাহ্য করা হয়েছে”।

সূত্র আরও জানিয়েছে যে, মালেক ও বাংলাদেশের চীনা রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠকের পর ভ্যাকসিন প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এতে বোঝা যাচ্ছে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের দৌড়ে দিল্লীকে ঠেলে এগিয়ে গেছে বেইজিং। 

অন্যেরা অবশ্য বলেছেন যে, মানুষের উপর ভ্যাকসিনের পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তকে ভারতের কূটনৈতিক ব্যার্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।