আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২১

ভুটানে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত

ফেসমাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার জন্য ওষুধের দোকানে ভুটানীদের ভীড়

হিমালয়ের ছোট্ট দেশ ভুটানে প্রথম একজনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

ভুটান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক ফেইসবুক পোস্টে জানানো হয়, ৭৬ বছর বয়সী এক মার্কিন পর্যটক সেখানে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এতে বলা হয়, ওই মার্কিন পর্যটক তার ৫৯ বছর বয়সী স্ত্রীসহ ১৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন থেকে ভারতে যান। তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত ভারতে ছিলেন। ২ মার্চ তিনি আসামের গৌহাটি থেকে আকাশপথে ভুটানে পৌঁছান। ড্রুক এয়ারের ওই বিমানে তার এক সঙ্গীসহ মোট দশজন ছিলেন। তাদের মধ্যে আটজন ভারতীয় নাগরিক।

পারো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছার পর ওই মার্কিন নাগরিকের হেলথ ডিক্লারেশন ফর্মে উল্লেখিত সব অবস্থা নেতিবাচক ছিলো। এমনকি তার মধ্যে জ্বরের লক্ষণও ছিল না। থিম্পুতে তিনি একজন চিকিৎসকের কাছে যান এবং পেটব্যথার কথা বলেন। তখনো তার মধ্যে ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। প্রথম রাত এবং পরের দিন তারা হোটেলে কাটান এবং ৩ মার্চ বিকালে ডায়রিয়া সমস্যার কারণে হাসপাতালে যান।

পেট ব্যাথা ও ডায়রিয়া নিয়েই ওই আমেরিকান টুরিস্ট ও তার সঙ্গী পুনাখ দেখতে যান। তারা ৫ মার্চ থিম্ফুতে ফিরে আবারো হাসপাতালে যান। তখন জ্বর, কাশি আর শ্বাসকষ্টের মত উপসর্গ দেখে তাকে পর্যবেক্ষণে নেন ভুটানের চিকিৎসকরা। পরে রয়্যাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এ পরীক্ষার পর তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়। তখন তাকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় যে, রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।

এই আমেরিকান পর্যটক ভুটানে আসার পর প্রায় ৯০ জনের সঙ্গে মিশেছেন। এখন ওইসব লোকজনকে খুঁজছেন ভুটানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্নস্থানে তার সঙ্গে মেশা লোকজন, হোটেল, ক্যাফেতে সময় কাটানো, তার ড্রাইভার ও গাইড, ফ্লাইট ক্রু, ভারতীয় যাত্রী ও তার সঙ্গী।

থিম্ফুতে আতঙ্ক

হঠাৎ করে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী সনাক্ত হওয়ার খবরে ভুটানের রাজধানী থিম্ফুতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সরকারের ‘ন্যাশনাল প্রিপিয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্লান’ মনে করে দেশ এখন সবুজ জোন থেকে ‘কলমা জোনে’ প্রবেশ করছে। এর মানে হলো দ্বিতীয় কাউকে সংক্রামিত করা ছাড়াই বিচ্ছিন্নভাবে এক বা একাধিক ঘটনা নিশ্চিত হওয়া। এর আরেকটি মানে হচ্ছে সরকারকে ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন রাখা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহভাজনকে আলাদা রাখা, স্কুল ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া এবং সংক্রমিত স্থানগুলোতে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।

এর জের ধরে থিম্ফু, পারো ও পুনাখা জেলায় দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের পর্যটক আগমন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীবাসীর মধ্যে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রয়োজনী জিনিসপত্র কেনার জন্য ছুটতে শুরু করেছেন আতঙ্কিত লোকজন। থিম্ফুর দোকান থেকে ফেসমাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার উধাও হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের খবর ছড়িয়ে পরার পরপরই লোকজনকে দোকানের সামনে লাইন দিতে দেখা গেছে।

অনেকেই এর জন্য সরকারকে দায়ি করছেন। তারা বলছেন বিদেশী পর্যটক আগমনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি না করার কারণেই জনগণ এখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন যে ভুটান হলো ছোট্ট একটি দেশ এবং এখানকার সমাজ খুবই সংঘবদ্ধ। ফলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাজধানী থিম্ফুতে আতংকিত মানুষের কেনাকাটা

প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে এই খবর দেয়া নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলছেন সরকার ও ট্যুরিজম কাউন্সিল জনগণের কথা আমলে নেয়নি। জনগণ বারবার সামাজিক গণমাধ্যমে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং পর্যটক আগমনের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। 

তাশি দর্জির এক মন্তব্যে বলা হয়, এটাই সরকারের আসল ব্যর্থতা। তিনি মনে করেন মানুষ বার বার আবেদন জানানোর পরও সরকার ছিলো নির্বিকার।

আরেক ফেসবুক পোস্টে শেরিং ঝাং মো লিখেন: বিমানবন্দর ব্যর্থ, সরকার ব্যর্থ, এখন জনগণকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তবে অনেকেই বলছেন যে এখন দোষারুপের সময় নয়। জনগণকে সতর্ক হতে হবে এবং ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারকে সাহায্য করতে হবে।

সরকার এ ব্যাপারে ব্যাপকভিত্তিক ‘ন্যাশনাল প্রিপিয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্লান’ তৈরি করেছে এবং একটি হাসপাতালকে করোনাভাইরাস রোগীদের জন্য আলাদা করেছে। এতে দেশকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখতে নজরদারি, সনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ, সাড়াদান, পরীক্ষা ও সুস্থ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যখাতের সামর্থ জোরদারের কথা বলা হয়েছে। এতে সমন্বয় ও কমান্ড ব্যবস্থাও বলে দেয়া হয়েছে।