আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

ভারত থেকে কোভিডের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তামাকের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো ভুটান

R-3-1

তামাকের উপর যে সব একেবারে শুরুতে যে সব দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হিমালয় অঞ্চলের দেশ ভুটান। তবে করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে সাময়িকভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সরকার। 

ভারত থেকে পাচারকারীরা তামাকের সাথে সাথে করোনাভাইরাসের জীবাণু নিয়ে আসতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে স্থানীয় পর্যায়ে তামাকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে, যাতে ভুটানিজরা পাচার করে আনা তামাকের দিকে না ঝোঁকে। 

নিষেধাজ্ঞা সত্বেও এখনও যারা তামাক ব্যবহার করে, তাদের কাছে তামাক বিক্রির জন্য সারা দেশে অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়েছে সরকার। জরিপে দেখা গেছে সাড়ে সাত লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ এর বেশি বয়সী ভুটানিজদের প্রায় এক চতুর্থাংশই তামাক ব্যবহার করে। 

প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং নিজে একজন চিকিৎসক এবং তিনি তামাক ব্যবহার করেন না। ৩১ জুলাই পার্লামেন্টকে তিনি বলেন, “এখন মানুষের আচরণ ঠিক করার সময় নয়। আমরা কোভিড-১৯ মোকাবেলার দৃষ্টিকোণ থেকে এটা করতে চাই”। 

ভুটানের টোব্যাকো কনট্রোল অ্যাক্ট অনুসারে তামাকের চাষ, বিক্রি, বিপনন এবং প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত আমদানির সুযোগ রয়েছে সেখানে। আমদানিকাকরদেরকে ভারত থেকে আমদানির উপর শতভাগ শুল্কও দিতে হয়। তৃতীয় দেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শতভাগ কাস্টমস শুল্ক দিতে হয়। 

ভুটানের সাথে ভারতের ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে এবং এখানে অনেকগুলো ক্রসিং পয়েন্টও রয়েছে, যেগুলো বেশ ঘনবসতিপূর্ণ। চীনের সাথে তাদের বিতর্কিত ৫০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। 

মহামারী ঠেকাতে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভুটান যখন তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, তখন দক্ষিণের সীমান্তে শত শত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের মোতায়েন করা হয়। এর পরও দিনে গড়ে প্রায় ৩০ জন কালোবাজারে পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে চার থেকে পাঁচগুণ দামে তারা তাদের পণ্য বিক্রি করছে। 

সরকারের দোকানগুলো ভারত থেকে আনা তামাক পাচারকারীদের চেয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করছে। যদিও সেখানে শতভাগ বিক্রয় শুল্ক দিতে হয়েছে। টিনএজ বয়স থেকে ধূমপান করেন ৩২ বছর বয়সী আইটি বিশেষজ্ঞ ইন্দ্রা গোতামে। তিনি বললেন, “কর্তৃপক্ষের এটা বহু আগেই করা উচিত ছিল। তামাক নিষিদ্ধের কারণে কালোবাজার তৈরি হয়েছে আর মানুষ ক্রিমিনালে পরিণত হয়েছে মাত্র। তাছাড়া এটাকে বৈধ করলে সরকার মুনাফাও লাভ করতে পারবে”।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে সমালোচনাও হয়েছে। এক স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বলেছেন, “স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি দেখছি আমি। সরকারের নেতাদের একটা বড় অংশের একটা স্বাস্থ্যকর অতীত রয়েছে। সে কারণে বৃহত্তর স্বার্থে হয়তো তারা এ মুহূর্তে একমত হয়েছে”।