আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ০২, ২০২১

করোনাভাইসরাস: কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুটান

ভুটানে প্রথম করোনাভাইরাসের ঘটনা ধরা পরার পর বড় ধরনের কোন অর্থনৈতিক বিঘ্ন না ঘটলেও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সরকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি শুরু করে দিয়েছে।

রয়্যাল মনিটারি অথরিটির (আরএমএ) কর্মকর্তারা বলেন যে ভুটানে যদি অর্থনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয় তাহলেও তা চলতি মাসের শেষ নাগাদ হতে পারে।

এ নিয়ে গত ৮ মার্চ রাজার সভাপতিত্বে আরএমএ ও অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে।

সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. তানদি দর্জি বলেন, জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত ৫ মার্চ ভুটানে প্রথম একজন করোনা রোগী ধরা পড়ে। এরপর থেকে দেশটিতে দুই সপ্তাহের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মন্ত্রী বলেন যে, পর্যটকদের সাধারণত সাত দিনের জন্য ভুটানে আসার অনুমতি দেয়া হয়। ১৫ মার্চের মধ্যে ভুটানে আর কোন বিদেশী পর্যটক থাকবে না।

ফলে প্রথম গুরুতর আঘাতটি আসবে পর্যটন খাতের উপর। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কিছু এখনো চূড়ান্ত না হলেও পরিকল্পনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোন ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যেন বড় ধরনের আঘাত না লাগে সে লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক সাড়াদান পরিকল্পনা তৈরির জন্য একটি মাল্টি-সেক্টরাল টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

অর্থমন্ত্রণালয়, আরএমএ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, ভুটান চেম্বার, জাতীয় পরিসংখ্যান বুরো দেশের অর্থনীতির উপর এই রোগের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখছে।

শ্রমিকদের উপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব পড়তে পারে নির্মাণ শিল্পে। বিদেশী শ্রমিকদের বদলে স্থানীয় শ্রমিক নেয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১২তম পরিকল্পনার কার্যক্রম পরিবর্তন বা অগ্রাধিকার নতুন করে নির্ধারণ করা হবে কিনা সেটাও সরকার বিবেচনা করছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশ এখন অরেঞ্জ জোনে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার গ্রস ন্যাশনাল হেপিনেস কমিশন (জিএনএইচসি) ও রয়্যাল সিভিল সার্ভিস কমিশন (আরসিএসসি)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং দেশ যদি লাল জোনে প্রবেশ করে সে ব্যাপারে প্রস্তুতি নিতে বলেন।