আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

প্রবল বর্ষণে করাচি ডুবে যাওয়ার জন্য ডিএইচএ-সিবিসি দায়ি নয়

SAM SPECIAL-ENG-24-09-2020 (1)

পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে গত ২৭ আগস্ট মাত্র ১২ ঘণ্টায় ২৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় করাচি ৯০ বছরের মধ্যে একটি একক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গড়েছে। আর হাব ড্যামের পানির উচ্চতা ৩৩৮.৫ ফুট অতিক্রম করে, যা ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২০ সালের আগস্টেই করাচিতে ৪৮৪ মিলিমিটার (১৯ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি ও নালা ও ড্রেনগুলো থেকে পানি প্রধান প্রধান রাস্তা ও আবাসিক এলাকার সড়কগুলোকে প্লাবিত করলে জনসাধারণের জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়।

এর ফলে ২৭ আগস্ট ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। করাচির সাতটি এলাকার মধ্যে ছয়টিকেই দুর্যোগ-কবলিত এলাকা ঘোষণা করে সিন্ধু সরকারের ত্রাণ কমিশনার। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় করাচি ইস্ট ও মলির এলাকা। এই দুই এলাকার ৭০ ভাগ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ০.৩ ভাগ বাড়ি পুরোপুরি, ২৭ ভাগ বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব এলাকায় ১০ থেকে ৩৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

ভূমি উন্নয়নে দারুণ দক্ষতার পরিচয় দানকারী ডিফেন্স হাউজিং অথোরিটি করাচি (ডিএইচএ) দেশের অন্যান্য ডিএইচএ ও হাউজিং সোসাইটিতে মডেল হিসেবে কাজ করে সুনাম অর্জন করেছে। প্লট বরাদ্দ, হস্তান্তর, নিরাপত্তা কাজে তাদের নিরপেক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক নজিরবিহীন বৃষ্টির সময় ডিএইচএ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। কয়েক দিন ধরে বাড়াবাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় লোকজনের দুর্দশা আরো বেড়ে যায়।

বাড়ি নির্মাণে ডিএইচএ করাচি সব ধরনের কারিগরি ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করেছে। বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে গেলে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ক্লিফটন (সিবিসি) এই ছোট নগরীর অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করে মৌলিক স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। এসবের মধ্যে রয়েছে ক. রাস্তা সংরক্ষণ, খ. পানির ব্যবস্থা করা, গ. নিরাপত্তা, ঘ. নিষ্কাষণ ব্যবস্থা, ঙ.বৃক্ষরোপণ, চ. আবর্জনা পরিষ্কার করা, ছ. বেওয়ারিশ কুকুর সরিয়ে দেয়া, জ. ডিডিটি ছিটানো ইত্যাদি।

প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ডিএইচএর মাত্র ৫ ভাগ এলাকা আক্রান্ত হয়। আর করাচিতে হয় ৭০ ভাগ। প্রবল বর্ষণের কারণে ডিএইচএর কিছু কিছু এলাকায় পরিষেবা বিঘ্ন ঘটে। সিবিসি’র আওতায় থাকা মোট ৫১ কিলোমিটার এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে মাত্র এক বর্গ কিলোমিটার এলাকা ৪/৫ দিন সমস্যায় ছিল। বাকি এলাকা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিক করে ফেলা হয়।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সামান্য ওই এলাকাগুলোকেই হাইলাইট করে। মনে রাখতে হবে, পয়োনিষ্কাষণ ব্যবস্থা তৈরী করার সময় ৪৮ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টির সক্ষমতায় করা হয়েছিল। কিন্তু ২৭ আগস্ট মাত্র এক ঘন্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৩০ মিলিমিটার এবং চার ঘণ্টায় তা ছিল ২৩০ মিলিমিটার। অতিরিক্ত বর্ষণে বাড়তি চাপ পড়ে। 

ডিএইচএর অধিবাসীদের বুঝতে হবে যে পানির লাইনগুলো স্থাপন করা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। এখন যেখানে প্রয়োজন ৯ এমজিডি, সেখানে করা হয়েছিল মাত্র ৪ এমজিডি। ফলে পানির স্বল্পতা থাকাটাই স্বাভাবিক।

তবে ২০০৭/০৮ সময়কালে ওই সময়ের ডিএইচএ প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার কামরান কাজি পয়োনিষ্কাষণব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছিলেন। ফলে বর্ষায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু এখন সময় এসেছে পুরো ব্যবস্থা নতুন করে গড়ে নেয়ার।

এদিকে এক প্রাণবন্ত আলোচনায় সিপিএনই নির্বাহী কমিটি, ব্রিগেডিয়ার আবিদ আসকারি, স্টেশন কমান্ডার করাচি ও সিপিসি সভাপতি ও ব্রিগেডিয়ার আসিম প্রশাসক ডিএইচএ অধিবাসীদের স্বস্তি ও নিরাপত্তা বাড়াতে বাস্তবতার আলোকে পরামর্শ দিতে উৎসাহিত করেছেন। এখন কোর কমান্ডার ৫ কোর লে. জেনারেল হুমায়ুন আজিজের অধীনে তারা কাজ করছেন দেখতে পারাটা বেশ উৎসাহজনক। দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে করাচিকে আরো বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য কোর কমান্ডার লে. জেনারেল হুমায়ুন আজিজের প্রশংসা করা উচিত।

 

লেখক: প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক