আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী বছর সাবমেরিন-বিধ্বংসী হেলিকপ্টার পাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী

DEFENCE-ENG-06-08-2020-India-2-1

যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি লকহিড মার্টিনের কাছ থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৪টি সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধ হেলিকপ্টার কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জ্য ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে। তবে হেলিকপ্টারের সাথে যে অস্ত্র আসবে, সেগুলো এর আওতায় পড়বে না। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেক অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “সরকার ও সরকারী চুক্তির ক্ষেত্রে এটাই হলো প্রথম পদক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসন লকহিড মার্টিনকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে”। ওই কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেন, “আজ যেটা ঘোষণা দেয়া হলো, সেটা হলো মূলত অস্ত্র আর অন্যান্য সিস্টেম বাদ দিয়ে মূল হেলিকপ্টারের মূল্য”।

সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তিটি দেখাশোনা করছে মার্কিন নৌবাহিনী। তারা লকহিড মার্টিনকে বলেছে যাতে এগুলো সরবরাহের প্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর বহর থেকে তিনটি এমএইচ-৬০আর হেলিকপ্টার ভারতকে হস্তান্তর করা হয়েছে, যদিও সেগুলো এখনও সরবরাহ করা হয়নি। পাইলট ও অন্যান্য জনবলের প্রশিক্ষণের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে।

হেলিকপ্টারের ভূমিকা

এই হেলিকপ্টারগুলো দিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো সি কিং হেলিকপ্টারগুলো বদলে ফেলা হবে। এগুলো ১৯৭১ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে পেয়েছিল ভারত। সে সময় এই হেলিকপ্টারগুলো ভারত মহাসাগরে বিচরণশীল চীনা ও পাকিস্তানী যুদ্ধজাহাজকে শুধু চিহ্নিতই করেনি, বরং সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানেও অংশ নিয়েছে সেগুলো। 

আরও পড়ুনঃ ভারত কেন তার জরুরি অস্ত্র পাচ্ছে না

এই হেলিকপ্টারগুলো নেভাল স্ট্রাইক মিসাইলও (এনএসএম) নিক্ষেপ করতে পারবে, যে মিসাইলগুলো ডিজাইন করেছে কোংসবার্গ ডিফেন্স অ্যারোস্পেস, যাদের কারখানা রয়েছে নরওয়েতে। এই সিস্টেম ১৮৫ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে যুদ্ধজাহাজকে টার্গেট করতে পারে। 

বিশেষজ্ঞ অভিমত

ইন্ডিয়ান ম্যারিটাইম ফাউন্ডেশানের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমান্ডার অনিল জয় সিং (অব.) বলেছেন, ভারতের সাগরতলের যুদ্ধ প্রস্তুতির ব্যাপারে যে ঘাটতি রয়েছে, এই হেলিকপ্টার সেটা পূরণ করবে। এই হেলিকপ্টার শক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং ফ্লিট অপারেশানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে”।

সিকোর্সকি ম্যারিটাইম ও মিশন সিস্টেমের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান স্পুরের মতে, “ভারত যখন এই হেলিকপ্টারগুলো পাবে, তখন এই হেলিকপ্টারধারী চতুর্থ দেশ হবে তারা। অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক আর সৌদি আরবের এমএইচ-৬০আর রোমিও হেলিকপ্টার রয়েছে।