আমরা লাইভে English সোমবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২২

‘চীনের সাথে পাকিস্তান-স্টাইলে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অপেক্ষা করছে আফগানিস্তান’

DIPLOMACY-ENG-23-07-2020

আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি গড়ে তোলার জন্য চীন তাদের সুবিধাজনক অবস্থাকে কাজে লাগাতে পারে এবং চীনের সাথে পাকিস্তানের যে ধরণের সম্পর্ক রয়েছে, আফগানিস্তানও চীনের সাথে সে ধরণের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য অপেক্ষা করছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন চীনে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত জাভেদ কায়েম। 

“চীন এ অঞ্চলের একটি বড় খেলোয়াড় এবং অনেক দেশের সাথেই তাদের খুবই ভালো সম্পর্ক রয়েছে, যারা কোন না কোনভাবে আফগানিস্তানের ঘটনাপ্রবাহের সাথে জড়িত”, এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন যে, যে সব দেশের সাথে চীনের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের একটি হলো পাকিস্তান, এবং চীন এই সুবিধাটাকে কাজে লাগিয়ে আফগানিস্তানে অস্ত্রবিরতি ও শান্তি আলোচনার ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে। 

কায়েম উল্লেখ করেন যে, চীন-আফগানিস্তান-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং ত্রিদেশীয় ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কৌশলগত সংলাপের বিষয়টি আগেই চালু হয়েছে এবং এই মেকানিজমগুলো আফগানিস্তানে শান্তি ও সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই প্রচেষ্টাগুলোর আওতা আরও বাড়ানো যেতে পারে। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের আরেকটি সুবিধা হলো তালেবানদের সাথে তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং সে কারণে অস্ত্রবিরতিতে রাজি করানোর জন্য এই প্রভাবটাকে চীন কাজে লাগাতে পারে। 

তালেবানদের একটি প্রতিনিধি দল গত বছরের সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফর করেছে এবং চীনা কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করেছে। ওই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে আলোচনা বাতিল করার পর ওই সফরে যায় তালেবান প্রতিনিধিরা। 

ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ১৯ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার জন্য তালেবানদের সাথে শান্তি চুক্তি করে, যে চুক্তিকে আফগান সরকার ছিল না। এই চুক্তিতে বেসামরিক আফগান এবং শত শত মানুষের উপর হামলার  ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি এবং চুক্তির পরও যে হামলা অব্যাহত রয়েছে। 

কায়েম অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানান এবং তালেবান ও আফগান সরকারের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান যাতে শান্তি অর্জন করা যায়। তিনি জানান যে, সরকারের আলোচক টিম আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। 

তিনি বলেন, তালেবানদের সাথে আলোচনা সফলভাবে শেষ করার পরও আফগান সরকার আইসিস ও ইস্ট তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টসহ (ইটিআইএম) সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে। ইটিআইএম সন্ত্রাসী গোষ্ঠিটি চীন এবং আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয়া রয়েছে।