আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রের পতনকে ঠেকাতে পারবে না নতুন শীতল যুদ্ধ

EDITOR’S CHOICE-ENG-03-08-2020-2

চীনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কেন এত চরমভাবে বদলে গেছে?

এর মূল লুকিয়ে আছে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে। ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন-চীন সম্পর্ক যে নির্দোষ পথে হেঁটেছে, সেখানে বাধ সেঁধেছে আমেরিকার দুটো ধারণা। 

প্রথমত, চীন কখনও মার্কিন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে না; এবং দ্বিতীয়ত, চীনের উত্থান কখনই টেকসই হবে না, যদি না তারা পশ্চিমা স্টাইলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে। 

এই দুটো ধারণার কোনটাই সত্য হয়নি। 

হয়েছে ঠিক তার বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, চীনে হয়নি। এবং চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা খুবই সফল ও টেকসই প্রমাণিত হয়েছে। ২০০৮ সালে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়, তখন আমেরিকান শাসকশ্রেণীর মধ্যে যারা আগের চীন নীতির সমর্থক ছিলেন, তাদের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারকারীরা আস্তে আস্তে শাসকশ্রেণীর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। চীনকে ক্রমাগত আমেরিকান বৈশ্বিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে দেখা শুরু হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে চীনকে শত্রুজ্ঞান করা শুরু হয়। 

এটা যথেষ্ট স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈশ্বিক আধিপত্যের মধ্যে কোন হুমকি মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে এক নম্বর মনে করে এবং এটা তাদের ডিএনএ’র মধ্যে ঢুকে গেছে। কিন্তু এই মনোভাবটা টেকসই হতে পারে না। 

যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক দ্রুত পতনের দিকে যাচ্ছে। বিশ্বে আর একচেটিয়া আধিপত্য উপভোগ করতে পারবে না তারা। তবে, তারা নিজেদের কর্তৃত্বের অবনতির বিষয়টি স্বীকার করতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্র যে কোন মূল্যে অবশ্যম্ভাবী একটা বিষয়কে প্রতিহত করতে চায় বলে আমরা একটা বিপজ্জনক সময়ে প্রবেশ করেছি। 

সে কারণে বিশ্ব শান্তিকে আমরা এমনিতে মেনে নিতে পারছি না। শীতল যুদ্ধের পর বিশ্ব শান্তি প্রথমবারের মতো হুমকিতে পড়ে গেছে। কোভিড-১৯ সঙ্কট বৈশ্বিক ক্ষমতাকে আরও বড় পরিসরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কাছে নিয়ে যাবে, যতটা ২০০৮ সালের মন্দাতেও হয়নি। ফলে আমেরিকার প্রতিক্রিয়াটা হবে আরও বেপরোয়া। যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাস্তবতাটা মেনে না নেবে যে, চীনের সাথে তাদেরকে বৈশ্বিক শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটা ভাগাভাগি করতে হবে – ততক্ষণ বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুবই অস্থিতিশীল থেকে যাবে। আধিপত্যবাদী শক্তির অবনতি হওয়ার কারণে তাদের এই অবস্থা মেনে নেয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর থেকে ব্রিটেনের অবস্থা এর একটা উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একই সত্য প্রযোজ্য, কিন্তু সেটা ঘটছে অনেক নাটকীয় ও বিপজ্জনক পথে। 

আমরা এরই মধ্যে একটা নতুন শীতল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছি। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে নিয়ে প্রযুক্তি সবক্ষেত্রেই এটা ছড়িয়েছে। কূটনীতির ক্ষেত্রে দেখা গেছে হিউসটনের চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এমনকি চীনের বিরুদ্ধে নতুন শীতল যুদ্ধ ঘোষণার মতো কথাবার্তা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে বহু সংঘর্ষের ফ্রন্ট খুলেছে। 

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ট্রাম্পের পদক্ষেপের ব্যাপারে আগাম অনুমান করা যাচ্ছে না কিছু। নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে ট্রাম্প কোন কিছু করাই বাদ রাখছেন না। তাই যে কোন কিছু ঘটে যাওয়া সম্ভব। 

এই শীতল যুদ্ধটা আগের মার্কিন বনাম সোভিয়েত ইউনিয়নের শীতল যুদ্ধের মতো হবে না। পুরনো শীতল যুদ্ধকালে, দুটো দেশই কার্যত সম্পূর্ণ ভিন্ন বিশ্বে অবস্থান করেছে। তাদের মধ্যে খুব সামান্যই যোগাযোগ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এখন চেষ্টা করছে অর্থনৈতিকভাবে চীনকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলতে, কিন্তু সেটা তাদের সামর্থের মধ্যে নেই।