আমরা লাইভে English শনিবার, এপ্রিল ০১, ২০২৩

পরিত্যাক্ত জাহাজ ভাঙায় আবারও শীর্ষে বাংলাদেশ

পরিত্যাক্ত জাহাজ ডাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে আবারও বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ। গ্লোবাল কোয়ালিশানের মতে ২০১৯ সালে ২৩৬টি জাহাজ এখানে ডাম্পিং করা হয়েছে।

তাছাড়া দুর্ঘটনার দিক থেকেও ২০১০ সালের পরে স্থানীয় ইয়ার্ডগুলোর সবচেয়ে খারাপ সময় গেছে গত বছর। এ বছর জাহাজ ভাঙতে গিয়ে কমপক্ষে ২৪ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছে।

৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও শিপব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম (এনএসপি) যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটা অনুযায়ী ২০১৯ সালে জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলোর কাছে মোট ৬৭৪টি সমুদ্রগামী বাণিজ্যিক জাহাজ ও অফশোর ইউনিট বিক্রি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ২৩৬টি হাজার বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছে, যেটা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

২০১৮ সালে, সারা বিশ্বে যে ৭৪৪টি জাহাজ পরিত্যাক্ত হয়, এর মধ্যে ১৮৫টি জাহাজ ভাঙা হয় বাংলাদেশে।

সারা বিশ্বে যে ভাবে জাহাজ ভাঙা হচ্ছে এবং সেখানে মানুষের অধিকার যেভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে ও যেভাবে পরিবেশের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সেটা প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মিলিত জোট এনএসপি।

এনএসপির নির্বাহী পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠাতা ইংভিল্ড জেনসেন বলেন, “যে সব পরিত্যাক্ত জাহাজে বিষাক্ত দ্রব্যাদি থাকে, তাদের পছন্দের গন্তব্যের মধ্যে এখনও বাংলাদেশ শীর্ষে”।

তিনি আরও বলেন, এভাবে জোয়ারের কাদামাটির মধ্যে জাহাজ ভাঙার যে নোংরা ও বিপজ্জনক চর্চা চলে আসছে, সেটার মারাত্মক ক্ষতি সম্পর্কে সবারই ধারণা রয়েছে। এর পরও জাহাজ ভাঙ্গার ক্ষেত্রে একমাত্র মুনাফার দিকটাই দেখেন অধিকাংশ জাহাজ মালিকরা।

এনএসপি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, গত বছরে জাহাজ ভাঙতে দিয়ে সারা বিশ্বে ২৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এবং এর মধ্যে ২৪ জনই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতীয় ইয়ার্ডগুলোতে নিহতের সংখ্যা জানা না গেলেও স্থানীয় সূত্র ও মিডিয়াগুলো নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডগুলোতে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এই শিপইয়ার্ডগুলো নিরাপদ পরিবেশে কাজ করছে বলে দাবি করা হলেও ইইউ অনুমোদিত জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ডের তালিকায় তারা জায়গা করে নিতে পারেনি।

৬৭৪টি জাহাজের মধ্যে ৪৬৯টি বড় ট্যাঙ্কার, বাল্কার, ভাসমান প্ল্যাটফর্ম, কার্গে ও যাত্রীবাহী জাহাজ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত আর পাকিস্তানের তিনটি মাত্র সৈকতে। ২০১৯ সালে সারা বিশ্বে যে ওজনের জাহাজ ভাঙ্গা হয়েছে, এগুলো তার ৯০ শতাংশ।

এতে বলা হয়েছে যে, গত বছর শিপব্রেকিং শিল্প সারা বিশ্বে ১৩,৫১৪,৪৫৮ টনের জাহাজ ভেঙেছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই ভাঙা হয়েছে ৭,৮৪৯,৫৬৯ টন।

অন্যদিকে, ভারত গত বছর মোট ২০০টি পরিত্যাক্ত জাহাজ আমদানি করেছে, যেগুলোর ওজন ৩,৬৬৫,৯৬৩ টন। ২০১৮ সালে ভারতে ভাঙা হয়েছিল ২৫৩টি জাহাজ।

এছাড়া ২০১৯ সালে তুরস্ক ১০৭টি জাহাজ ভেঙ্গেছে। এর পর যথাক্রমে পাকিস্তান ৩৫টি, ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও চীন ২৯টি করে জাহাজ ভেঙেছে।