আমরা লাইভে English রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

চীন-মালদ্বীপ সম্পর্ক: নতুন যুগ, নতুন দর্শন ও নতুন ধরনের উন্নয়ন

FOCUS-ENG-18-11-2020-1

সদ্য সমাপ্ত ১৯তম সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির ৫ম প্লেনারি সেশন ছিল চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) প্রণয়নের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এটা করা হয় জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হাসিলের জন্য। 

পিআরসি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চীনা সরকার পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে যাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত গৃহীত ১৩টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেছে।

সিপিসি চীনের সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়নের জন্য দুটি সেন্টেনারি গোল প্রস্তাব করেছে এবং দুই মেয়াদে দ্বিতীয় সেন্টেনারি গোল হাসিলের জন্য কৌশলগত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে। এটি হলো ২০৩৫ সাল নাগাদ চীনের সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন বাস্তবায়ন এবং চীনকে একটি মহান আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশে পরিণত করা যা ২১ শতকের মধ্যভাগে হবে সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিকভাবে উন্নত, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সুন্দর।

১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সব ক্ষেত্রে ব্যাপকভিত্তিক আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠার যাত্রায় গতিশীলতা আনবে এবং প্রথম সেন্টেনারি গোল অর্জনের পর দ্বিতীয় সেন্টেনারি গোলের দিকে যাত্রা শুরু করবে। ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পরবর্তী ৫ বছরের জন্য চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।

সিপিসির নেতৃত্বে চীনের সব ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ সমাজ নির্মাণে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে চীন সরকার ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পেরেছে, গুরুত্বপূর্ণ সব লক্ষ্য হাসিল করতে সক্ষম হয়েছে। এসব অর্জন চীনের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে।

এই সভায় চীনের ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য দুটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য হলো চীন উদ্ভাবনী, সুসমন্বিত, সতেজ, উন্মুক্ত ও অভিন্ন উন্নয়নের নতুন ধারণা সমুন্নত রাখা। এই পরিকল্পনায় উচ্চ মানের উন্নয়ন, গভীর সরবরাহ কাঠামো সংস্কার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, নতুন উন্নয়ন নক্সা প্রণয়ন করা যা দেশের ও বিদেশী বাজারগুলো একে অপরকে চাঙ্গা করতে পারবে।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে চীন আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সুশাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও জনগণের সংস্কৃতি ও সামাজিক সভ্যতা বাড়ানো, প্রতিবেশগত সুরক্ষা, মৌলিক পরিষেবা, উন্নতর জীবন নিশ্চিত করা, সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

আগামী দিনগুলোতে চীন উচ্চতর পর্যায়ে উন্মুক্ত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াবে, পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করবে। বৈশ্বিক পরিচালনা কাঠামো সংস্কারের জন্য বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের উচ্চ মান নিশ্চিত করবে।

আগামী দিনগুলোতে চীন হবে শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা, পারস্পকি কল্যাণের পতাকা। দেশটি শান্তি ও পারস্পরিক কল্যাণের নীতিতে অটল থাকবে, উইন-উইন ফলাফল কামনা করবে, জাতিসঙ্ঘ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে।

আগামী দিনগুলোতে মালদ্বীপসহ সব দেশের সাথে উন্নয়ন ও কল্যাণের অভিন্ন সুযোগ সৃষ্টি করতে আগ্রহী চীন। বিশ্ব থেকে উন্নয়নের গতিশীলতা গ্রহণ করবে চীন। চীনের উন্নয়ন বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হোক।