আমরা লাইভে English রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ভারতের অবৈধ এলএসি অতিক্রম বন্ধে দরকার কঠোর সামরিক প্রতিরোধ

sam special 2020-09-18 070635

ভারতকে আমরা বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী বলি। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি বড় দেশ, তাদের ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যা রয়েছে এবং বিশ্বের একটা অন্যতম উদীয়মান বাজার অর্থনীতির দেশ এটা। সত্যি বলতে কি, ভারতের সাথে বন্ধুত্বের জন্য বহু দশক ধরে ধৈর্য ধরেছে চীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ভারতের সাথে সার্বিক ও বাস্তবমুখী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে অনেক বেশি মনোযোগ দিয়েছে। 

২০১৮ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চীনের উহানে আমন্ত্রণ জানান, যেখানে দুজনের মধ্যে প্রথম অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। ২০১৯ সালে, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের চেন্নাই সফর করেন এবং নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। নতুন কূটনৈতিক আমেজ নিয়ে চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে চীন এবং দুই পক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ে সম্মতিতে পৌঁছেছে। 

চীন-ভারত সম্পর্ক ২০১৭ সালের ১৮ জুনের দোং লাং গ্রামের অচলাবস্থার আঘাত মাত্র কাটিয়ে উঠেছে, এরপর ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় মারাত্মক সংঘর্ষ হলো। তীব্র শীতের উচ্চ এলাকায় যেখানে ২০ ভারতীয় সেনার করুণ মৃত্যু হয়েছে। 

কিন্তু ভারত এখান থেকে কোন শিক্ষা নেয়নি এবং অবৈধভাবে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) অতিক্রম করা অব্যাহত রেখেছে। যেটার কারণে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং সীমান্ত উত্তেজনা একটা নতুন মাত্রায় চলে যাচ্ছে। 

৩১ আগস্ট ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে এলএসি অতিক্রম করে বাংগোং লেকের দক্ষিণ তীরে রেকিন পাস এলাকায় প্রবেশ করে এবং চীনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করে। ৭ সেপ্টেম্বর, ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে এলএসি অতিক্রম করে ফাঁকা গুলি ছুড়ে চীনা ভূখণ্ডে টহলরত চীনা সেনাদের খোলামেলা হুমকি দেয়। ৪৫ বছর ধরে চীন-ভারত সীমান্তে বন্দুক ব্যবহার না করার যে রেকর্ড চলে আসছিল, এর মাধ্যমে তারা সেটা ভঙ্গ করে। ১৯৯৩ ও ১৯৯৬ সালে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, সেগুলো সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে তারা। এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে যে সব বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে, সেগুলোও ভঙ্গ করেছে তারা। এর পরিণতি খুব ভয়াবহ হতে যাচ্ছে। 

চীনা ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্যে ভারতীয় সেনারা অবৈধভাবে এলএসি অতিক্রম করা অব্যাহত রেখেছে, আর সে কারণে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়ছে। একই সাথে, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আর কূটনীতিক ও সামরিক পর্যায়ে চীন আর ভারতের মধ্যে আলোচনা চলছে। ৪ সেপ্টেম্বর চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়ে ফেঙ্গে আর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মস্কোতে বৈঠক করেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মস্কোতে বৈঠক করেন এবং পাঁচ দফার ব্যাপারে সম্মতিতে পৌঁছান। 

এটা বোঝা কঠিন যে, কেন এতগুলো উচ্চ পর্যায়ের সম্মতির পরও কাজ হচ্ছে না, এবং কেন সীমান্ত এলাকা এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। সামরিক বাহিনী মুখোমুখি হলে নতুন সঙ্ঘাত সৃষ্টি হবে বা এমনকি যে কোন সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। 

ভারতীয়দের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে চীনাদের উচিত তাদেরকে বোঝা। কিছু ভারতীয় খুবই অদ্ভুত। বহু দশক ধরে ভারতীয়দের সাথে বিনিময় থেকে আমার দুটো ধারণা হয়েছে: কিছু ভারতীয় আছে যারা সবসময় ‘সব নাও, কিছুই দিও না’ নীতিতে বিশ্বাস করে। আর সে কারণেই, যত বেশি তারা নিতে চায়, তত বেশি তারা হারায়। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো প্রায় ২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের কারণে কিছু ভারতীয়ের মধ্যে দাসের জিন রয়ে গেছে এবং পশ্চিমাদের তারা ভক্তি নিয়ে পূজা করে। চীনাদের ব্যাপারে তারা খুব একটা মনোযোগ দেয় না, যারা তাদের পাশেই রয়েছে। 

এক চীনা ব্যক্তিকে নিয়ে একটি গল্প রয়েছে, যে আরেক ভারতীয়ের সাথে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিল। ভারত তাকে নিচু দৃষ্টিতে দেখতো এবং সবসময় তাকে মানসিক নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে বেপরোয়া হয়ে ওই চীনা ব্যক্তি ভারতীয়কে ঘুষি মেরে ফেলে দেয় এবং তাকে ভালমতো পিটুনি দেয়। ভারতীয় বুঝতে পারে যে, চীনা ব্যক্তিটি কতটা শক্তিশালী, সে উঠে দাঁড়ায়, কাপড় থেকে ধুলি ঝেড়ে ফেলে, এবং চীনা ব্যক্তিকে শ্রদ্ধার সাথে স্যালুট দেয়। এর পর থেকে দুজন খুব ভালো বন্ধু হয়ে যায়। 

ভারতের সাথে বন্ধুত্বের জন্য চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এর মধ্যে ১৯৬২ সালে আত্মরক্ষামূলক পাল্টা হামলাও রয়েছে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধ ভারতকে শুইয়ে দিয়েছিল এবং এরপর চীন-ভারত সীমান্তে ৫৮ বছর ধরে শান্তি আর স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। 

৪ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সাথে বৈঠকে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গে জোরালোভাবে বলেছেন: চীন ভূখণ্ড হারাতে পারে না, আর জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য চীনা সামরিক বাহিনী পুরোপুরি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সক্ষম এবং আত্মবিশ্বাসী। 

মনে হচ্ছে প্রশ্রয় দেয়া আর সহিষ্ণুতা দেখানো ভারতের জন্য প্রযোজ্য নয়। চীন আর ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার সাধারণ প্রবণতা বজায় রাখার জন্য, এবং দুই দেশের সীমান্তে শান্তি আর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য, আমাদেরকে পুরোপুরি সামরিক প্রস্তুতি নিতে হবে। ভারতের সাথে আমাদের সেই ভাষায় কথা বলতে হবে, যে ভাষা ভারতীয়রা বোঝে। শক্তিশালী সামরিক প্রতিরোধ ছাড়া, ভারতীয় সেনারা চীনা ভূখণ্ড দখলের জন্য অবৈধভাবে এলএসি অতিক্রম করা বন্ধ করবে না। 

 

চেং শিঝোং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাণ্ড ল’-এর ভিজিটিং প্রফেসর, চারহার ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে।