আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

আসামে গ্যাস কূপে বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি

ISSUE-4-ENG-09-06-2020-Assam

ভারতে কোভিড-১৯ মহামারীর বিস্তারের মধ্যেই ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে একটি গ্যাসের কূপে ফাটল বন্ধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার, যে ফাটলের কারণে এরই মধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

২৭ মে আসামের পূর্বাঞ্চলের বাগজানে সঙ্ঘটিত বিস্ফোরণে একটি গ্যাস কূপ থেকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস বের হতে শুরু করে। 

কিন্তু বিস্ফোরণের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরেও এখনও ‘নিয়ন্ত্রণহীনভাবে’ গ্যাস বের হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাটি বাধ্য হয়ে ফাটল বন্ধের জন্য সিঙ্গাপুর ভিত্তিক একটি ফার্মের সহযোগিতা চেয়েছে। তিনজন বিশেষজ্ঞ সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যাস নিঃসরণ বন্ধের কাজ শুরু করেছেন। 

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ফাঁকা বুলি

ক্ষতিগ্রস্ত কূপের আশেপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় ২,৫০০ মানুষকে এরই মধ্যে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং তাদেরকে তিনটি আশ্রয় ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। 

রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওআইএল) এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তাদের তত্বাবধানে জন এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড এখানে কাজ করছে। ওআইএল তাদেরকে একটি কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে যদিও এমন গুঞ্জন রটেছে যে, কাজ করার সময়ে তারা কিছু নিয়ম কানুন লঙ্ঘন করেছে। 

বাগজান তেলক্ষেত্রটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেটি সমৃদ্ধ জীববৈচিত্রপূর্ণ এলাকা। এর একদিকে রয়েছে মাগুরি বিলের জলাভূমি, অন্যদিকে রয়েছে ডিবরু সাইখোয়া ন্যাশনাল পার্ক। ধারণা করা হয় যে, ৩০টির বেশি প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং প্রায় ৪০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে এই এলাকায়। অন্যদিকে জলাভূমি হলো অভিবাসী পাখীর স্বর্গরাজ্য যারা এই অঞ্চলে এসে জড়ো হয়। 

এ পর্যন্ত মাগুরি বিল থেকে নদীর একটি ডলফিনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, যে প্রজাতিটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আরও পাওয়া গেছে বহু বিপন্নপ্রায পাখি আর মাছের মৃতদেহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার গাছের পাতার উপরেও অমোচনীয় তেলের স্তর পড়েছে। এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে যে, জলাভূমিতে যে সব নদী গিয়ে পড়েছে, বিস্ফোরেণের কারণে সেই নদীগুলোও দুষিত হয়ে পড়েছে। 

আরও পড়ুনঃ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় 'রাম মন্দির' নির্মাণ শুরু ১০ জুন

গ্যাস বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা মাথাব্যাথা, চোখ জ্বলুনি, এবং নিঃশ্বাসের সমস্যার কথা জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর বাসিন্দারা ক্ষতিপূরণ এবং ওই এলাকার জীববৈচিত্র রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভও করেছে। 

বাগজানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে ঠান্ডা পানি ছেটানো হচ্ছে যাতে বিস্ফোরণ ঠেকানো যায় এবং যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না হয়। এর আগেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে। রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা বা তাদের কাছ থেকে নিয়ে চুক্তিভিত্তিতে কাজ করছে, এ রকম ফার্মগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

২০০৫ সালেও এ ধরণের বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সে সময় পাশের দিবরুগড় এলাকার দিকমে ওই ঘটনা ঘটেছিল। আগুন নেভানোর জন্য তখন দেশের বাইরে থেকে ফায়ার ফাইটারদের নিয়ে আসা হয়েছিল। তৎপরতা সফল হতে সে বার ৪৫ দিন লেগে গিয়েছিল। ততদিনে পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হয়ে গিয়েছিল।