আমরা লাইভে English শনিবার, মার্চ ০৬, ২০২১

যে কারণে আরেকটি পাক-ভারত যুদ্ধ হবে ভয়াবহ

ISSUE-2-ENG-31-08-2020-War

ইরান, চীন, ভারত আর আফগানিস্তানের মাঝখানে জটিল প্রতিবেশ আর বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। যে নয়টি দেশের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে পাকিস্তান একটি যারা তাদের সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় নিজেদের পারমাণবিক শক্তি আর নীতিমালার উত্তরণ অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তান এখন নিজস্ব ত্রিমুখী পারমাণবিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যেটা ভয়াবহ প্রতিশোধ হামলা চালাতে সক্ষম হবে। 

পঞ্চাশের দশক থেকে পাকিস্তান পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে আসছে, যখন থেকে ভারতের সাথে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু। ১৯৬৫ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো তার বিখ্যাত উক্তিতে বলেছিলেন, “ভারত যদি বোমা তৈরি করে, তাহলে আমরা ঘাস বা গাছের পাতা খাবো, এমনকি ক্ষুধার্ত থেকে হলেও নিজেদের বোমা তৈরি করবো”।

১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তান ভারতের কাছে হেরে যায় এবং পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে বাংলাদেশ হয়। তখন থেকেই পাকিস্তানের জন্য এই কর্মসূচি আরও অগ্রাধিকার পায়। ভারত ১৯৭৪ সালে ‘স্মাইলিং বুদ্ধা’ নামের বোমার পরীক্ষা চালায় এবং উপমহাদেশকে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার পথে ঠেলে দেয়। 

পাকিস্তান ঠিক কখন তাদের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি শেষ করে, সে বিষয়টি অস্পষ্ট। জুলফিকার ভুট্টোর মেয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট বেনজির ভুট্টো দাবি করেন যে, তার বাবা তাকে বলেছেন যে, ১৯৭৭ সালের মধ্যেই প্রথম অস্ত্র তৈরি করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের এক সদস্য জানান ১৯৭৮ সালে বোমার ডিজাইন চুড়ান্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালে বোমার ‘কোল্ড টেস্ক’ করা হয়। 

বেনজির ভুট্টো পরে দাবি করেছিলেন যে, পাকিস্তানের বোমাগুলো ১৯৯৮ সাল নাগাদ অ্যাসেম্বল না করেই রাখা হয়েছিল, যখন তিন দিনের মধ্যে ছয়টি বোমা পরীক্ষা করে ভারত। এর তিন সপ্তাহ পরেই পাকিস্তান দ্রুত পরীক্ষার সময় ঠিক করে এবং এক দিনে পাঁচটি বোমা পরীক্ষা করে এবং ষষ্ঠ বোমাটি পরীক্ষা করা হয় তিনদিন পর। 

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ধারণা করা হয়, ১৯৯৮ সালে তাদের পাঁচটি থেকে ২৫টি ডিভাইস ছিল। এই মুহূর্তে পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে প্রায ১১০টি থেকে ১৩০টি পারমাণবিক বোমা রয়েছে। ২০১৫ সালে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাণ্ড দ্য স্টিমসন সেন্টার যে হিসেব দেখায়, সেটা অনুসারে বছরে ২০টির মতো অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম পাকিস্তান। বর্তমান স্টকের সাথে মিলিয়ে হিসেব করলে পাকিস্তান সে ক্ষেত্রে দ্রুত তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হতে পারে। অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পাকিস্তান নিকট ভবিষ্যতে আর চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি ওয়্যারহেড তৈরি করতে পারবে। 

পাকিস্তানের পারমাণবিক নীতির উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে অধিক শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্যগতভাবে শত্রুতা চলে আসছে, যেটা উভয়ের মধ্যে অচলাবস্থাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। দুই দেশ বেশ কতগুলো যুদ্ধ করেছে, ২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ভারত ও চীনের মতো পাকিস্তানের ‘নো ফার্স্ট ইউজের’ কোন নীতি নেই। ভারতের কনভেনশনাল ফোর্সের বিরুদ্ধে বিশেষ করে স্বল্পমাত্রার ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রগুলো ব্যবহার করার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। 

পাকিস্তানের এই মুহূর্তে পারমাণবিক ত্রয়ী শক্তি রয়েছে। অর্থাৎ স্থল, বিমান ও সাগর থেকে তারা এটা ব্যবহার করতে সক্ষম। ইসলামাবাদ আমেরিকার তৈরি এফ-১৬এ জঙ্গি বিমানের আপগ্রেড করেছে যেগুলো পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। 

পাকিস্তান স্পষ্টতই একটা শক্তিশালী পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যেটা শুধু প্রতিরোধ শক্তিই বাড়াবে না, বরং পারমাণবিক যুদ্ধেও অংশ নিতে পারবে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও কাজ করছে পাকিস্তান, যেগুলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য হুমকি হতে পারে। পাকিস্তান আর ভারত স্পষ্টতই একটা পারমাণবিক প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে, যেটা অস্ত্রের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এটা পরিস্কার যে, উপমহাদেশের জন্য একটা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।