আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

ব্রহ্ম, আকাশ ও নির্ভয় ক্ষেপণাস্ত্র: চীনা হুমকি প্রতিরোধে ভারতের হাতিয়ার

DEFENCE-ENG-29-09-2020-India

চীনের জিনজিয়াং ও তিব্বত অঞ্চলে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ভারতের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্ম ক্রুইস ক্ষেপণাস্ত্র, ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার নির্ভয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান থেকে বিমানে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এসএএম) আকাশ, যা ৪০ কিলোমিটার দূরের হুমকিকে কুপোকাত করতে পারে।

চীনা বাহিনী দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার অস্ত্র ও দূরপাল্লার এসএএম মোতায়েন করেছে তিব্বত ও জিনজিয়াঙ অঞ্চলে। আর এগুলোর মোকাবেলায় ভারত সুপারসনিক ব্রহ্ম, সাবসনিক নির্ভয় ও আকাশ মোতায়েন করেছে। ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। চীনা মোতায়েন কেবল অধিকৃত আকসাই চিনেই সীমিত নেই, বরং সেইসাথে কাশগড়, হতন, লাসা ও নিয়াঙচিসহ ভারতের সাথে থাকা ৩,৪৮৮ কিলোমিটার জুড়ে থাকা সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে।

ভারতের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ব্রহ্ম বিমান থেকে বিমানে নিক্ষেপযোগ্য ও বিমান থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এর অগ্রভাগে থাকা ৩০০ কেজির বিস্ফোরক তিব্বত ও জিনজিয়াঙের এয়ারস্ট্রিপগুলোকে আঘাত হানতে পারে।

লাদাখ এলাকায় ব্রহ্ম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। এগুলা সু-৩০ এমকেআই জঙ্গি বিমানের মাধ্যমেও ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ভারতের কার নিকোবর এয়ার বেইজ ব্যবহার করে ভারত মহাসাগর থেকেও ব্রহ্ম ব্যবহার করা সম্ভব। ওই এয়ার বেইজে সু-৩০ এমকেআই মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মালাক্কা প্রণালী থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালী পর্যন্ত চীনা রণতরীর হুমকি প্রতিরোধে ওই বিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে এক সিনিয়র ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

নির্ভয় সাবসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র অবশ্য কম সংখ্যায় উৎপাদন করা হয়েছে। তবে এগুলো এক হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে পারে। এর অর্থ হলো, শত্রুর অস্ত্র নিক্ষেপের আগেই সেটি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

ভারতের আরেকটি বড় অস্ত্র হলো আকাশ এসএএম। লাদাখ সেক্টরে এটি পর্যাপ্ত সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। চীনা বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে এটি বেশ কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য লাদাখ এলাকায় পিএলএর জঙ্গিবিমানের কার্যক্রম এর মধ্যেই কমে এসেছে। তবে কারাকোরাম পাসের কাছে দৌলত বেগ ওলডিতে তাদের কার্যক্রম বেড়েছে।

আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র একসাথে ৬৪টি টার্গেটকে শনাক্ত করতে পারে এবং এর মধ্যে ১২টির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে। জঙ্গিবিমান, ক্রুইজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র- সবই সে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।