আমরা লাইভে English শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ফাঁকা বুলি

ISSUE-4-ENG-09-06-2020-IAF

সম্প্রতি লাদাখে চীন-ভারত সঙ্ঘাতের সময় ভারতের সশস্ত্র বাহিনীল সক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বোকাদের দিনে, ১৮৯৫ সালের ১ এপ্রিল, এখন থেকে ১২৫ বছর আগে ওই সময়ের উপমহাদেশের ব্রিটিশ শাসক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে। ইন্ডিয়ান আর্মি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানির অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা করা, প্রতিবেশী রাজ্যগুলো জয় করা, বিদ্রোহ দমন, স্থানীয়দের দমন করা, ব্রিটিশ শাসকদের মর্যাদা রক্ষা করা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দেখাশুনা করা ইত্যাদি।

ব্রিটিশদের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ইন্ডিয়ান আর্মি বর্তমান সময়ের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়। তবে মতাদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই থাকে। একই ধরনের প্রশিক্ষণ অব্যাহত থাকে, একই ঐতিহ্য বহাল থাকে। অধিকন্তু, এখন পর্যন্ত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রায় একই ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। গোয়া, সিকিম, হায়দরাবাদ, জুনাগর ও আরো কয়েকটি স্বাধীন রাজ্য তারা দখল করেছে। তারা এখনো আসাম, মাওবাদী বিদ্রোহী, নাগাল্যান্ড, কাশ্মির, শিখ ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তারা এখনো পাঞ্জাব, হরিয়ানা, আসাম, বিহার, কাশ্মিরে স্থানীয় লোকজন এবং মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, দলিত ও নিম্নবর্ণের হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদেরকে দমন করে যাচ্ছে।

বস্তুত, অবস্থার আরো অবনতি ঘটে যখন মুসলিমদেরকে সরিয়ে রেখে সশস্ত্র বাহিনীতে তাদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় না। অবশ্য, তারা কিছু আলংকারিক ভিত্তি দেয়, কিন্তু ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর থেকে কমান্ড, ক্ষমতা বা উচ্চ পদে মুসলিমদের রাখা হয় না। আবার ১৯৮০-এর দশকে শিখদের পবিত্রতম স্থান স্বর্ণমন্দিরে হামলার পর শিখদের বিরুদ্ধেও একই অবস্থান গ্রহণ করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীতে শিখদের আর বিশ্বাস করা হয় না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডে রাখা হয় না। সম্প্রতি ভারতীয় সেনাপ্রধান গুর্খাদের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন, তাতে গুর্খা রেজিমেন্টগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। গুর্খারা মূলত নেপালি। ব্রিটিশরা তাদেরকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ভর্তি করিয়েছে। তারা তারেদকে সেরা লড়াকু সৈনিক বিবেচনা করত। তারা সারা ভারতে গুর্খাদের মোতায়েন করেছিল, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও তাদের সারা দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। এখনো ভারতীয় সেনাবাহিনীতে তাদের বিরাট অংশ আছে এবং সাহসিকতার জন্য তারা পরিচিত। তা সত্ত্বেও ভারতীয় সেনাপ্রধানের লজ্জাজনক মন্তব্য তাদেরকে আহত করেছে। গুর্খাদের ব্যাপারে ভারত সরকারের নীতি কী হবে তাও অনিশ্চিত।

নিজেদের লোকদের দমন করার ব্যাপারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুখ্যাতিও ব্যাপকভাবে জানা বিষয়। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নিরপেক্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মানুষের ইতিহাসে ভারত সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। বিশেষ করে কাশ্মির, পাঞ্জাব, আসাম, বিহার, নাগাল্যান্ডে তাদের রেকর্ড সবচেয়ে খারাপ।

আরও পড়ুনঃ ইস্টার্ন লাদাখের এলএসি ঘিরে সক্রিয় চীনা চপার

কাশ্মির ও অন্য কয়েকটি রাজ্যে যুদ্ধাপরাধের জন্য ভারতের সামরিক ব্যক্তিদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। বস্তুত, আমি নিশ্চিত, আগে হোক আর পরে হোক, যুদ্ধাপরাধে জড়িততের শান্তি পেতেই হবে।

ভারতীয় বাহিনীতে বেতন, ভাতা, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদির দিক থেকে উচ্চ পদস্থ অফিসার ও সাধারণ সৈনিকদের মধ্যকার ব্যবধান বিপুল। নিম্ন পদের সৈনিকদের যে পোশাক, জুতা, খাবার দেয়া হয়, তা মর্মান্তিক। অস্ত্র ও গোলাবারুদ সেকেলে। যুদ্ধ-মেশিনগুলো অকার্যকর। অকার্যকর যুদ্ধ-মিশন নিয়ে বিক্ষুব্ধ সশস্ত্র বাহিনী সুসজ্জিত, সুপ্রশিক্ষিত, সুপরিচর্যায় থাকা চীনা বাহিনীর সামনে টিকতে পারবে না।

ভারত ও চীনের দুই বাহিনীর মেজর জেনারেল পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ে তথা লে. জেনারেল পর্যায়ে পরবর্তী আলোচনা হয়। লাদাখে ভারত ও চীনাদের মধ্যে সঙ্ঘাত নিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করতে জনসাধারণের সামনে আসছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় মিডিয়া চুপসে গেছে, বিষয়টি নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করছে না। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছুটা রক্ষণশীল, তারা যেকোনো ধরনের কড়া বিবৃতি প্রদান থেকে সংযত রয়েছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় মিডিয়া ও সশস্ত্র বাহিনীর আগ্রাসী মনোভাব চীনের ক্ষেত্রে বিলীন হয়ে গেছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে।