আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

প্রথমে অনুপ্রবেশকারী সেনাদের সরিয়ে নেবে ভারত: পাল্টাপাল্টি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা চীন ও ভারতের

ISSUE-1-ENG-14-11-2020-Border

সীমান্ত এলাকা থেকে পাল্টাপাল্টি সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে চীন ও ভারত। এর অংশ হিসেবে ভারত প্রথম পাংগোং সো লেকের দক্ষিণ পাশ থেকে তাদের অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী সেনাদের সরিয়ে নেবে। গ্লোবাল টাইমস এ তথ্য জানতে পেরেছে। 

সূত্র জানিয়েছে, ভারতকে প্রথমে পাংগোং সো লেকের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে নিতে হবে। চীন এরপর লেকের উত্তর পাশ থেকে সেনা সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে। 

সূত্র গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল এবং সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের যে অবস্থান রয়েছে, এই সেনা প্রত্যাহারের কারণে সেই অবস্থানের কোন পরিবর্তন হবে না। 

সূত্র জানিয়েছে, চীন সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সাথে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রেও তারা কোন ছাড় দেবে না। 

সিঙ্গুয়া ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইন্সটিটিউটের গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর কিয়ান ফেং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন যে, এই পরিকল্পনা ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত, কারণ ভারতীয় সেনারাই উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে আগে অনুপ্রবেশ করেছে এবং তারাই প্রথম পাংগোং সো লেকের দক্ষিণ প্রান্তে গুলি চালিয়েছে। 

এর আগে, ভারতীয় মিডিয়ায় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত প্রক্রিয়াসহ সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সূত্র গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছে যে, ভারতীয় মিডিয়ার তথ্য সঠিক নয়। 

টাইমস অব ইন্ডিয়া বৃহস্পতিবার জানায় যে, চীন ও ভারত পূর্ব লাদাখের পাংগোং সো লেক- চুশুল এলাকার সঙ্ঘাত পয়েন্ট থেকে সেনা, ট্যাঙ্ক, কামান ও সাঁজোয়া যান সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। 

একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় মিডিয়াটি বলেছে যে, দুই দেশের সেনাবাহিনী প্রস্তাবিত সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে “সুনির্দিষ্ট শর্তাদি এবং ধারবাহিক পদক্ষেপগুলো” এবং যৌথ পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছে এবং বিষয়টি চুড়ান্ত করছে। 

ভারতীয় মিডিয়ায় যে ‘সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনার’ কথা জানানো হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে: পিপলস লিবারেশান আর্মি পাংগোং সো লেকের উত্তর পাশে ফিঙ্গার ৪ অবস্থান থেকে ফিঙ্গার ৮ এ তাদের অবস্থানে ফিরে যাবে। ভারতীয় সেনারা তাদের অবস্থান ফিঙ্গার ২ আর ৩ এর মাঝখানে সরিয়ে আনবে। ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮ এর মধ্যবর্তী এলাকাতে কেউ টহল দেবে না। তিন দিন ধরে প্রতিদিন ৩০ শতাংশ করে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। 

টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও লিখেছে, আসন্ন তীব্র শীতে ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় মোতায়েন করা হাজার হাজার সেনাদের উপর যে প্রভাব পড়বে, সেটির কথা বিবেচনা করে সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে চীন আরও বেশি সম্মতিতে এগিয়ে আসছে। 

তবে গ্লোবাল টাইমস বৃহস্পতিবার জানতে পেরেছে যে, অষ্টম দফা কর্পস কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনায় ইতিবাচক অর্জন হয়েছে ঠিক, কিন্তু ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য ‘সঠিক নয়’।

সূত্র গ্লোবাল টাইমসকে জানায়, কিছু ভারতীয় মিডিয়া কিছুটা সত্য কিছুটা মিথ্যা মিশিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরতে পছন্দ করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে দেশে জাতীয়তাবাদকে চাঙ্গা রাখা। 

গ্লোবাল টাইমস জানতে পেরেছে যে, প্রথম সেনা প্রত্যাহার যদিও পাংগোং সো লেকের দক্ষিণ আর উত্তর অংশ থেকেই শুরু হবে, তবে কিভাবে এটা বাস্তবায়িত হবে এবং কত সংখ্যক সেনা সরিয়ে নেয়া হবে, এ বিষয়গুলো নিয়ে আগের বৈঠকগুলোতে আলোচনা হয়েছে। 

সূত্র গ্লোবাল টাইমসকে বলেছে যে, ভারতের সবসময় লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের ব্যাপারে অবাস্তব ধারণা রয়েছে এবং ইতিহাসকে তারা সবসময় অসম্মান করে এসেছে। তারা একতরফাভাবে মনে করে যে, ফিঙ্গার ৪ থেকে ৮ পর্যন্ত এলাকা তাদের টহল এলাকা এবং এই সব ধারণাকে ব্যবহার করে তারা আলোচনায় অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে। 

সূত্র বলেছে, “এই ধরণের ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভারতের কিছু মানুষ তাদের নীতি গ্রহণ করে থাকে”।