আমরা লাইভে English সোমবার, আগস্ট ০২, ২০২১

চীন-ভারত সীমান্তবিবাদ: উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ায় বৈঠকে বসেছেন দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা

ISSUE-2-ENG-03-09-2020-IC

বিতর্কিত সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনারা যখন নতুন করে মুখোমুখি হয়েছে, তখন রাশিয়ায় একসাথে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উয়ে ফেঙ্গে ও ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সাংহাই কোঅপারেশান অর্গানাইজেশানের (এসসিও) প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিবেন। 

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর আয়োজনে বৈঠকে অংশ নিবেন সিং ও উয়ে। তবে সম্মেলনের ফাঁকে ভারত আর চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কোন পরিকল্পনা নেই। ভারতের সরকারী সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতের ইকোনমিক টাইমস বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে। 

সিং বুধবার সকালে টুইটারে জানান যে, এসসিও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে তিনি মস্কো যাচ্ছেন। সিং জানিয়েছেন যে, ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট’ বিষয়ে তিনি শোইগুর সাথে বৈঠক করবেন, তবে চীন বা সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়ে তিনি কোন কথা বলেননি। 

এমন সময় এই বৈঠক হতে যাচ্ছে যখন ভারত আর চীন বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তের পাংগোং সো পয়েন্টে নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। জুনের মাঝামাঝি গালওয়ান উপত্যকায় দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এমনিতেই তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে। 

ভারত বলেছে যে, তারা চীনের ‘উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা’ রুখে দিয়েছে। অন্যদিকে চীন অভিযোগ করেছে যে, চীনের দাবিকৃত সীমান্তের মধ্যে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে ভারতীয়রা। 

পাংগোং সো এলাকায় অচলাবস্থার খবর পাওয়ার পর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে শান্ত হওয়ার এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। 

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, পাংগোং সো’র দক্ষিণ তীরে চীন নতুন করে ‘উসকানিমূলক তৎপরতা’ চালিয়েছে। স্থিতাবস্থা নষ্ট করার চীনা প্রচেষ্টাকে ভারত প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। 

ভারতীয় মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, টহল অভিযানকালে ল্যাণ্ডমাইন বিস্ফোরণে তিব্বত বংশোদ্ভূত এক ভারতীয় সেনা শনিবার নিহত হয়েছে এবং আরেকজন আহত হয়েছে। 

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বুধবার বলেছেন যে, দেশের সীমান্ত এলাকায় কোন ভারতীয় সেনা মারা যায়নি। তবে দ্য গার্ডিয়ান ও ভারতীয় মিডিয়া রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, কার দুর্ঘটনায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। 

ভারতীয় বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমানোর জন্য চুশুলে সোমবার বৈঠক করেছেন চীন ও ভারতের সামরিক নেতারা। চুশুল লাদাখ জেলার একটি গ্রাম। 

শিচুয়ান ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের চায়না সেন্টারের ডিরেক্টর সান শিহাই বলেন যে, যদিও এটা স্পষ্ট নয় যে, দুই দেশের মন্ত্রীরা মস্কোতে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করবেন কি না। তবু এসসিও সম্মেলনে তাদের একসাথে উপস্থিত থাকাটাও ইতিবাচক। 

তিনি বলেন যে, চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন এবং আট জাতির সমন্বয়ে গঠিত এসসিও’র অন্যতম অগ্রাধিকার হলো আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। 

সান বলেন, “উভয় দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা তাদের বিতর্কিত সীমান্ত বিবাদ নিয়ে কথা বলবেন এবং তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন বলে আশা করা হচ্ছে”।

ভারত গত সপ্তাহে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণ দেখিয়ে মস্কো আয়োজিত বহুপাক্ষিক সামরিক মহড়া থেকে বেরিয়ে আসে। বহুপাক্ষিক এই সামরিক মহড়ায় চীন ও পাকিস্তানও অংশ নিচ্ছে। 

ভারতীয় মিডিয়া সোমবার আরও জানিয়েছে যে, ১৫ জুনের ভয়াবহ সীমান্ত সঙ্ঘাতের পর দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে নয়াদিল্লী। 

জুনের সংঘর্ষের এক সপ্তাহ পরে এক ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে বসেছিলেন ভারত, চীন আর রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সে সময় বলেন যে, চীন ও ভারতের মধ্যে বিবাদের মধ্যস্থতা করবে না রাশিয়া। 

ভিডিও বৈঠকের বেশ কিছু দিন পর ওয়েই ও সিং মস্কো সফর করে সামরিক প্যারেড পরিদর্শন করেন, কিন্তু তারা দুজনে কোন সাক্ষাত করেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতন চলতি মাসে চীন সফর করতে পারেন। তবে এ ব্যাপারে কোন সময় নির্ধারণ করা হয়নি বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে।