আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

সীমান্ত ইস্যুতে ১৯তম বৈঠকে বসেছে চীন আর ভারত: চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

REPORT-2-ENG-01-10-2020-China

চীন আর ভারত সীমান্ত ইস্যুতে ১৯তম বৈঠকে বসেছে। সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের জন্য মস্কোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে পাঁচটি বিষয়ে সম্মত হন, সেগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে এই বৈঠকে মনোযোগ দেয়া হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। 

১০ সেপ্টেম্বর মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর পাঁচটি বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছান এবং বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়। 

ওয়াং এবং জয়শঙ্কর একমত হন যে, চীন এবং ভারতের উচিত দুই দেশের প্রধান যে সব বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, সেই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা। এর মধ্যে একটি বিষয় হলো মতবিরোধের বিষয়টি যাতে সঙ্ঘাত পর্যন্ত না গড়ায়। 

সীমান্তে চলমান সঙ্ঘাত দুই দেশের কারোরই কোন উপকার করছে না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী সেনাদের উচিত সংলাপ অব্যাহত রাখা, যত দ্রুত সম্ভব সেনা প্রত্যাহার, পরস্পরের থেকে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রাখা এবং বর্তমান উত্তেজনার নিরসন করা। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও একমত হন যে, পরিস্থিতি সহজ হওয়ার সাথে সাথে দুই পক্ষেরই উচিত হবে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানোর জন্য নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সেটাকে আরও সংহত করা। 

সীমান্তে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেখানেই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার পক্ষপাতি চীন। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতে শান্তি আর স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়, সে জন্য ভারতের সাথে কূটনীতিক ও সামরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতেও প্রস্তুত রয়েছে চীন। 

সাংহাই একাডেমি অব সোশাল সায়েন্সের ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশান্সের রিসার্চ ফেলো হু ঝিওং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন যে, মস্কোতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঐক্যমতে পৌঁছানোর পরও সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনারা সেই ঐক্যমতের বিষয়টি মানছে না, আর সে কারণেই উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি বলেন, “মস্কোতে পাঁচটি বিষয়ে ঐক্যমতের পরও উত্তেজনা নিরসনে ভারত প্রায় কোন পদক্ষেপই নেয়নি, বরং ওই অঞ্চলে সামরিক মোতায়েন আরও জোরদার করেছে তারা”।

ভারত বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভারত সম্ভবত অপেক্ষা করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কখন পশ্চিম প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের উপর চাপ আরও বাড়াবে। নয়াদিল্লী শিগগিরই তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে চায় না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন চালায়, তাহলে চীনকে হয়তো ছাড় দেয়ার ব্যাপারে চাপ দিতে পারবে ভারত”।

ওই বিশেষজ্ঞ গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, চীন একতরফাভাবে উত্তেজনা বাড়াবে না এবং উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলোচনা চালিয়ে যাবে। কিন্তু কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সেটা মোকাবেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে চীনের সামরিক বাহিনী।