আমরা লাইভে English বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

তিব্বত সীমান্তের নিরাপত্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি’র নজর

REPORT-2-ENG-31-08-2020-Tibbet

তিবব্বতের ব্যাপারে দেশের শীর্ষ কমিটির বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সীমান্ত প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল, সরকার ও সামরিক নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন শি। পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে লাগোয়া এই অঞ্চলের জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

বেইজিংয়ে শনিবার সমাপ্ত তিব্বত বিষয়ক সপ্তম কেন্দ্রিয় সিম্পোজিয়ামে বক্তব্য রাখেন শি। তিব্বত নীতি বিষয়ে চীনের এটাই সর্বোচ্চ ফোরাম। ২০১৫ সালের পর দুই দিনব্যাপী সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হলো।

পরে সিনহুয়ার আরেক রিপোর্টে, স্থিতিশীলতা রক্ষার মাধ্যমে একটি দুর্ভেদ্য গড়ে তোলা ও তিব্বতের সব জাতিগত গ্রুপের মধ্যে ঐক্য জেরাদার করার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জনগণকে শিক্ষিত করার ব্যাপারে শি’র বক্তব্যের উপর জোর দেয়া হয়।

ভারতের সঙ্গে চীনের যে দীর্ঘ ও অচিহ্নিত সীমান্ত রয়েছে তার বেশিরভাগ অংশ তিব্বতের সঙ্গে। এই সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় সম্প্রতি দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াইয় হয় এবং এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত ও অজ্ঞাত সংখ্যক চীনা সেনা হতাহত হয়। 

ওই সংঘাতের পর থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

এমন এক সময় তিব্বত সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে চীনের বিরোধ চলছে। বিভ্রান্তি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায় চীন।

বৈঠকে কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দিয়ে শি বলেন, আদর্শিক ও শৃঙ্খলাজনিত যুদ্ধে জয়ী হওয়া এবং বড় ঝুঁকিগুলো প্রতিরোধের জন্য নিরঙ্কুশ আনুগত্য প্রয়োজন।

চীন বহুদিন ধরে তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার প্রভাব খর্ব করতে তৎপরত। শি বলেন, তিব্বতের বৌদ্ধবাদকে সমাজতন্ত্র ও চীনা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং ঐক্য জোরদার করতে রাজনৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা জোরদার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, তিব্বতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান জোরদার করার জন্য বড় আকারের অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ শুরু করা হবে। এ জন্য তিব্বতের অধিবাসীদের সাহায্য করতে প্রতিবেশী সিচুয়ান, ইউনান, গানসু ও কুইংঘি প্রদেশকে বলা হবে।

সমাবেশ থেকে প্রেসিডেন্টের প্রতি কুইংঘি-তিব্বত উপত্যকার পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে আরো গবেষণা করার আহ্বান জানানো হয়।

চলতি মাসের গোড়ার দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি তিব্বত ও বিতর্কিত সীমান্ত এলাকা সফর করেন।

তখন ওয়াং বলেছিলেন যে চীনের সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে  তিব্বতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কেন্দ্রিয় গুরুত্ব বহন করে।

গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, যেসব চীনা কর্মকর্তা তিব্বতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং সেখানে কূটনীতিকদের যেতে দিচ্ছে না তাদেরকে মার্কিন ভিসা দেয়া হবে না।

শনিবারের বৈঠকে পলিটব্যুরো, সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও বিচারবিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তিব্বত ও প্রতিবেশী প্রদেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।