আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

উত্তরপ্রদেশে তরুণী নির্যাতন: বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ভারতের দলিতেরা

REPORT-4-ENG-03-10-2020-India (1)

‘তোমরা হুকুম তামিল ছাড়া আর কি-ই বা করবে! বাড়িতে মা বিটির কাছেও তো জবাব দেওয়ার নেই। তোমরা তো ঠাকুর। যোগীর হুকুম তো মানতেই হবে!’

হাথরসের বুল গড়হী গ্রামের ঢোকার কাঁচা-পাকা রাস্তা যেখানে শুরু হচ্ছে, সেখানেই ব্যারিকেড দিয়ে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ প্রশাসনের প্রাচীর তৈরি হয়েছে ৪৮ ঘণ্টা হল। সশস্ত্র রাইফেলধারীদের রক্তচক্ষু-- উপস্থিত মিডিয়া, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতি। ভিতরে ঢুকতে না-পারলেও, আশপাশের দলিত গ্রাম থেকে এসে ভিড় জমাচ্ছেন ক্ষয়াটে চেহারার ম্লান মুখ। পুলিশ এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ ভাবেই শাপশাপান্ত এবং বিষোদ্গার করছেন। গতকাল বিকেলের দিকে এই ভিড়কে শান্ত করতে লাঠিও চালাল পুলিশ।

না, এঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী নন। নির্যাতিতা তরুণীর লাশ নিয়ে রাজনীতি করতেও আসেননি। এঁরা উত্তরপ্রদেশের দলিত সম্প্রদায়েরই অংশ, যাঁরা দৃশ্যতই গত কয়েক বছরে পীড়িত এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন বিজেপি-র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত হাথরস শুধু একটা মানব-ট্রাজেডি বা রোগী আদিত্যনাথের সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়। এই ঘটনা চোখে আহুল দিয়ে তুলে ধরছে, উত্তরপ্রদেশ তথা গোটা দেশে বিজেপি-র রাজনৈতিক ব্যর্থতাকেও।

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, বাইশের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে, হাথরস একটি প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু বিজেপি-র প্রতি দলিত সম্প্রদায়ের ঘৃণার যে ছবিটা স্পষ্ট হয়ে উঠছে, তাকে কাজে লাগাতে আপাতত ঝাঁপিয়ে পড়েছেন রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা বঢরা। বৃহস্পতিবার গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে রাহুলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধ্বস্তির পর শুক্রবার প্রিয়ঙ্কাকে দেখা গিয়েছে দিল্লীতে প্রাচীন ভগবান বাল্মিকী মন্দিরে গিয়ে হাথরসের নির্যাতিতার জন্য প্রার্থনা করতে। প্রার্থনাসভায় বসেই তিনি নারী এবং দলিত— এই দুই অস্ত্রে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ওই দলিত পরিবারের উপর প্রবল অন্যায় হয়েছে। সরকারের কোনও সহায়তাই নেই, তারা অসহায়। আমি এসেছি তাঁদের জন্য প্রার্থনা করতে। দেশের প্রতিটি নারীর উচিত সরকারের উপর চাপ তৈরি করা।’ 

কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘বিজেপি মুসলিমদের উপরে নিপীড়ন করলে ভোটের অঙ্কে তাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু দলিত নিপীড়নের ঘটনায় তাদের রাজনৈতিক লোকসানই বেশি। হাথরস-সহ পরপর দলিত নারী নির্যাতনের ঘটনার দায় তারা আড়াল করার চেষ্টা করছে। এর ফল মোদী-জোগীকে ভুগতে হবে। আমরা ছাড়ব না, লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।’

জাতপাত নির্বিশেষে  দলিত, পিছড়ে বর্গ, জনজাতি-সহ সমস্ত বর্ণের হিন্দুকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার যে কৌশল নিয়েছিলেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব, তাতে ফাটল ধরেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবির। আর এই ফাটলের জন্য ঘরোয়া ভাবে উত্তরপ্রদেশের ঠাকুর সম্প্রদায়ভুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই আঙুল উঠছে। শুধু দলিত নয় উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদেরও বেজায় চটিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর এনকাউন্টারের নিশানায় ব্রাহ্মণেরা— এই অভিযোগ উঠছে। পরিস্থিতি এমনই যে, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক, নেতারাও ঠারেঠোরে হাথরস কাণ্ডের জন্য যোগী সরকারকেই দোষ দিচ্ছেন। অন্য দিকে উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতৃত্বও যোগীর ঠাকুর পরিচয়কে বেশি করে তুলে ধরার জন্য তাঁর পুরনো নাম অজয় সিংহ বিস্ত বলে ডাকতে কসুর করছেন না।

অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথ ক্ষমতায় আসার পরে দলিতদের উপরে শুধু যে নির্যাতন বেড়েছে তা নয়, সমস্ত প্রশাসনিক এবং সামাজিক গোষ্ঠীতেও তারা কোণঠাসা হয়েছে। সুযোগসুবিধা অনেক বেশি পেয়েছে ঠাকুরেরা।

পাশাপাশি, হাথরসের ঘটনার পরে একদা দলিতদের মসিহা মায়াবতী অথবা এসপি-র অখিলেশ সিংহ যাদবের মতো বিরোধী নেতাদের কিন্তু সক্রিয় ভাবে ওই গ্রামের ধারে কাছে দেখা যায়নি। বিএসপি নেতারা তো আজ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই ঘেঁষেননি (শুধু মায়াবতী ঠান্ডা ঘরে বসে যোগী-বিরোধী একটি বিবৃতি দিয়েছেন)। এসপি-র যে সব নেতা ধর্নায় বসেছেন, তাঁরা গুরুত্বের বিচারে দলে একবারেই নগণ্য। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রক্তচক্ষুর কারণেই মায়াবতী-অখিলেশরা এ ভাবে গুটিয়ে রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, উত্তরপ্রদেশের দুই বিরোধী দলের এই সক্রিয়তার অভাবেই মৌরসীপাট্টা গড়ে তুলতে পেরেছে বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বস্তরের হিন্দুকে এক মঞ্চে নিয়ে আসার তে প্রয়াস বিজেপি করছিল, তাতে ফাটল ধরা অবশ্যম্ভাবীই ছিল। ভোটের তাগিদে নরেন্দ্র মোদী যতই দলিত-পিছড়ে বর্গদের কাছে টানার চেষ্টা করুন, যতই অম্বেডকরকে নিজের আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করুন, তাঁর দল চিরকালই ব্রাহ্মণ-বানিয়ার, উচ্চবর্ণের, উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্তের। রোহিত ভেমুলার আত্মহত্যা থেকে উনা-কাণ্ড, গত কয়েক বছরে বহু বার প্রমাণ হয়েছে, বিজেপির কাছে নিম্নবর্গের গুরুত্ব ভোটের চেয়ে বেশি নয়। আবার এটাও বলা হচ্ছে যে, আরএসএস দলিতদের তার বৃহৎ হিন্দুত্বের অংশ হিসেবেই দেখতে বা দেখাতে চায় ঠিকই, মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের দলে টানতেও চায়। কিন্তু যেখানে দলিত রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মনুবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, সেখানে আরএসএস-এর মতো আন্তরিক ভাবে মনুবাদী দলে তাদের মিশ খাওয়ার সম্ভাবনাও দীর্ঘমেয়াদি ভাবে অসম্ভব।

‘খবর’ রুখতে মরিয়া উত্তরপ্রদেশের পুলিশ

‘ফেক নিউজ’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ১০৫টি এফআইআর করা হয়েছে। বিভিন্ন শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬ জনকে। দলিত তরুণীর ধর্ষণ নিয়ে কোনও সাংবাদিক টুইট করলেই যোগী আদিত্যনাথ সরকারের তথ্য-জনসম্পর্ক দফতরের অধিকর্তা শিশির সিংহ ‘ফেক নিউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’-র কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন এ ভাবেই। তার পর সে পথে হাঁটতে শুরু করে হাথরস থানা। বলরামপুরেও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় বলরামপুর থানা থেকে একই ভাবে ‘সাবধান’ করা শুরু হয়।

সাবধানের মার নেই। তাই আজ যোগী সরকারের পুলিশ হাথরসের নির্যাতিতার পরিবার ও গ্রামের লোকেদের মোবাইল কেড়ে নেয়, যাতে তাঁরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না-পারেন। শুধু যোগী সরকার নয়, কেন্দ্রের মোদী সরকারের শীর্ষ স্তর থেকেও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক সংবাদমাধ্যমকে ‘সতর্ক’ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বার্তা স্পষ্ট। হাথরসের ঘটনা নিয়ে যেন বেশি ‘বাড়াবাড়ি’ না-করা হয়!

বৃহস্পতিবার থেকেই গ্রামে ঢোকার রাস্তা সাংবাদিকদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গ্রামের অনেক আগেই বসেছিল পুলিশের ব্যারিকেড। শুক্রবার পুলিশ সরাসরি জানিয়ে দেয়, বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত গ্রামে সংবাদমাধ্যমের ঢোকা বারণ। হাথরসের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রকাশ কুমার বলেন, ‘‘সিট-এর তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের উপরে এই বিধিনিষেধ থাকবে। বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাচাই করে বাইরের কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’’

শুক্রবার এবিপি নিউজের মহিলা সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিক হাথরসের নির্যাতিতার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাঁদের আটকায় বিশাল পুলিশবাহিনী। মহিলা পুলিশকর্মীরা ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি করেন। ক্যামেরার তার খোলার চেষ্টা হয়। ঘটনাস্থলে জেলাশাসকও চলে আসেন। কিন্তু কেন যেতে দেওয়া হবে না, সদুত্তর দেননি কেউই।

কখনও বলা হয়, ‘‘উপরওয়ালাদের বারণ আছে।’’ কখনও বলা হয়, ‘‘করোনা আছে।’’ শেষে বুম হাতে মাটিতে বসে পড়ে প্রতিবেদন রেকর্ড করেন ওই সাংবাদিক। অন্য একটি চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিক টুইটারে ছবি দিয়ে দেখান, কী ভাবে তাঁকে ঘিরে ধরে আটকাচ্ছেন চার পুলিশ। নির্যাতিতার পরিবারের এক জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন তিনি।

দু’দিন আগে নির্যাতিতার দেহ পুলিশ জ্বালিয়ে দেওয়ার সময়ে তার ভিডিয়ো তুলে টুইট করেছিলেন আর একটি চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিক। কী পুড়ছে, বারবার জানতে চেয়েও তিনি উত্তর পাননি পুলিশের কাছে। শুক্রবার একাধিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি কথোপকথনের বয়ান প্রকাশ করে লেখা হয়, ‘‘অডিয়ো টেপে শোনা যাচ্ছে, কী ভাবে নির্যাতিতার ভাইকে উস্কানি দিচ্ছেন ওই মহিলা সাংবাদিক।’’ বিরোধীদের বক্তব্য, নির্যাতিতার পরিবার এবং সাংবাদিকদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ তা হলে সত্যি বলেই ধরে নিতে হয়!

হাথরসের জেলাশাসক প্রবীণ কুমার লক্ষকর বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার বাবাকে কার্যত হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘মিডিয়া এখানে কত দিন থাকবে! থাকব তো আমরাই।’’ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাংবাদিকদের দেখা করার রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার পরেও পরিবারের বিবৃতি হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিয়ো বা ফোনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও বিরোধী দলের কাছে পৌঁছে যাচ্ছিল। শুক্রবার টনক নড়ায় পুলিশ তাঁদের মোবাইল কেড়ে নেয়।

পুলিশের এত ‘সতর্কতা’ সত্ত্বেও নির্যাতিতার কিশোর ভাই এ দিন ঘুরপথে ধানখেতের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে চলে আসে। সে জানিয়েছে, তার মা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। বাড়ির চার দিক পুলিশ ঘিরে রেখেছে। সকলের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোককে মারধর করা হয়েছে। ওই কিশোরের দাবি, পুলিশ তার জেঠার বুকে লাথি মারার পরে তিনি সংজ্ঞা হারিয়েছিলেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, ‘‘উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন সত্য লুকোনোর জন্য এই নৃশংসতা শুরু করেছে। আমাদের বা সংবাদমাধ্যমকে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ওঁদেরও গ্রামের বাইরে আসতে দিচ্ছে না। তার উপরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বর্বর আচরণ করা হচ্ছে।’’

খাঁকি উর্দির বেষ্টনিতে হাথরাস যেন ‘দুর্গ’

হাথরাসের ঘটনায় মুখ পুড়েছে যোগী সরকারের। প্রতিনিয়ত ধেয়ে আসছে সমালোচনার ঝড়। দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সরকার যাই পদক্ষেপ করুক না কেন তা প্রতিবাদের আগুনে জল ঢালতে ব্যর্থ। সংবাদ মাধ্যম থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি- নির্যাতিতা মৃতার পরিবারের অভিযোগ শুনতে গ্রামে ঢুকতে মরিয়া। আর তাতেই আগুনে ঘৃতাহুতির ভয় পাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। কার্যত দিশাহারা যোগী প্রশাসন। তাই গণধর্ষিতার গ্রামকে প্রায় ‘দুর্গে’ পরিণত করে ফেলেছে যোগীর পুলিশ। তিনশ পুলিশ কর্মী, সতেরো পুলিশ ভ্যান ও গ্রামে প্রবেশের মুখে পরতে পরতে পাঁচটি ব্যারিকেডে হাথরাস যেন ‘বদ্ধভূমি’।

কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হচ্ছে কই? গণধর্ষিতার পরিবারের কথা মাঝে মধ্যেই ভিডিও আকারে সামনে এসে যাচ্ছে। যা মিনিটে ভাইরাল। তাই যোগী প্রশাসনের কড়া নজরে এখন মৃতা তরুণীর পরিবার। মৃতার পরিবারের তরফে বলা হয়েছে, গত দু’দিন ধরে পুলিশ তাঁদের কার্যত গৃহবন্দি করেছে। তাঁদের ফোনেও নজরদারি চলছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘জেলা শাসক এসে বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তাহলে তোমাদের কথার ভিডিও বাইরে যাচ্ছে কীভাবে?’