আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

স্পুটনিক-৫ টিকা অনুমোদন দিয়েছে ভারত

prothomalo-bangla_2021-04_93196aef-e1ad-47e3-b153-f684b59225c1_Sputnik_V

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক-৫ টিকার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এ নিয়ে সেখানে মোট তিনটি টিকার অনুমোদন দেয়া হলো। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, স্পুটনিক-৫ দৃশ্যত নিরাপদ। অক্সফোর্ড/এস্ট্রাজেনেকার টিকা যেভাবে কাজ করে, এটাও তার মতো কাজ করে। দ্য ল্যানচেট ম্যাগাজিনে এই টিকার সর্বশেষ ধাপের পরীক্ষার যে ফল প্রকাশ হয়েছে তাতে বলা হয়েছে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতকরা ৯২ ভাগ সুরক্ষা দেয় স্পুটনিক-৫। ভারতে এস্ট্রাজেনেকার টিকা তৈরি হচ্ছে কোভিশিল্ড নামে। এর পাশাপাশি কোভ্যাকসিন টিকার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ কোটি মানুষকে অনুমোদিত এই দুটি টিকা দেয়া হয়েছে।

কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভারতকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সংক্রমণের দিক দিয়ে ব্রাজিলকে টপকে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত। এমন রেকর্ড গড়ার একদিন পরেই স্পুটনিক-৫ টিকা অনুমোদন দেয়ার খবর পাওয়া গেল। ভারতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে এক কোটি ৩৫ লাখ। সংক্রমণের দিক দিয়ে বর্তমানে এক নম্বরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে কমপক্ষে তিন কোটি ১০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে চলে গেছে ব্রাজিল। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে এক কোটি ৩৪ লাখ মানুষ। ওদিকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত দেশে ২৫ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার অগ্রাধিকার ঠিক করেছে ভারত সরকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা দেয়ার গতি বেশ ধীর। যদি এই গতি বাড়ানো না হয় তাহলে নির্ধারিত ওই লক্ষ্য পূরণ হবে না।

স্পুটনিক-৫ টিকা তৈরি করেছে মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউট। প্রথম দিকেই এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কারণ, তেমন কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এই টিকা রাশিয়া সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু এর কার্যকারিতা এখন বিজ্ঞানীরা দেখতে পাচ্ছেন। এই টিকা সংরক্ষণ করা যায় দুই থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। পরিবহন করা এবং সংরক্ষণ করা অনেক সহজতর। স্পুটনিক-৫ টিকা বাজারজাত করছে রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)। তারা এরই মধ্যে ভারতে এই টিকার ৭৫ কোটি ডোজ সরবরাহ দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এসব টিকা ভারতের ৬টি আভ্যন্তরীণ টিকা উৎপাদনকারীর মাধ্যমে সরবরাহ দেয়া হবে। স্পুটনিক-৫ টিকা অন্য টিকার মতো নয়। এর দুটি ডোজের মধ্যে অন্য টিকার থেকে কিছুটা পার্থক্য আছে। ২১ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া হয়।