আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

চুক্তি মানার চেষ্টা করছে ভারত-চীন, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি: বিশ্লেষক

ISSUE-2-ENG-02-10-2020-India (1)

ভারত ও চীন নিজেদের মধ্যে একটা অস্বস্তিকর চুক্তি টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। উত্তেজনাপূর্ণ সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্য এই চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, অনেক ধরণের অনিশ্চয়তার খেলা এখানে চলছে, কারণ চীন এর আগে চমক দেখিয়েছে এবং তাদের অবস্থান বদল করেছে। 

দুই দেশই নতুন করে সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে আলোচনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সেনাদের সরিয়ে নেয়ার এবং উত্তেজনা নিরসনের দিকে মনোযোগ দেয়া হবে। মে মাসে নয়াদিল্লী টের পায় যে, চীনের পিপলস লিবারেশান আর্মি (পিএলএ) ভারতের সীমানায় অনুপ্রবেশ করেছে, এবং তখন থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রিবাস্তব সাপ্তাহক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদেরকে বলেন, “২১ সেপ্টেম্বর সিনিয়র কমান্ডারদের সর্বশেষ বৈঠকে যে সব বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছিল, সেগুলো যাতে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা যায়, সে জন্য পরবর্তী দফা বৈঠকের সময় নির্ধারণের জন্য কাজ করছে। বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রটোকল অনুসারে সীমান্ত থেকে সেনাদের সরিয়ে নেয়া এবং পুরোপুরি শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হয়েছে দুই দেশ”। 

২১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে যে সব বিষয়ে ঐক্যমত হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারণা এড়াতে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করা, ফ্রন্টলাইনে বেশে সেনা পাঠানো বন্ধ করা, এবং পরিস্থিতি জটিল হয়, এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকা। 

১০ সেপ্টেম্বর মস্কোতে ভারত আর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে বৈঠক করেন, তারই ধারাবাহিকতায় কমান্ডার পর্যায়ের ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের সূত্রেই সাময়িক শান্তিচুক্তি হয়েছে, যেটার কারণে দুই পক্ষের সেনারা এখন পর্যন্ত নিজেদের নিরস্ত রেখেছে, যদিও দুই পক্ষই ট্যাঙ্ক, মিসাইল ও বিমান মোতায়েন করে রেখেছে। কিছু কিছু জায়গায় এমনকি দুই পক্ষের সেনারা পরস্পরের থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থান করছে। 

বিশ্লেষকরা বলেছেন, যদিও অস্বস্তিকর একটা শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে, কিন্তু আগাম বলার কোন উপায় নেই যে, সামনের দিনগুলোতে কি ঘটতে পারে। 

নয়াদিল্লীর জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটির চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক শ্রীকান্ত কোন্দাপাল্লি বলেন, “মে মাসে যখন ভারত-চীন উত্তেজনা শুরু হলো, তখন সন্দেহ ছিল যে, লাদাখে ভারতের অবকাঠামো নির্মাণের কারণে হয়তো এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে”।

তিনি বলেন, “সেনা শক্তি বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে, গালওয়ান উপত্যকায় ভয়াবহ সঙ্ঘর্ষ হয়েছে। এরপর মনোযোগ গেছে সেনাশক্তি হ্রাস করার দিকে”।

কোন্দাপাল্লি বলেন, চলতি সপ্তাহে চীন বলেছে, তারা এলএসিকে স্বীকৃতি দেয় না এবং ১৯৫৯ সালের দাবিকৃত সীমানাকে তারা অনুসরণ করে। বেইজিং আরও বলেছে যে, লাদাখকে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে তারা স্বীকৃতি দেয় না। 

কিন্তু বুধবার চীনের ৭১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দেয়া এক বক্তৃতায় ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েইডোং মনে হলো কিছুটা সমঝোতার সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন যে, “চীন-ভারত সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক জায়গা থেকে অনেক সামনে এগিয়ে গেছে এবং এই অঞ্চল ও বিশ্ব মঞ্চে এই সম্পর্কের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে”।

সান আরও বলেন, “যখনই পরিস্থিতি কঠিন হয়, তখনই সার্বিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা নিশ্চিত করাটা জরুরি হয়ে পড়ে”। তিনি আরও বলেন যে, “অভিন্ন ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করা এবং সহযোগিতাই এখানে মূল চাবিকাঠি”।

কোন্দাপাল্লি বলেন, এই সব পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিতের প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লীকে অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, বেইজিংয়ের সাথে আলোচনাটা কোন পথে এগোই এবং বাস্তবক্ষেত্রে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয় কি না। 

তিনি আরও বলেন, সামনেই যেহেতু শীত আসছে, তাই সেনাদের নিরস্ত করার পরিকল্পনা যদি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে লাদাখে দুই দেশের সেনাদেরকেই শীতের মধ্যে মোতায়েন রাখতে হবে।