আমরা লাইভে English সোমবার, মার্চ ০১, ২০২১

সীমান্তে যাতায়াত সহজ করতে হিমালায়ের নিচে টানেল তৈরি করছে ভারত

REPORT-1-ENG-19-09-2020-Border

নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে থাকা হিমালয়ের নীচ দিয়ে একটি সুরঙ্গপথ চীন সীমান্তের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ কয়েক ঘন্টা কমিয়ে দেবে। সীমান্তে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সেনাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর নয়াদিল্লী সীমান্ত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এটা তারই অংশ। 

গালওয়া মালভূমি এলাকায় জুনে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের বাহিনীগুলোর মধ্যে যে সংঘর্ষ হয় তার জন্য দেশগুলো পরস্পরকে দায়ি করছে। ওই সংঘর্ষে এক কর্নেলসহ ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। এরপর থেকে উত্তেজনা নিরসনে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটছে। 

সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারত একাধিক কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। এই কৌশলের মধ্যে রাস্তা-ব্রিজ, হেলিপ্যাড, বেসামরিক ও সামরিক বিমানের জন্য রানওয়ে নির্মাণের মতো পদক্ষেপ রয়েছে। আর এই পদক্ষেপগুলোর প্রাণকেন্দ্রে আছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে করা টানেল। ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল দিয়ে খুব সহজেই ভারতীয় বাহিনী সীমান্তে পৌঁছাতে পারবে। আর এজন্য তাদের তুষার, ভূমিধস ও বৈরী আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হবে না।

ভারতের বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনের (বিআরও) প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারপাল সিং এএফপিকে বলেন, ‘সীমান্তে পৌঁছাতে খারাপ রাস্তার কারণে গাড়িতে সমস্যা হলে অনেক সময় ছয় থেকে আট ঘণ্টাও সময় লেগে যায়। কিন্তু টানেলটি হলে সেনাদের অনেক সময় বেঁচে যাবে।’ 

টানেলটি নির্মাণে শ্রমিকরা প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সফর করার আগেই টানেলটি নির্মাণ শেষ হবে। যদিও বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই শুধু ওই অঞ্চলে নির্মাণকাজ করা যায়। বছরের অন্য সময় বাজে আবহাওয়ার কারণে কাজ করা যায় না।

সীমান্তের কাছাকাছি এখন মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রয়েছে। এই বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই নয়াদিল্লী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও খাবার মজুদ করছে। নয়াদিল্লীভিত্তিক থিংকট্যাংক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের হর্ষ পান্ত জানান, এর আগে টানেল নির্মাণে দুই দশকের বেশি সময় নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এবার চীনের শক্তিশালী অবকাঠামোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতকে এগোতে হচ্ছে।’

নয়াদিল্লী শুধু সীমান্ত সুরক্ষার মধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে না। পাশাপাশি হিমাচল প্রদেশের স্থানীয়দের সশস্ত্র প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়রা যাতে চীনা গোয়েন্দা, ড্রোন ও হেলিকপ্টার শনাক্ত করতে পারে সেই প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। হিমাচলের পুলিশপ্রধান সঞ্জয় কুণ্ডু বলেন, ‘সীমান্ত ও পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ নেওয়া দরকার। তারা যাতে নিজেদের রক্ষা করতে পারে তাই এই প্রশিক্ষণ।’ 

ভারত সরকার মনে করছে, এতে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে হিমাচলের সীমান্তগুলোতে অনেক যুদ্ধ বিমানের আনাগোনা হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। যুদ্ধক্ষেত্রে রাস্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় বিআরও ওই অঞ্চলে আগের তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে রাস্তা তৈরি করছে। 

২০২১ সালের শেষ নাগাদ চীন সীমান্তে যাওয়া যায় এমন ১৫টি বিকল্প রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।