আমরা লাইভে English শনিবার, এপ্রিল ১৭, ২০২১

এলএসি রক্ষার জন্য ১,০০০ কিমি রেঞ্জের নির্ভয় মিসাইল মোতায়েন করেছে ভারত

DEFENCE-ENG-02-10-2020-India (1)

আগামী মাসে সপ্তম দফা পরীক্ষা চালানোর পর সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ভয় সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল যুক্ত করবে ভারত। কিন্তু তার আগেই এরই মধ্যে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল এলাকায় সীমিত সংখ্যক মিসাইল মোতায়েন করেছে ভারত, যেখানে চীনের পিএলএ’র সাথে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ভারতীয় সেনারা। 

১০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের এই সলিড রকেট বুস্টার মিসাইলগুলো এক আঘাতেই ৯০ শতাংশের বেশি জনশক্তিকে শেষ করে দিতে পারে। এটা তৈরি করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যাণ্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশান (ডিআরডিও)। বর্ধিত রেঞ্জের ব্রাহ্মস সার্ফেস-টু-সার্ফেস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষার পর এ বিষয়ে অবগত সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে এই তথ্য জানান। ব্রাহ্মস মিসাইলগুলো ৪০০ কিলোমিটার দূরের টার্গেটে আঘাত হানতে পারে। 

নির্ভয় সাবসনিক মিসাইলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশান কাউন্সিল। তবে সামরিক বাহিনী অবশ্য এগুলো মোতায়েনের জন্য আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি এবং এরই মধ্যে এলএসিতে কিছু মিসাইল তারা মোতায়েন করেছে। 

এই মিসাইলগুলো ০.৭ ম্যাক গতিতে ছুটতে পারে। এগুলোর টেরেইন-হাগিং এবং সি-স্কিমিং সক্ষমতা রয়েছে, যে কারণে এগুলোকে চিহ্নিত করা ও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়াটা কঠিন। 

মে মাসে লাদাখে অচলাবস্থা শুরুর পর এলএসিতে পিএলএ’র পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং এলাকায় ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার অস্ত্রাদি এবং দূরপাল্লার সার্ফেস-টু-এয়ার মিসাইল মোতায়েন করেছে। শুধু অধিকৃত আকসাই চিন এলাকাতেই মোতায়েন সীমিত রাখেনি চীন বরং এলএসি বরাবর কাশগর, হোতান, লাসা ও নাইংছিতেও কিছুটা ভেতরের দিকে এগুলো মোতায়েন করেছে তারা। 

কর্মকর্তারা বলেছে, বুধবার যে ৪০০-কিলোমিটার রেঞ্জের ব্রাহ্মস মিসাইলের পরীক্ষা করা হয়েছে, সেটাতে নিজস্বভাবে তৈরি এয়ারফ্রেম ও বুস্টার যুক্ত রয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণীর সুপারসনিক দূরপাল্লার ট্যাকটিক্যাল ক্রুজ মিসাইল পাওয়ার পথ ভারতের জন্য খুলে গেলো। 

নতুন এই সব অস্ত্রগুলোতে সলিড ফুয়েলড ডাকটেড র‍্যামজেট (এসএফডিআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যেটা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের পাশাপাশি দূরপাল্লার সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলেও ব্যবহার করা যাবে। ২০১৮ সালের ৩০ মে, এবং ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ডিআরডিও দুইবার এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করেছে। 

ভারতের একজন মিসাইল বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “নতুন শ্রেণীর ক্রুজ মিসাইলে সলিড রকেট বুস্টারের সাথে এসএফডিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুপারসনিক গতি অর্জন করা হবে। মিশনের উদ্দেশ্যের কথা মাথায় রেখে এর রেঞ্জ ঠিক করা হবে”।

এটা বোঝা যাচ্ছে যে, নতুন শ্রেণীর ক্রুজ মিসাইলগুলোতে ব্রাহ্মসের তুলনায় আকাশে বিচরণকালীন ত্রুটির সম্ভাবনার মাত্রা কমিয়ে আনা হবে।