আমরা লাইভে English শনিবার, ডিসেম্বর ০৪, ২০২১

স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের হামলার পর ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কড়া সতর্কতা

ISSUE-4-ENG-10-08-2020

স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। 

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ভারতের উত্তরপূর্ব সীমান্তের স্পর্শকাতর জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর হামলা ঠেকানোর জন্য ‘এরিয়া ডোমিনেশান’ মহড়া শুরু করা হয়েছে। 

নাগাল্যাণ্ডের মোন ও তুয়েনসাং এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে গেরিলাদের তৎপরতা চলে আসছে। এই জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। 

২৯ জুলাই মিয়ানমার-ভিত্তিক কয়েকটি স্বাধীনতাকামী গ্রুপের সদস্যটা একজোট হয়ে মনিপুরের চান্ডেল জেলঅর সাজিক তাম্পাক সীমান্ত এলাকায় আসাম রাইফেলসের টহলরত সেনাদের উপর হামলা চালায়। এই গ্রুপগুলোর দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের উপর ভারতের ‘ঔপনিবেশিকতার’ বিরুদ্ধে প্রচারণার অংশ হিসেবে চার সেনাকে হত্যা করা হয়েছে।

১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর মধ্যে চান্ডেল অন্যতম। ২০১৫ সালে স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর সম্মিলিত হামলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৮ সেনা নিহত হয়েছিল। 

চান্ডেল সীমান্ত এলাকার ওপারে মিয়ানমারের ভেতরে পিপলস লিবারেশান আর্মি (মনিপুর) এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশান ফ্রন্টের অন্তত দুটো বড় ক্যাম্প রয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার জন্য এই ক্যাম্পগুলোকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দুটো সংগঠনেরই এ অঞ্চলের অন্যান্য স্বাধীনতাকামী গ্রুপগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক হামলার সাথে জড়িত নতুন একটি সংগঠনের কথাও বলা হয়েছে, যার নাম হলো মনিপুর নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এমপিএনএফ)। ফলে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে, মিয়ানমারের নাগা স্বাধীনতাকামী গ্রুপ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এই গ্রুপ গঠিত হয়ে থাকতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ মিয়ানমারের সেনা নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ

২৯ জুলাইয়ের হামলার আগে মিয়ানমারের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় দুটো ঘটনা ঘটেছে। ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যাণ্ড (এনএসসিএন-কে) দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভেঙ্গে গেছে, যখন নিকি সুমির নেতৃত্বাধীন একটি অংশ চেয়ারম্যান ইউং অংকে দল থেকে বহিষ্কার করে। 

স্বাভাবিকভাবে, সুমিকে বহিষ্কার করে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অং এবং সংগঠনের দুই সিনিয়র দায়িত্বশীলের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ বৈঠক’ করা, তহবিলের অপব্যবহার, ‘বিভক্তি সৃষ্টিকারী’ রাজনীতিকে উৎসাহ দেয়া, এবং তলব করার পরেও কাউন্সিলের সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে ব্যার্থ হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। 

এই সব ঘটনার পুরো ফলাফল কি হবে, সেটা এখনই বোঝার উপায় নেই। তবে মিয়ানমারের নাগা অধ্যুষিত এলাকায় স্বাধীনতাকামী আন্দোলনকে এটা নিশ্চিতভাবে দুর্বল করে দেবে। অং হলেন পাংমি নাগা। অন্যদিকে নিকি সুমি হলেন নাগাল্যাণ্ডের সুমি গোত্রের ব্যক্তি এবং মিয়ানমারের কোনিয়াক নাগা অঞ্চলের কিছু সিনিয়র নেতাদের সমর্থনও রয়েছে তার প্রতি। 

গত মাসে যখন সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, তাতমাদাও বা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ভারত সীমান্তের সাগাইং ডিভিশান অঞ্চলের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে, তখন পরিস্থিতির জটিলতা আরও বেড়ে যায়। 

ভারতীয় এক কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, তাতমাদাও যখন জানতে পারে যে, এনএসসিএম (আইএম)-এর একটি বড় গ্রুপ মিয়ানমারের সাগাইং ডিভিশনের কিছু জায়গায় তাদের ঘাঁটি সরিয়ে নেবে, তখন এই খবরের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়। এর আগে, বেশ কিছু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন মিডিয়া দাবি করেছে যে, এনএসসিএন(আইএম) এরইমধ্যে তাদের অস্ত্রসম্ভার ও জনশক্তির একটা বড় অংশকে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের ক্যাম্পগুলো থেকে মিয়ানমারের ক্যাম্পগুলোতে সরিয়ে নিয়েছে।