আমরা লাইভে English সোমবার, মে ১০, ২০২১

মুসলিমবিরোধী পোস্টের জন্য ফেসবুককে জেরা ভারতীয় পার্লামেন্ট প্যানেলের

ISSUE-3-ENG-03-09-2020-FB

ভারতীয় একটি পার্লামেন্টারি কমিটির ফেসবুক প্রতিনিধিদের জেরা করেছে। এই সামাজিক মিডিয়া জায়ান্টের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ আচরণ ও এর প্লাটফর্মে মুসলিমবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই জেরা করা হলো।

বুধবার রুদ্ধদ্বার এই শুনানি হয়। তবে এর ফলাফল এখনো পরিষ্কার নয়। এর আগে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ফেসবুক তার প্লাটফর্মকে ঘৃণাপূর্ণ বক্তৃতা প্রচারের সুযোগ দেয় এবং ভারতে এর শীর্ষ পলিসি কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শন করে।

সামাজিক মিডিয়া জায়ান্ট এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ফেসবুক বেশ চাপে পড়ে যায়। ওইসব প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটি মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা ছড়ানো বক্তৃতা অগ্রাহ্য করেছে আার ফেসবুকের ভারতের পলিসি প্রধান আঁখি দাস মোদির অনুকূলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার নয়া দিল্লিভিত্তিক  ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে বিজেপির অনুরোধের পর ফেসবুক বিজেপির সমালোচক কয়েকটি পেইজ অপসারণ করে ফেলে।

এক্সপ্রেসে বলা হয়, বিজেপি ফেসবুককে বলে যে ওই পেসগুলো প্রত্যাশিত মানদণ্ডের লঙ্ঘন ঘটিয়েছে, পোস্টগুলো বস্তুনিষ্ঠ নয়।

এ ব্যাপারে ফেসবুকের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

ভারত হলো ফেসবুকের বৃহত্তম বাজার, এখানে ৩০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। আর কোম্পানিটির ম্যাসেঞ্জিং অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ৪০ কোটি লোক।

ভারতে অন্য যেকোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে বিজেপি ফেসবুক বিজ্ঞাপনে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করে।

গত ছয় বছরে গোরক্ষকেরা বেশ কয়েকজন মুসলিমকে প্রহার করেছে। আর হোয়াটসঅ্যাপে গরু জবাই বা পাচারের ভুয়া খবরের ভিত্তিতে এসব ঘটনা ঘটেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে গত মাসে বলা হয়, আঁখি দাস বিজেপির রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ব্যক্তি ও গ্রুপের ঘৃণা বক্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে কোম্পানির নীতি প্রয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, বিজেপির সাথে কোম্পানি সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এড়ানোর জন্য ফেসবুক তার প্লাটফর্মে মুসলিমবিরোধ পোস্ট অনুমোদন করে।

গত সপ্তাহে টাইম ম্যাগাজিনেও একই ধরনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়।

মার্কিন মিডিয়া আউটলেট বাজফিড নিউজে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, ভারতের মুসলিমদের একটি ‘অধঃপতিত সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করে একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য মুসলিম স্টাফের কাছে ক্ষমা চান আঁখি দাস।

বিরোধীদের ফেসবুককে আক্রমণ

ফেসবুকের ওপর শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুর কারণে তা পিছিয়ে যায়।

বিরোধী কংগ্রেস দল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, বিজেপি ও ফেসবুকের মধ্যে একটি ব্লাসফেমিয়াস আঁতাত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিজেপির লক্ষ্য বিভক্ত করে শাসন করা। আর এই কাজে সামাজিক মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক তাদেরকে সহায়তা করছে।

ডানপন্থী পক্ষপাতিত্ব?

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের আনুকূল্য প্রদর্শনের অভিযোগ এই প্রথম নয়। গত বছরও আসামে উত্তপ্ত জাতিগত উত্তেজনা ছড়ানো বিদ্বেষমূলক পোস্ট প্রচার হ্রাসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে ক্যাম্পেইন গ্রুপ আভাজ অভিযোগ করেছিল।

সংস্থাটি বলে, ভারতের বাঙালি মুসলিমদের টার্গেট করে যেসব প্রচারণা চলেছে, তা প্রতিরোধ করা হয়নি।

ফেসবুক মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারে হ্রাস করার কাজে ভূমিকা রাখেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে।