আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

মিয়ানমারের সমস্যাকবলিত রাখাইন রাজ্যে উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা ভারতের

ISSUE-4-ENG-28-03-2020-India

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা আরও জোরদার করেছে ভারত। এই অঞ্চলটি প্রতিবেশী দেশের সবচেয়ে সমস্যাকবলিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম। 

জানুয়ারি মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মিয়ানমার সফরের প্রায় এক মাস পরে এই সিদ্ধান্ত নিলো ভারত। প্রেসিডেন্ট শি’র ওই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বেশ কতগুলো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। এর মধ্যে রাখাইন রাজ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন এবং কিয়াউকফিউতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের বিষয়টিও রয়েছে। 

এই প্রকল্প দুটো চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী চায়না-মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেগুলোর মাধ্যমে চীন মালাক্কা প্রণালীকে এড়িয়ে সরাসরি ভারত মহাসাগরের সাথে যুক্ত হতে পারবে। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মিয়ানমারের ধীর পদক্ষেপের সমালোচনা

রাইট টু ইনফরমেশান অ্যাক্টের অধীনে করা এক দরখাস্তের জবাবে ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস তিনটি নতুন প্রকল্পের তথ্য জানিয়েছে, যেগুলো বর্তমানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। 

দূতাবাসের জবাবে জানানো হয়েছে যে, রাখাইন স্টেট ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে ২৫০টি বাড়ি নির্মাণের কাজ গত বছর শেষ হয়েছে এবং এর দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হয়েছে। 

দ্বিতীয় প্রকল্পের অধীনে সিত্তয়ে কম্পিউটার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ৪০টি কম্পিউটার দেবে ভারত সরকার। তৃতীয় প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো রাখাইন রাজ্যে চাল ও মসুরের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানো। রাখাইন রাজ্যের সরকারকে এ জন্য পনেরোটি ট্র্যাকটর ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম এবং একই সংখ্যক ক্রলার হারভেস্টার দেয়া হয়েছে। 

দূতাবাসের জবাবে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে যে, এ অঞ্চলে যন্ত্রনির্ভর চাষাবাদ এবং উচ্চ ফলনশীল বীজের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো রাখাইন রাজ্যের কৃষির উচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, যেটা ভারতের জন্য চাল ও ডাল কেনার ‘বিকল্প উৎস’ হতে পারে। 

ওই জবাবে এটাও পরিস্কার করা হয়েছে যে, মিয়ানমারে ভারত সরকার যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, রাখাইন রাজ্যের সকল মানুষের উন্নয়নের জন্যই সেটা করা হয়েছে এবং এ অঞ্চলের কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির জন্য সেটা করা হয়নি। সুস্পষ্টতই নয়াদিল্লী রাখাইন রাজ্যে শুধুমাত্র রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় না। 

মিয়ানমারে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “ঐতিহাসিক ও কৌশলগত দিক থেকে রাখাইন রাজ্য ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।

তিনি আরও বলেন, “২০১৭-১৮ সালের পরবর্তীকালে এই রাজ্যে যে মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তার মোকাবেলায় সুনির্দিষ্টভাবে রাখাইন স্টেট ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে আবাসন, কৃষি, কম্পিউটার শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে”। 

ভারত সরকার যে সব নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে কতগুলো আগের প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা মাত্র। যেমন ২০১২-১৩ সালের দাঙ্গার পর ভারত রাখাইন রাজ্যে স্কুল নির্মাণের জন্য এক মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। এর দুই বছর পর সিত্তয়ে জেনারেল হাসপাতঅরে মেডিকেল সরঞ্জাম কেনার জন্য অর্থ দিয়েছিল ভারত। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস: মিয়ানমারের অর্ধেক সরকারি কর্মচারিকে বাড়িতে থাকার নির্দেশ

তবে কালাদান বহুমুখী ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। ভারতের অ্যাক্ট ইস্ট নীতির অন্যতম অংশ ছিল এই প্রকল্প এবং এটার মাধ্যমে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় স্থলবেষ্টিত রাজ্যগুলোকে বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল ভারতের। 

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে এখন যে এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে এখন, সেই এলাকা ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত থেকে খুব বেশি দূরে নয়। 

১০ ও ১১ মার্চে সঙ্ঘটিত তীব্র লড়াইয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ২০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে এবং আরও ৩৬ জন আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছে। এই আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমাণ্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেত নাইং উ-ও রয়েছেন।