আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

মালদ্বীপকে ডোর্নিয়ার বিমান দিলো ভারত: চীনা নৌযানে নজরদারির সক্ষমতা বাড়বে

REPORT-3-ENG-30-09-2020-Maldives (1)

মঙ্গলবার মালদ্বীপের ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সকে (এমডিএনএফ) ডোর্নিয়ার নৌ নজরদারি বিমান দিয়েছে ভারত। এই বিমান এ অঞ্চলের জলসীমায় চীনা নৌযানের চলাফেরার উপর নজর রাখার সক্ষমতা বাড়াবে বলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। 

ডোর্নিয়ার বিমানগুলো পরিচালনা করবে এমএনডিএফ, আর এর ব্যায় বহন করবে ভারত। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (ইইজেড) ভারত আর মালদ্বীপ এখন যে যৌথ নজরদারি চালাচ্ছে, সেই প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হবে এই বিমানগুলো। 

ডোর্নিয়ার পরিচালনার জন্য এমডিএনএফের সাত সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী, যাদের মধ্যে পাইলট, আকাশ পর্যবেক্ষনক ও ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন। সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে যে, দুই দেশের সরকার পর্যায়ে চুক্তির অংশ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী এই বিমানগুলো সরবরাহ করেছে। 

একটি সূত্র জানায়, “আঞ্চলিক জলসীমায় চীনা নৌযানের তৎপরতা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এই বিমানগুলো সাহায্য করবে। ইইজেডে নজরদারির মধ্যে সব ধরণের প্রতিকূল, অবৈধ, গোপন ও অনিয়ন্ত্রিক মৎস্য আহরণ, এবং মাদক ও মানব পাচারের বিষয়গুলো রয়েছে”।

ওই ব্যক্তি জানান, “সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের মাহিবাধু ও লামুতে হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই ডোর্নিয়ার বিমান সন্ত্রাস-বিরোধী তৎপরতার ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্বীপগুলো বিক্ষিপ্ত হওয়ায় প্রযুক্তি নির্ভর বিমানের সাহায্যেই কেবল এখানকার রিসোর্টগুলোকে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব”। 

ওই ব্যক্তি ১৫ এপ্রিল মধ্য মালদ্বীপের মাহিবাধু দ্বীপের উপকূলে হামলার বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই হামলায় চারটি স্পিডবোট, একটি সি-অ্যাম্বুলেন্স এবং দুটি ডিঙ্গিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। 

ইসলামিক স্টেট ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে মালদ্বীপের পুলিশ বলেছে এই ঘটনাটি চরমপন্থী ও মাদক পাচারকারীদের প্রতিশোধমূলক তৎপরতা হতে পারে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছিল। 

সূত্র জানিয়েছে, মালদ্বীপের আগের সরকারগুলোও নিরাপত্তা ও ইইজেড এলাকায় নজরদারির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ডোর্নিয়ার  বিমান চেয়েছিল। বিশেষ করে দ্বীপ রাষ্ট্রটির উত্তরাঞ্চলের এটা বেশি প্রয়োজন। 

২০১৬ সালে তৎকালিন প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনএর ভারত সফরের সময় এই ডোর্নিয়ার বিমানের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রথম বলা হয়েছিল । 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, “আগে এটা বাস্তবায়ন করা না গেলেও প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলিহের সরকার এটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। ২০১৭ সালের জুন মাস তেকে মালদ্বীপের পাইলট, পর্যবেক্ষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের এই ডোর্নিয়ার বিমান পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে”। ওই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সরকার ভারতের আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সফল হয়েছে।