আমরা লাইভে English রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

নিষেধাজ্ঞার পরেও দরিদ্র দেশগুলোতে গম রপ্তানি করবে ভারত

wireap_c0bbb60bfb6749628c7ba84d6e7b019a_16x9_992

মাত্র দুইদিন আগেই গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও খাদ্য সংকটে থাকা দেশগুলোতে সরকারি পর্যায়ে গম রপ্তানির সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির বাণিজ্য সচিব বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যম।

রোববার (১৫) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন টন গম রপ্তানির অনুমতি দেবে। এপ্রিল মাসেও ভারত ১ মিলিয়ন টন গম রপ্তানি করেছে।

ভারত প্রধানত বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে গম রপ্তানি করে।

শুক্রবার (১৩ মে) দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গমের বৈশ্বিক দামবৃদ্ধি ভারত, তার প্রতিবেশী দেশ এবং দুর্বল দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রপ্তানির ওপর এই বিধিনিষেধ আরোপের মূল লক্ষ্য হল ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ দাম নিয়ন্ত্রণ করা। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী গমের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি।

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের আগে বিশ্বব্যাপী গম ও বার্লি রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হতো এই দুই দেশ থেকে। তবে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের বন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বের খাদ্যশস্য সরবরাহ চেইনে পড়েছে বড় ধরনের প্রভাব। খাদ্যশস্য সংকটের পাশাপাশি জ্বলানি এবং ভোজ্যতেলের দামও বেড়েছে।

একই সময়ে তীব্র দাবদাহে ভারতে গম জাতীয় ফসলের উৎপাদনও কমেছে রেকর্ড পরিমাণে।

সুব্রহ্মণ্যম বলেন, গত বছরের ১০৬ মিলিয়ন টন থেকে এ বছর ভারতের গম উৎপাদন ৩ মিলিয়ন টন কমেছে। আর গমের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ।

গতবছর মোট উৎপাদিত ১০৯ মিলিয়ন টন গমের মধ্যে ৯০ মিলিয়ন টনই ব্যবহৃত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে। সেবছর ৭ মিলিয়ন টন গম রপ্তানি করেছিল ভারত।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদক হলেও উৎপাদিত গমের বেশিরভাগই ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতেই ব্যবহৃত হয়। তবে, রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে চলতি বছরে প্রায় ১০ মিলিয়ন টন গম রপ্তানির লক্ষ্য স্থির করেছিল ভারত। চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার পূর্ণ সুযোগ হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল দেশটি। কিন্তু সংকট পুঁজি করে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়া অঞ্চলে গমের নতুন বাজার খুঁজে বের করার এই পরিকল্পনা শেষপর্যন্ত ভেস্তে গেছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে।