আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে ভারতীয় আদালতের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ

REPORT-2-ENG-02-10-2020-Babri (1)

ভারতীয় শহর লাক্ষ্ণৌ-এর একটি বিশেষ আদালত বুধবার এক রায়ে ১৯৯২ সালে ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মামলা থেকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ৩২ জন রাজনীতিক ও সিনিয়র নেতার সবাইকে অব্যাহতি দিয়েছে। আদালত তার আদেশে বলেছে এই ঘটনাটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ ছিল না। 

এই রায়কে মুসলিমরা ‘বিচার বিভাগের আরেকটি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। 

আশির দশকের শেষ দিকে এবং নব্বই দশকের শুরুর দিকে বিজেপির তৎকালিন দলীয় প্রধান লালকৃষ্ণ আদভানির নেতৃত্বে অযোধ্যা শহরে অবস্থিত ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদের জায়গায় একটি মন্দির নির্মাণের প্রচারণা চালানো হয়। 

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজেপি নেতাদের আহ্বানে শত শত হিন্দু চরমপন্থীরা বিতর্কিত এই জায়গায় জড়ো হয় এবং মসজিদটিকে ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনার সূত্রে সারা দেশে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দাঙ্গায় ২০০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়। 

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য অধিকাংশ বিজেপি নেতা ও তাদের সহযোগীদের দায়ি করা হয়। 

তবে বুধবার বিশেষ আদালতের বিচারক সুরেন্দ্র কুমার যাদব বলেন যে, ৫০০ বছরের পুরনো এই মসজিদটি ধ্বংসের বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। 

বিবাদি পক্ষের আইনজীবী কে কে মিশ্র রায়ের পরে বলেন, “প্রমাণের অভাবে তাদেরকে খালাস দেয়া হয়েছে”।

এই রায় নিয়ে হতাশা জানিয়েছে মুসলিমরা। 

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক জারাফিয়াব জিলানি বলেছেন, “বিশেষ সিবিআই আদালত যে রায় দিয়েছে, সেটা ভুল। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো”।

আদালের সিদ্ধান্তে তুষ্ট হয়েছে বিজেপি। 

অভিযুক্তদের একজন ৯২ বছর বয়সী আদভানি বলেছেন, “আমাদের সবার জন্য এটা একটা খুশির মুহূর্ত; আদালের রায়ের পর আমরা ‘জয় শ্রী রাম’ শ্লোগান দিয়েছি। রায় প্রমাণ করেছে যে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের পেছনে আমার ব্যক্তিগত এবং বিজেপির যে বিশ্বাস রয়েছে, সেটা সঠিক। দেশের বহু মিলিয়ন মানুষের সাথে আমিও এখন অযোধ্যায় চমৎকার রাম মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছি”।

বিজেপির আরেক নেতা এবং অভিযুক্তদের একজন মুরলি মনোহর যোশি এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছেন। 

৮৬ বছর বয়সী যোশি বলেন, “এই রায় প্রমাণ করেছে যে, অযোধ্যার ঘটনার পেছনে কোন ষড়যন্ত্র ছিল না। আমাদের কর্মসূচি এবং সমাবেশ কোন ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল না”।

যে সব মুসলিমরা আদালতে গিয়েছিলেন, তাদের একজন অযোধ্যার হাজি মাহবুব। আরব নিউজকে তিনি বলেন, “এটা আদালতের বিশ্বাসঘাতকতা”।

তিনি বলেন, “বহু বিজেপি নেতারা প্রকাশ্যে দাবি করেছে যে, তারা বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ছিল। আদালত যদি এই ধরণের একপেশে রায় দেয়, তাহলে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, এখানে তাদের ছাড় দেয়া হয়েছে”।

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি যে, মুসলিমদের জন্য এ দেশে কোন ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না কারণ আদালত যে সব আদেশ দিয়েছে, তার সবই ভুল”।

রায়ের ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টি বলেছে এই রায় ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক’।

সর্বোচ্চ আদালত পরিস্কারভাবে জানিয়েছে যে, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিষয়টি পরিস্কারভাবে অবৈধ এবং ‘আইনের শাসনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

“কিন্তু বিশেষ আদালত সবাইকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, বিশেষ আদালতের রায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে লঙ্ঘন করেছে”, এ মন্তব্য করেন কংগ্রেস মুখপাত্র রন্দিপ সিং সুর্যেওয়ালা।