আমরা লাইভে English শনিবার, মার্চ ০৬, ২০২১

অক্টোবর থেকে গোয়াতে মোতায়েন হচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীর নজরদারি বিমান পি-৮আই

DEFENCE-ENG-19-09-2020-India

আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের নজরদারি ও সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা আরও জোরদার হবে, যখন ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাচের বোয়িং পি-৮আই মেরিন নজরদারি বিমানগুলো অক্টোবরে আইএনএস হানসাতে অবতরণ করবে। 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই বহুমুখী বিমানগুলো আসার পর ভারতের নজরদারির সক্ষমতা আরও বেড়ে যাবে বলে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভারতীয় নৌবাহিনীর বর্তমানে আটটি পি-৮আই বিমান রয়েছে, যেগুলো আইএনএস রাজালি, তামিলনাড়ুর আরাক্কোনামে রয়েছে, এবং নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে সেগুলো হবে ভারতের পশ্চিম উপকূলে সংযোগিত প্রথম এ ধরণের বিমান। 

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সিয়াটলের বোয়িং ফ্যাসিলিটি থেকে বিমানগুলোর আইএনএস হানসা ঘাঁটিতে পৌঁছানোর কথা। 

হানসা ঘাঁটি থেকেই মূলত ভারতীয় নৌবাহিনীর নৌ নজরদারির বিষয়টি শুরু হয়। দিল্লীর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, আইএনএস হানসাকে বিমানগুলো অবতরণের পর পি-৮আই বিমানগুলো আইএনএস রাজালিতে অস্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হবে।

ভারতীয় নৌবাহিনী ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আটটি পি-৮আই বিমানের অর্ডার দিয়েছিল এবং বিমানের কার্যক্ষমতা দেখার পর ২০১৬ সালে আরও চারটির অর্ডার দেয়া হয়। 

সাবেক চিফ অব নেভাল স্টাফ অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ বলেন, “এটা বহুমুখী বিমান। এটা সাবমেরিন এবং ভাসমান জাহাজকে অনুসরণ ও এমনকি হামলাও করতে পারে। এটা খুবই শক্তিশালী বিমান এবং পাকিস্তানের চেয়ে এক প্রজন্ম এগিয়ে, যারা এখনও পি-৩ ওরিয়ন বিমান, টার্বোপ্রপ বিমান ব্যবহার করছে”।

এই বিমানগুলোর সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৭৮৯ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং এর ওয়ার্কিং রেঞ্জ ১২০০ নটিক্যাল মাইল। গোয়া থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী যে ইলিউশিন আইএল-৩৮ বিমান ব্যবহার করে, পি-৮আই তার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে। 

ক্যাপ্টেন (অব.) ডি কে শর্মা বলেন, “এই বিমান ৪০,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে পারে, এবং এর অর্থ হলো ভারতের প্রভাব বলয়ের পরিসর এখন অনেক বড়। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের প্রভাব বিস্তারে উন্মুখ ও সম্প্রসারণবাদী প্রতিবেশী রয়েছে”।

এমন সময় পি-৮আই বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে, যখন আরব সাগর অঞ্চলে জলদস্যু বিরোধী অভিযানের নামে চীনের তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। মিয়ানমার, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, ইরান ও পূর্ব আফ্রিকায় বিভিন্ন বন্দরে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করেছে বেইজিং, যেটা ভারতের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।