আমরা লাইভে English সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মান্তরকে অপরাধ সাব্যস্ত করেছে ভারতের একটি রাজ্য

ISSUE-3-ENG-26-11-2020-India

ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল দেশের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যে একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিয়ের কারণে কাউকে ধর্মান্তরিত করা হলো সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) আন্তধর্মীয় বিয়ের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর পর উত্তর প্রদেশ রাজ্য মঙ্গলবার এই আইন পাস করে। 

দলটি এই ধরণের বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ আখ্যা দিয়েছে, যেটা আসলে অপ্রমাণিত একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব, যেটাকে ব্যবহার করে দলটির নেতারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে থাকে। 

এই ডিক্রি রাজ্য সরকারের অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হবে। এতে বলা হয়েছে, দুই ভিন্ন ধর্মের ব্যক্তি বিয়ে করতে চাইলে বিয়ের দুই মাস আগে তাদেরকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি অবগত করতে হবে। 

অফিসিয়াল অনুসন্ধানে কোন আপত্তি পাওয়া না গেলে ওই যুগল বিয়ে করতে পারবে। 

‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’

এমন সময় এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো, যখন উত্তর প্রদেশের একটি আদালত আন্তধর্মীয় বিয়ের একটি মামলার শুনানিতে বলেছে: “ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হলে সেটা দু্জন ব্যক্তির পছন্দের স্বাধীনতায় মারাত্মক হস্তক্ষেপ করার সমতুল্য হবে”।

একজন মুসলিম পুরুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল যে সে তার হিন্দু স্ত্রীকে জোর করে ধর্মান্তরিত করেছে। সেই অভিযোগের রায়ে আদালত ওই মন্তব্য করে। 

দুই বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার বলেছে, “প্রিয়াঙ্কা খারওয়ার ও সালামাত আনসারিকে আমরা হিন্দু আর মুসলিম হিসেবে দেখছি না। আমরা তাদের দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে দেখছি। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইচ্ছা থেকেই একসাথে শান্তিপূর্ণ ও সুখের সাথে এক বছরের বেশি সময় কাটিয়েছে। আদালত এবং বিশেষ করে সাংবিধানিক আদালতের দায়িত্ব হলো সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে সংরক্ষিত ব্যক্তির জীবন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাকে রক্ষা করা”।

‘লাভ জিহাদ’ তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত

ভারতের তদন্ত সংস্থা এবং আদালত কোন ধরণের ‘লাভ জিহাদের’ অস্তিত্ব পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে। অনেকেই এটাকে মোদির দলের মুসলিম-বিরোধী এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে থাকেন। 

ভারত মুলত হিন্দু প্রধান দেশ। এখানে ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে ১৪ শতাংশের মতো মুসলিম রয়েছে। 

হিন্দু কট্টরপন্থীরা হিন্দুদের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর বিরোধীতা করে থাকে। তারা আন্তধর্মীয় সম্পর্ক প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে আসছে। 

হিন্দু জাতীয়তাবাদী মোদির সমালোচকরা বলেছেন, ২০১৪ সালে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের বৈচিত্র আর সেক্যুলারিজমের ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়ে গেছে। 

তারা দলটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রতা উসকে দেয়ার অভিযোগ করেছেন এবং সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ নাকচ করে এসেছে। 

কিন্তু ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে সুস্পষ্ট একটা আতঙ্ক, ক্ষোভ এবং হতাশা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। 

মুসলিম-বিদ্বেষী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে

এমন সময় নতুন এই ডিক্রি জারি করা হলো, যখন ভারতের রাজনীতিকরা ধর্মের ভিত্তিতে অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে পড়েছে। 

সোমবার পুলিশ অনলাইন সার্ভিস নেটফ্লিক্সের দুজন নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। নেটফ্লিক্সে প্রচারিত অ্যা সুইটেবল বয় সিরিজের একটি দৃশ্য নিয়ে মোদির দলের এক নেতা আপত্তি জানানোর পর ওই মামলা করা হলো। ওই দৃশ্যে দেখানো হয়েছে একটি হিন্দু মেয়ে এবং একটি মুসলিম ছেলে একটি হিন্দু মন্দিরের পেছনে চুমু খাচ্ছে। 

নেটফ্লিক্সের ভারতের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। 

গত মাসে অলঙ্কার ব্র্যান্ড তানিশক-কে তাদের বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে নিতে হয়েছে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম আন্তধর্মীয় পরিবারকে দেখানো হয়েছিল। 

এই বিজ্ঞাপন প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারতের অনেকে কঠোর সমালোচনা করেছে। দেশে মোদির অধীনে ধর্মীয় বিভাজন বাড়ছে – এমন মন্তব্য করে তারা বলেন, মোদির সমর্থনকরা এই দেশটাকে হিন্দু দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং মুসলিম-বিরোধী মানসিকতাকে তারা স্বাভাবিক করে তুলছে।