আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, জুন ১৭, ২০২১

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টকে 'উদ্বেগজনক' হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত: ডব্লিউএইচও'র প্রধান বিজ্ঞানী

2686f10105bf3bd85e1e14ffeb9fc6b5-60980bb262b62 (1)
সৌম্য স্বামীনাথন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-র প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছেন, ‘‘ভারতে করোনাভাইরাসে যে ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয় সেটি হলো বি.১.৬১৭। এই ভ্যারিয়েন্টকে সংস্থাটি এখনও ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা না দিলেও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনের মতো দেশ সেই আখ্যা দিয়েছে। আমার মনে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও উচিত এই ভ্যারিয়েন্টকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা।’’ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন।

করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ভারত বিপর্যস্ত। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশটিতে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা চার দিন ধরে দৈনিক শনাক্ত চার লাখ ছাড়ালো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চার লাখ তিন হাজার ৭৩৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে দৈনিক মৃতের সংখ্যাও চার হাজার ছাড়িয়েছে। ৯ মে রবিবার পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা দুই কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৪ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৪২ হাজার ৩৬২ জনের।

ডব্লিউএইচও'র প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, ‘বি.১.৬১৭ ভ্যারিয়েন্ট ক্রমাগত চরিত্র বদল করছে। ফলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বাড়ছে। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে অ্যান্টিবডি রোধক হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস। অর্থাৎ টিকা বা অন্যান্য কারণে শরীরে প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি হলেও এই ভাইরাসকে ঠেকানো মুশকিল হতে পারে। তাই এখনই সতর্ক হতে হবে।’

তবে শুধু ভাইরাসের ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সচেতনতার অভাবও ভারতে এই ব্যাপক সংক্রমণের অন্যতম কারণ বলেই মনে করেন সৌম্য। তিনি বলেন, ‘ভারতে জমায়েত বেড়ে গিয়েছিল। মানুষের মাস্ক পরার ও অন্যান্য কোভিড বিধি মেনে চলার প্রবণতাও কমে গিয়েছিল। ফলে প্রথমে নিচের স্তরে অনেক দিন ধরে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ধীরে ধীরে সেই সংক্রমণ উল্লম্বভাবে বাড়তে শুরু করেছে।’

এভাবে বাড়তে থাকলে একটা সময় পরে তা হাতের বাইরে চলে যেতে পরে বলেও সতর্ক করেছেন এই ভারতীয় এই বিজ্ঞানী।

পাশাপাশি ভারতের টিকাকরণের ধীর গতিকেও দায়ী করেছেন সৌম্য। তার মতে, ‘ভারতে এখনও পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বছর গড়িয়ে যাবে সবাইকে টিকা দিতে। তত দিনে ভাইরাস হয়তো নিজের চরিত্র বদল করে ফেলবে। তখন আর বর্তমান টিকার কার্যকারিতা থাকবে না।’

ভাইরাস যত ছড়াবে তত তার চরিত্র বদলের আশঙ্কা বাড়বে বলেও সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘যত ভাইরাস ছড়াবে তত তার মধ্যে পরিবর্তন হবে। চরিত্র বদল করে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেখা দেবে। তখন হয়তো বর্তমানে ব্যবহার করা টিকা কোনও কাজেই দেবে না। এটিই আগামী দুনিয়ার কাছে সমস্যার হতে চলেছে। তাই আগে থেকে সতর্ক হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’