আমরা লাইভে English বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৫, ২০২১

হুয়াউয়েকে বাদ দিলে ভারতের ৫জি ব্যয়বহুল হতে বাধ্য

OPINION-ENG-29-09-2020

ভারত আর জাপান ৫জি প্রযুক্তি উন্নয়নে একসাথে কাজ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। কোয়াডের অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া এবং ইসরাইল এখানে সহায়তা দেবে বলে জানা যাচ্ছে। 

ভারত আর জাপানের ৫জি সহযোগিতার ক্ষেত্রে যদিও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তাদের সাম্প্রতিক এই প্রচেষ্টা থেকে এটুকু নিশ্চিত হয়েছে যে, ৫জি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ভারতের আরও অংশীদার লাগবে। 

তাছাড়া চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট হুয়াউয়ে ও জিটিই থেকে ভারত মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়েও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, কারণ বিশ্বে ৫জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীনের এই প্রযুক্তি জায়ান্ট। 

জুনে সীমান্তে সঙ্ঘাতে বড় ধরণের আঘাত পাওয়ার পর ভারতে ব্যাপক চীনবিরোধি প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং ভারত চীনা ব্যবসায় ও বিনিয়োগের উপর বেহিসেবি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। 

ভারতের টেলিকম অপারেটরগুলো যখন হুয়াউয়ের ৫জি প্রযুক্তির পরিক্ষা পর্যন্ত শুরু করেছিল, তখন তাদেরকে বাদ দিয়ে ভারত ইউরোপিয় টেলিকম সরঞ্জামাদি নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

তবে গল্পে একটা প্যাঁচ রয়েছে, কারণ ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোত্রে বলেছেন, ৫জি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো থেকে হুয়াউয়ে ও জিটিইকে বাদ দেয়ার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের রিপোর্টে এটা বলা হয়েছে। 

হঠাৎ করে মনোভাব বদলের কারণটি স্পষ্ট। হুয়াউয়ে আর জিটিইকে বাদ দেয়ার পর কোন প্রতিযোগিতা না থাকায় ভারত ইউরোপিয় সরবরাহকারীদের সাথে দর কষাকষির ক্ষেত্রে একতরফা পরিস্থিতিতে পড়ে যাবে। তাদের উচ্চ মূল্যের দাবি মেটানোর মতো সামর্থ এখন ভারতের নেই। 

সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ভারত চীনা ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কগুলো বাদ এয়ার জন্য সর্বোচ্চ  চেষ্টা করছে। এদিকে, ফিনিশ টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা নোকিয়া আগস্টে হুমকি দিয়েছে যে, ভারতের নেতৃস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি যদি তাদের ১২১ মিলিয়ন ডলারের বকেয়া ‘অবিলম্বে’ পরিশোধ না করে, তাহলে তারা তাদের সহায়তা উঠিয়ে নেবে। 

সম্ভবত ইউরোপের সাথে দর কষাকষির সুবিধার জন্যই নয়াদিল্লী এখনও হুয়াউয়ে এবং জিটিই’কে কাগজে কলমে বাদ দেয়নি। তবে ভারতের এটা বোঝা উচিত যে, তারা যদি সত্যিই গ্রহণযোগ্য কোন সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাহলে তাদেরকে হুয়াউয়ে ও জিটিই’র মতো চীনা কোম্পানির ব্যাপারে নীতি পরিবর্তন করতে হবে। ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় থাকলেই কেবল ভারত লাভবান হতে পারবে। 

হুয়াউয়ে আর জিটিই’র ব্যাপারে ভারতের মনোভাব পরিবর্তন যদি শুধু একটা কৌশল হয়ে থাকে, তাহলে বাতিলপ্রায় ৫জি সরঞ্জামের পেছনে তাদেরকে উচ্চমূল্য ব্যয় করতে হবে। 

ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি কলামে চীনের বিরুদ্ধে সীমান্ত ও অর্থনৈতিক ফ্রন্টে ভারতের অবস্থানের পর্যালোচনা করা হয়েছে, যেখানে বিশ্ব এখন শতাব্দির কঠিনতম মহামারীর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে যে, ভারত মূলত চীনা প্রযুক্তি খেলোয়াড়গুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত কৌশলের সাথে তাল মেলাবার জন্য নিজেদের তৎপরতার বহিপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। 

ভারত সরকার যদি সত্যিই অর্থনীতি আর প্রযুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে শেষ পরিণতিটা নিঃসন্দেহে ভারতের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে। 

মহামারীর প্রভাবের অধীনে, ভারতের অর্থনীতি বড় ধরণের সমস্যায় পড়েছে। অযৌক্তিকভাবে চীনের অ্যাপ ও বিনিয়োগ বয়কট করার কারণে অর্থনৈতিক সমস্যা আরও বেড়েছে ভারতের। ভারতের এখন যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার, সেটা হলো চীন-ভারত সম্পর্ককে মেরামত করা এবং আগের ভুলভ্রান্তিগুলো থেকে বেরিয়ে আসা। 

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক ভার্চুয়াল কনফারেন্সে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ভারত আর চীন একটা ‘নজিরবিহীন’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। 

তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, ভারতে যদিও চীন-বিরোধী মনোভাব অনেক বেশি রয়েছে, তবে ভারতের নীতিনির্ধারকরা এটা উপলব্ধি করছেন যে, দুই দেশের সম্পর্ক উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গেলেও এটাকে ভেঙ্গে যেতে দেয়া যাবে না। ভারত যদি চীনের সাথে সঙ্ঘাতে লিপ্ত হতে চায় এবং চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে, ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সে ক্ষেত্রে বিপর্যয়ে তলিয়ে যেতে পারে।